হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় © টিডিসি ফটো
প্রতিষ্ঠার ২১ বছর অতিবাহিত হলেও এখনো কোন উপ-উপাচার্য (প্রো-ভিসি) পায়নি উত্তরবঙ্গের স্বনামধন্য বিদ্যাপীঠ দিনাজপুর হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। এর আগে ট্রেজারার পদটিও দীর্ঘদিন ধরে শূন্য ছিলো।
বিভিন্ন সময়ে প্রো-ভিসি ও ট্রেজারার নিয়োগের বিষয়টি জোরালোভাবে উত্থাপিত হলে গত ৩০ জুলাই ২০১৮ মহামান্য রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে আগামী ৪ বছরের জন্য শুধুমাত্র ট্রেজারার পদে নিয়োগ দেয়া হয় এবং প্রথম ট্রেজারার হিসেবে নিয়োগ পান এ-বিশ্ববিদ্যালয়েরই উদ্যানতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. বিধান চন্দ্র হালদার।
জানা গেছে, বছর খানেক আগে প্রো-ভিসি পদে নিয়োগের জন্য সংশ্লিষ্ট শাখায় তালিকা পাঠানো হয়েছে। তবে তালিকা পাঠানো হলেও তা বাস্তবায়নে তেমন কোনো আগ্রহ নেই বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ড. মু আবুল কাসেমের।
হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ২০০১ সালের ৮ এপ্রিল বাংলাদেশ গেজেট কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রকাশিত বাংলাদেশ গেজেট এর ২০০১ সনের ৩৫ নং আইন দ্বারা পরিচালিত। আইনের ১২ নং ধারাতে বলা আছে, ‘(১) চ্যান্সেলর, প্রয়োজনবোধে তদ্কর্তৃক নির্ধারিত শর্তে, চার বৎসর মেয়াদের জন্য একজন শিক্ষাবিদকে প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর পদে নিয়োগ করিবেন।
‘২ নং অনুচ্ছেদে রয়েছে, চ্যান্সেলরের সন্তোষানুযায়ী প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর স্বপদে অধিষ্ঠিত থাকিবেন। ‘৩ নং অনুচ্ছেদে আছে, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর সংবিধি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধান দ্বারা নির্ধারিত এবং ভাইস-চ্যান্সেলর কর্তৃক প্রদত্ত ক্ষমতা প্রয়োগ এবং দায়িত্ব পালন করিবেন।
আইন থাকলেও প্রতিষ্ঠার ২১ বছরেও সেই আইনের এখন পর্যন্ত বাস্তবায়ন হয়নি। উপাচার্যের অনুপস্থিতিতে উপ-উপাচার্য সে কাজ সম্পাদন করতে পারেন কিন্তু এ বিশ্ববিদ্যালয়ে পদটি ফাঁকা থাকায় তা হচ্ছেনা। ফলে উপ-উপাচার্যের সকল কাজ করতে হচ্ছে উপাচার্যকে। ফলে সংকট দিনে দিনে আরো ঘনীভূত হওয়ার আশংকা করেছেন অনেকেই।
ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মারুফ আহমেদ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রো-ভিসি নিয়োগের দরকার আছে। সেক্ষেত্রে ভিসি মহোদয়ের যেকোন কাজে সিদ্ধান্ত নিতে সহজ হয়। তবে প্রো-ভিসি নিয়োগের ক্ষেত্রে সার্বিক দিক বিবেচনা করে নিয়োগ দেয়া উচিত। তা’না হলে জটিলতা আরো বাড়তে পারে।
পোস্ট গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজ অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. ফাহিমা খানম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম কে গতিশীল করার জন্য প্রোভিসি পদে নিয়োগের প্রয়োজন আছে। আর প্রয়োজন না’হলে তো প্রোভিসি পদটি রাখা হতো না। প্রোভিসি নিয়োগ হলে একাডেমিক ও প্রশাসনিক কাজে গতিশীলতা বাড়বে।
পরিসংখ্যান বিভাগের অধ্যাপক ড মো সাইফুর রহমান বলেন, সরকার এবং ভিসি মহোদয় যদি চায় তাহলে প্রোভিসি নিয়োগ হতে পারে। এক্ষেত্রে ব্যক্তি স্বার্থকে প্রাধান্য দেয়া হলে আরো বেশি জটিলতার সৃষ্টি হবে। প্রয়োজন থাকলে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থে সকলের সাথে আলোচনা করে করা উচিত।
তিনি আরো বলেন, এই উপাচার্যের মেয়াদ শেষ হলে পরবর্তী ভিসি, প্রোভিসি এবং ট্রেজারার পদে যাকেই নিয়োগ দেয়া হোক যেন এ বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই নিয়োগ দেয়া হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ এ পদে নিয়োগ দানের ব্যবস্থা করা জরুরি হয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তা না হলে প্রশাসনিক কাজকর্মে স্থবিরতা বেড়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা শিক্ষক-শিক্ষার্থী-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. বিধান চন্দ্র হালদার বলেন, আমার জানামতে অনেক আগে প্রো-ভিসি নিয়োগের জন্য একটা তালিকা পাঠানো হয়েছিল।তবে এখন কি অবস্থায় আছে জানিনা।
প্রোভিসি নিয়োগের বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মু. আবুল কাসেমকে কয়েকবার ফোন দেয়া হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেন নি।