রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায় ও পুলিশ এসপি © সংগৃহীত
ময়নাতদন্ত হবে অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মরদেহের। আজ সোমবার তমলুক মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে। এজন্য সকালেই হাসপাতালে পৌঁছেছেন পূর্ব মেদিনীপুরের পুলিশ সুপার অংশুমান সাহা।
গণমাধ্যমের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, রাহুলের পরিবারের তরফে এখনও কোনও অভিযোগ তাঁদের কাছে জমা পড়েনি। তবে পুলিশের তরফে অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে তদন্ত করা হচ্ছে। ওডিশা পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় রেখেই আপাতত এগোচ্ছে তদন্ত প্রক্রিয়া।
তিনি জানান, শুটিংয়ের একটি ফুটেজ পুলিশের হাতে এসেছে। ‘আমরা একটা ফুটেজ পেয়েছি। পরবর্তী কী পদক্ষেপ, আমরা জানিয়ে দেবে। তদন্ত নিয়ে এখনও বলার মতো পরিস্থিতি হয়নি। শেষ যখন তাঁকে (রাহুল) দেখা গিয়েছে জলে শেষ অবস্থায়, সেই পর্যন্ত ফুটেজ আমরা পেয়েছি।’
তিনি আরও জানান, অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা দায়ের হয়েছে দিঘা থানায়। ময়নাতদন্তের রিপোর্টের উপরে ভিত্তি করে পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে। ওডিশা পুলিশের সঙ্গেও কথা হয়েছে। যাঁরা প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন, তাঁদের বয়ান পুলিশ রেকর্ড করছে। বাকি যা সহযোগিতা লাগবে, ওডিশা পুলিশ তা করবে বলে আশ্বাস দিয়েছে।
পুলিশের ভাষ্য, ফুটেজের মধ্যে লাইফ সেভিংয়ের কোনও বন্দোবস্ত দেখা যায়নি। আরও তদন্ত করলে বিষয়টি জানা যাবে। সর্বশেষ সাংবাদিকরা জানতে চান, রাহুলকে যখন উদ্ধার করা হয়, তখনও কি তিনি বেঁচে ছিলেন? এসপির বক্তব্য, ‘আমরা এই মুহূর্তে তা নিশ্চিত বলতে পারছি না।’
জানা যায়, সকাল থেকে শুটিংয়ে ব্যস্ত ছিলেন রাহুল এবং তাঁর সহকর্মীরা। বিকেলের দিকে শুটিং শেষ হয়। শুটিং ইউনিটের একটি সূত্রে খবর, তার পর একাই পানিতে নামেন রাহুল। সংশ্লিষ্টরা জানান, পানিতে নামার পর রাহুলের পা আটকে গিয়েছিল বলে ধারনা করা হচ্ছে। তখনই ঢেউ এসে আছড়ে পড়ে। রাহুল সেই ঢেউ সামলাতে না পেরে ডুবে যেতে থাকেন। বিপদ বুঝতে পেরে শ্বেতা ‘রাহুলদা ডুবে যাচ্ছে’ বলে চিৎকার করে সকলকে একজোট করার চেষ্টা করেন।
এদিকের এমন দুঃসময়ে একা থাকতে দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন রাহুলের সহধর্মিণী অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা সরকার। প্রিয়াঙ্কার তাঁর সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, ‘এই মুহূর্তটা তাঁদের জন্য গভীর শোক ও হতাশার।’ এমন পরিস্থিতিতে তিনি সকলের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন, যেন তাঁদের ব্যক্তিগত পরিসর ও গোপনীয়তাকে সম্মান করা হয়।
প্রিয়াঙ্কা আরও লেখেন. 'এই কঠিন সময়ে শুধু একজন স্বামীকে হারানোর যন্ত্রণা নয়, একটি সন্তানের পিতৃহারা হওয়ার বেদনা, এক মায়ের অসহায়তা এবং গোটা পরিবারের শোকের কথাও ভাবা উচিত।'
তিনি আবেদন জানিয়েছেন, যেন কেউ তাঁদের ব্যক্তিগত জীবনে হস্তক্ষেপ না করেন এবং এই শোকের সময়ে তাঁদের শান্তিতে থাকতে দেওয়া হয়।