শাবিপ্রবির প্রধান ফটক © ফাইল ফটো
আজ রবিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) পহেলা ফাল্গুন ও ভালোবাসা দিবস। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি) দিবস। ৩০ বছর পেরিয়ে ৩১ এ পা দিয়েছে বাংলাদেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠ এই বিশ্ববিদ্যালয়টি। বিগত বছরগুলোতে ইংরেজি দিনপঞ্জি অনুযায়ী ১৩ ফেব্রুয়ারি তারিখে ধারাবাহিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয় দিবস পালন করা হলেও গত বছর থেকে বাংলা দিনপঞ্জির সাথে মিল রেখে পহেলা ফাল্গুন (১৪ ফেব্রুয়ারি) দিনটিকে বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উদযাপন করা হচ্ছে।
সিলেট নগরী থেকে ৫ কিলোমিটার দূরবর্তী এলাকা আখালিয়ায় ১৯৯১ সালের ১লা ফাল্গুন (১৩ ফেব্রুয়ারি) মাত্র ৩টি বিভাগ, ১৩ জন শিক্ষক ও ২০৫ জন শিক্ষার্থী নিয়ে ৩২০ একর ভূমিতে যাত্রা শুরু করেছিল দেশের অন্যতম এ বিশ্ববিদ্যালয়টি। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭টি অনুষদের অধীনে ২৮টি বিভাগ ও ২টি ইন্সটিটিউট রয়েছে। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত ১১টি কলেজ রয়েছে।
প্রতিষ্ঠার পর থেকেই একের পর এক নতুন পদ্ধতির উদ্ভাবন করে চমক দেখিয়ে যাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়টি। বর্তমানে বিদ্যালয়ে ভর্তির আবেদন ফরম পূরণের অনলাইন প্রক্রিয়ার প্রচলন ঘটেছে মূলত ২০০৯ সালে শাবিপ্রবির মোবাইল ফোনে ভর্তি প্রক্রিয়া চালু করার পর। এ প্রক্রিয়ায় এসএমএস এর মাধ্যমে ফরম সংগ্রহ, জমাসহ বিভিন্ন ভর্তি প্রক্রিয়ার কাজ সর্বপ্রথম শুরু করে তারা। দেশের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে ১৯৯৯ সালে সর্বপ্রথম ফাইবার অপটিক নেটওয়ার্ক স্থাপন করা হয়। বাংলা ভাষায় প্রথম সার্চ ইঞ্জিন ‘পিপীলিকা’ তৈরি করে এ বিশ্ববিদ্যালয় যার মাধ্যমে সংবাদ পাঠ, লাইব্রেরি, কেনাকাটা, জব সার্চ, বাংলা বানান সংশোধনী ও শব্দকল্প ইত্যাদি সেবা পাওয়া যায়। পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন ‘একুশে বাংলা কীবোর্ড’ আবিষ্কার করেছে শাবিপ্রবি যেটিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সংযোজনের পাশাপাশি দ্রুত টাইপিং ও স্পর্শ করে লেখার ব্যবস্থা রয়েছে। ফলে টাইপ না জানলেও যে কেউ সহজেই বাংলা টাইপিং শিখতে পারবেন এর মাধ্যমে। কীবোর্ডটি যত বুদ্ধিমান হবে তত কম লিখতে হবে, ততই কমবে পরিশ্রম।
এছাড়া দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের জন্য বাংলা ভাষার প্রথম সফটওয়্যার 'মঙ্গল দ্বীপ' উদ্ভাবন করা হয়েছে। ২০১৯ সালে ক্যান্সার শনাক্তকরণ কিট উদ্ভাবন করে শাবিপ্রবির একদল গবেষক। রক্তের নমুনা পরীক্ষা করার মাধ্যমে খুব অল্প খরচে (৫০০ টাকারও কম) ৫ থেকে ১০ মিনিটের ভিতরে শরীরে ক্যান্সারের উপস্থিতি জানা যাবে এ কিটের মাধ্যমে। একই বছর পাই দিবসে বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীন সড়কে পাইয়ের মান লিখে দীর্ঘতম রোড পেইন্টিং করে দেশ ও দেশের বাইরে অনন্য নজির সৃষ্টি করেছে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৫’শ শিক্ষার্থী। দেশে প্রথম বাংলা ভাষাভাষী রোবট ‘রিবো’ তৈরি করেছে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল তরুণ গবেষক। ‘রিবো’ শুধুমাত্র বাংলায় কথা বলতে পারতো। পরবর্তীতে আবিষ্কার করা হয় ‘রোবট-লি’। এতে কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা সংযুক্তির ফলে বাংলায় কথা বলার পাশাপাশি হাঁটাচলা করতে পারে এবং হাত ও পা নাড়ানোসহ নানা অঙ্গভঙ্গিও করতে পারে।
