বশেমুরবিপ্রবিতে উপাচার্যের একমাস শেষ হয়নি আটমাসেও

জাবি
বন্ধ ক্যাফেটেরিয়া   © ফাইল ছবি

‘আগামী একমাসের মধ্যেই আমরা ক্যাফেটেরিয়া চালু করবো’ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. একিউএম মাহবুব ২০২১ এর অক্টোবরে শিক্ষার্থীদের এমন আশ্বাস দেয়ার পরে প্রায় আটমাস পার হলেও এখনো চালু হয়নি বিশ্ববিদ্যালয়টির ক্যাফেটেরিয়া। ফলে ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ৫টি আবাসিক হল থাকলেও হলগুলোতে সবসময় ডাইনিং চালু থাকে না। আবার বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে ক্যাফেটেরিয়াও না থাকায় তাদের নির্ভর করতে হচ্ছে বাইরের বিভিন্ন খাবার হোটেলের ওপর। এসকল হোটেলগুলোতে একদিকে যেমন খাবারের উচ্চমূল্য গ্রহণ করা হয় তেমনি খাবারের মান নিয়েও থাকে সংশয়।

সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী জহুরুল ইসলাম সৈকত বলেন, ‘আমাদের সাধারণত ক্লাস এবং ল্যাবের জন্য দীর্ঘ সময় ক্যাম্পাসে অবস্থান করতে হয়। কিন্তু আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো ক্যাফেটেরিয়া না থাকায় এই সময়ে আমাদের না খেয়ে থাকতে হয় অথবা ক্যাম্পাসের বাইরের হোটেলগুলো থেকে উচ্চমূল্যে খাবার কিনতে হয়। এছাড়া, হোটেলগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবন থেকে অনেকটা দূরে হওয়ায় আমাদের সময়েরও অপচয় হয়। এসকল কারণে আমরা চাই দ্রুত সময়ের মধ্যে ক্যাফেটেরিয়া চালু করা হোক।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের উজ্জ্বল মন্ডল কৃষ্ণময় বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়া, ক্যান্টিন বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের বাধ্য হয়ে ক্যাম্পাসের বাইরে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার খেতে হচ্ছে। এটা একটা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে মোটেও কাম্য নয়। আমরা চাই দ্রুতসময়ের মধ্যে ক্যাফেটেরিয়া চালু হোক।‘

এদিকে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই তলা বিশিষ্ট ক্যাফেটেরিয়া ভবনটির নিচতলা আসবাবপত্রে পরিপূর্ণ এবং টিএসসি না থাকায় দ্বিতীয় তলা ব্যবহৃত হচ্ছে বিভিন্ন সংগঠনের অফিসরুম হিসেবে।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে বশেমুরবিপ্রবির উপাচার্য ড. একিউএম মাহবুব বলেন, ‘আমি উদ্যোগ নিয়েছিলাম কিন্তু যাদের দায়িত্ব দেয়া হয়েছিলো তারা কাজটি করতে পারেনি, এখন আবার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।’

উপাচার্য আরও বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের সমস্যা আমরাও বুঝি। তাছাড়া আমাদের এখানে এমন শিক্ষার্থীও রয়েছে যাদের আর্থিক অবস্থা ভালো নয়। আমরা ক্যাফেটেরিয়ায় এমন একটা সিস্টেম চালু করতে চাই যাতে সকল শিক্ষার্থীই সাধ্য অনুযায়ী মানসম্পন্ন খাবার কিনতে পারেন।’

প্রসঙ্গত, বশেমুরবিপ্রবি উন্নয়ন প্রকল্পের অধীনে ২০১৪ সালে কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়া ভবন নির্মাণ করা হয়। এরপর কিছুদিন ক্যাফেটেরিয়ার কার্যক্রম চালু থাকলেও পরবর্তীতে এটিকে দীর্ঘদিন ছাত্রী হল হিসেবে ব্যবহার করা হয়।


x

সর্বশেষ সংবাদ