শ্রমিক ছাড়া স্বয়ংক্রিয়ভাবে অতি সহজে এবং কোনো দুর্ভোগ ছাড়া ড্রেনের নর্দমার ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কারের জন্য অটোমেটিক ড্রেন ক্লিনিং সিস্টেমের চালু করে শাবিপ্রবি। সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে প্রথম ২০১৯-২০ সেশনে প্রথম বর্ষে শিক্ষার্থী ভর্তির পূর্বে ডোপ টেস্ট করানোর প্রচলন করে বিশ্ববিদ্যালয়টি। এছাড়াও বছরভিত্তিক পরীক্ষা পদ্ধতি থেকে সেমিস্টার পদ্ধতিতে পরীক্ষা ব্যবস্থা, সেকেন্ড মেজর কোর্স সিস্টেম চালু, ক্যাম্পাস সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা, নিজস্ব ডোমেইনে ই-মেইল চালু, দেশীয় প্রযুক্তির ট্র্যাকিং ডিভাইস তৈরি, প্রথমবারের মতো দেশে চালকবিহীন বিমান ড্রোন আবিষ্কার,যানবাহন ট্র্যাকিং ডিভাইস উদ্ভাবন এবং অনলাইনে টান্সক্রিপ্ট উত্তোলনের সুবিধা চালুর ক্ষেত্রেও শাবিপ্রবি দেশের অন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পথ প্রদর্শক। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে দেশে প্রথমবারের মতো ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং, ইন্ডাস্ট্রিয়াল এন্ড প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং এবং পেট্রোলিয়াম এন্ড মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ চালু করেছে বিশ্ববিদ্যালয়টি।
সফলতায় শাবিপ্রবি বিভিন্ন সময় দেশের সেরা বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়েছে এবং গবেষণা ক্ষেত্রে অর্জন করেছে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক নানা পুরষ্কার। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য ও সফলতা দিয়ে যেন নবীনদেরকে প্রতিনিয়ত ডাকে তার নিজের দিকে। প্রতি বছর এইচএসসি পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করা লাখো লাখো শিক্ষার্থী ১ম বা ২য় চেষ্টায় শাবিপ্রবির অংশ হওয়ার স্বপ্ন দেখে। বিশ্বব্যাপী গুগল-মাইক্রোসফট, নাসাসহ বিভিন্ন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে শতাধিক এবং শিক্ষকতা ও গবেষণা পেশায় আরো অর্ধশতাধিক শাবিপ্রবি শিক্ষার্থী কর্মরত আছেন। তাদের মধ্যে সিএসই বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী মারুফ মনিরুজ্জামান ও শাহাদাত হোসাইন মাইক্রোসফটে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে, গুগলে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ করছেন সৈয়দ শাহরিয়ার মঞ্জুর, ফরহাদ আহমেদ কর্মরত আছেন। গত বছর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নেটওয়ার্ক অপারেশন ডিরেক্টর হিসেবে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ৩য় ব্যাচের সাবেক শিক্ষার্থী হায়াত শহীদ শিপন এবং মহাকাশ গবেষণা সংস্থায় (নাসা) রিসার্চ সায়েন্টিস্ট হিসেবে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ২০০৯-১০ সেশনের সাবেক শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল ফাহাদ। তাছাড়া গবেষণায় ফুল ব্রাইটসহ নানা স্কলারশিপে বিদেশে পিএইচডি ডিগ্রী অর্জনে পাড়ি জমান বহু শিক্ষক।
২০১৯ সালে বিশ্বের ৭৯টি দেশ থেকে বাছাই করা ২ হাজার ৭২৯টি টিমের সাথে প্রতিযোগিতায় ‘নাসা স্পেস অ্যাপস চ্যালেঞ্জ-২০১৮’-এ ‘বেস্ট ইউজ অব ডেটা’ ক্যাটাগরিতে প্রথম বাংলাদেশি টিম হিসেবে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ‘টিম অলিক’। গত বছর ভারতের পন্ডিত দীন দয়াল পেট্রোলিয়াম বিশ্ববিদ্যালয়ের সোসাইটি অব পেট্রোলিয়াম ইঞ্জিনিয়ার্স আয়োজিত আন্তর্জাতিক টেকনিক্যাল পেপার প্রদর্শনী প্রতিযোগিতায় দুইটি পৃথক প্যানেলে আলাদাভাবে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থীরা। এছাড়াও ‘ইউনিভার্সিটি ফিজিক্স কম্পিটিশন’-এ বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় চার শতাধিক টিমের সাথে প্রতিযোগিতায় রৌপ্য ও ব্রোঞ্জ পদক লাভ করে শাবিপ্রবি। একই বছর দেশের প্রযুক্তিখাতে অবদানের জন্য দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়কে পিছনে ফেলে ডিজিটাল ক্যাম্পাস অ্যাওয়ার্ড পেয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টি।
মহামারী করোনাকালে নিজস্ব অর্থায়নে বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের ল্যাবে করোনা সনাক্তকরণের জন্য পিসিআর মেশিন স্থাপন করে সিলেটের মানুষের দুর্ভোগ কমিয়েছে শাবিপ্রবি। শুরুর দিকে প্রবাসীদের করোনা পরীক্ষার অনুমতি না থাকলেও ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পিসিআর মেশিন নষ্ট হয়ে যাওয়ায় অনেক চাপ থাকা সত্ত্বেও তা করেছে শাবিপ্রবির করোনা টিম। বছরের শুরুতে করোনা ভাইরাসের জিনোম রহস্য উন্মোচন করে সম্পূর্ণ ৩০ ধরনের পরিবর্তিত করোনা ভাইরাস আবিষ্কার করেছে করোনা টিমের গবেষকরা।
প্রাকৃতিক সৌন্দের্য্যের দিক থেকেও অনন্ত যৌবনা শাবিপ্রবি। সিলেট নগরী থেকে সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কের ৫ কিলোমিটার দূরবর্তী এলাকা আখালিয়ায় অবস্থিত বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রধান ফটক। প্রধান ফটক দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় আঙ্গিনায় প্রবেশ করতেই এক কিলো যা কিলোরোড নামে পরিচিত। দুই লেনের এই কিলোরোডের সৌন্দর্য্য কেবল পায়ে হেঁটে বা রিক্সায় চড়ে উপভোগ করা যায়। দুটি লেনের মাঝখানে রয়েছে সাড়িবদ্ধ মাঝারি গাছ। এছাড়াও রাস্তার দুই পাশে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাকালে রোপনকৃত বিশাল বড় বড় গাছ রয়েছে। দু’পাশেই রয়েছে ল্যাক। কিলোরোডের মাঝখানে খানিকক্ষণ পর পরই নতুনভাবে স্থাপন করা হয়েছে দৃষ্টিনন্দন যাত্রী ছাউনি। কিলো রোড ধরে কিছুক্ষণ হাঁটার পরেই বাম পাশে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, আরেকটু সামনে এগোলেই ডানদিকে রয়েছে গেস্ট হাউজ ও উপাচার্যের বাসভবন এবং বাম দিকে সিএসই ও সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগস্থ আইআইসিটি বিল্ডিং যার সামনে রয়েছে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ফুলের বাগান, ডান পাশে সারি সারি নারকেল গাছের ফাঁকে ফাঁকে বসার জন্য সিমেন্টের ব্যাঞ্চ।
ব্যাঞ্চে বসলেই চোখের সামনে লেক। কিলোরোড ধরে আরো একটু সামনে এগোলেই চোখে পড়বে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যোরাল এবং দৃষ্টিনন্দন গোল চত্ত্বর। তার বামপাশে রয়েছে রেজিস্ট্রার ভবন ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ ভবন। বামদিক ধরে সামনে এগোতেই একটি রাস্তা বেড়ে চলেছে শিক্ষক কোয়ার্টার ও ছাত্রী হলের দিকে। গোল চত্ত্বর পেরিয়ে সামনেই ৪তলা বিশিষ্ট গ্রন্থাগার ভবন। তার ডান পাশে হ্যান্ডবল খেলার ছোট মাঠ এবং মুক্ত মঞ্চ। সামনে রাস্তার দু’পাশে একাডেমিক ভবন ‘এ’ এবং ‘ডি’। তারও সামনে অবস্থিত ‘মুক্তিযুদ্ধের স্মরণে নির্মিত প্রথম স্থায়ী ভাস্কর্য ‘চেতনা ৭১’ যা সিলেটের ইতিহাসেও প্রথম। সারাদেশ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে আসা দর্শনার্থীদের কাছে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে এটি। আমাদের মুক্তিযোদ্ধারা যে আদর্শ ও আকাঙ্ক্ষা নিয়ে আমাদের প্রিয় বাংলাদেশকে স্বাধীন করেছেন, তারই পার্থিব রূপ চেতনা’৭১।
ভাস্কর্যে স্থান করে নেওয়া ছেলেটির হাতে উড়ন্ত পতাকা আর মেয়েটির হাতের সংবিধান যেন এ দেশের পূর্ণ প্রতিচ্ছবি। দূর থেকে দেখলে মনে হয় খোলা আকাশের নিচে ভাস্কর্যটি নির্ভীক প্রহরীর মতো স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষা করার জন্য মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে। ঠিক তখনই মন নেচে উঠবে। মনে মনে যেকেউই আওড়াতে চাইবেন এটাই তো চেয়েছিলাম। চেতনা’৭১ এর পাশ ধরে ডান দিকে একটি রাস্তা চলে গেছে একাডেমিক ভবন ‘সি’ এবং ‘ই’ এর দিকে। তবে চেতনা’৭১ থেকে সোজা সামনে আগালে হাতের ডানপাশে একাডেমিক ভবন ‘বি’, আরেকটু সামনে বিশ্ববিদ্যালয়ের সোনালী ব্যাংক,তার সামনে বাস্কেটবল গ্রাউন্ড। তার ডান পাশে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টার, তারও ডানে ফিজিক্যাল সেন্টার (জিম সেন্টার),তার ডানেই সুবিস্তৃত কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ।
বাস্কেটবল গ্রাউন্ডের পথ ধরে সামনে এগোলেই চোখে পড়বে সবুজ টিলা, তার মাঝে সারি সারি বৃক্ষের সমারোহ, এতে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে দেশের সর্ব্বোচ উঁচুতে অবস্থিত দৃষ্টিনন্দন শহীদ মিনার। প্রায় ৫৮ ফুট উঁচু টিলার উপর ৬ হাজার ৮শ’ ৮৬ বর্গফুট জায়গা জুড়ে দাড়িয়ে আছে শহীদ মিনারটি যার নান্দনিক সৌন্দর্য যে কাউকেই মুগ্ধ করে তোলে। তার অন্যতম আকর্ষণ হলো ৩টি ফ্লাইটে বিভক্ত ৯৯টি সিঁড়ি। সিঁড়ি পেরিয়ে উপরে উঠতেই চোখে পড়বে সৌন্দর্য বর্ধিত বৃত্তাকার দেয়াল। এর পরেই মূল বেদীতে উঠার জন্য আরও সাত ধাপের ছোট সিঁড়ি রয়েছে। তার বাম পাশের বৃক্ষের প্রাচুর্যময় সবুজের সমারোহে বিস্তৃত জায়গাটি নিউজিল্যান্ড নামে আখ্যায়িত!
শহীদ মিনার পিছনে ফেলে মূল রাস্তা ধরে সামনে গিয়ে বামের রাস্তা ধরে আগালেই সামনে কেন্দ্রীয় অডিটরিয়াম। তবে রাস্তার মোড়ে রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাব ভবন। আর ডানদিকে এগোলেই রয়েছে আবাসিক দুটি ছাত্র হল। দুই হলের মাঝ দিয়ে চলে আরেকটি রাস্তা। এ রাস্তা ধরে এগোলেই সামনে চোখে পড়বে একটি টিলা, যার নাম দেয়া হয়েছে অস্ট্রেলিয়া! সেই অস্ট্রেলিয়ার পাশেই রয়েছে আরেকটি আবাসিক ছাত্রহল, সৈয়দ মুজতবা আলী হল।
বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ বলেন, বিগত ৩০ বছরে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ সবকিছুতে চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। তবে গত ২-৩ বছরে তা কাটিয়ে উঠে উন্নয়নের গতি বেড়েছে কয়েকগুণ। দেশের মানুষের যে স্বপ্ন নিয়ে একটি বিশ্ববিদ্যালয় গঠিত হয় তা আমরা পূরণ করে যাচ্ছি।
তিনি বলেন, বর্তমানে শিক্ষা-গবেষণা, সুশাসন ও মানবিকতায় আমরা অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের রোল মডেল। সামনের দিনগুলোতেও এ ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে। বর্তমানে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের আলো ছড়িয়ে পড়ছে দেশ ও দেশের বাইরে। আশা করি সবার আন্তরিক প্রচেষ্টা ও সহযোগিতায় একদিন এ বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্বের অনন্য উচ্চতায় অবস্থান করবে।