আবরার হত্যাকান্ড

বুয়েট থেকে চিরতরে বহিষ্কার অমিত সাহাসহ ছাত্রলীগের এক ডজন নেতা

২২ নভেম্বর ২০১৯, ০১:৫৬ AM
অমিত সাহা (বাঁয়ে)। পুলিশের অভিযোগপত্রের আসামিরা (ডানে)

অমিত সাহা (বাঁয়ে)। পুলিশের অভিযোগপত্রের আসামিরা (ডানে) © টিডিসি ফটো

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২৬ শিক্ষার্থীকে আজীবন বহিষ্কার করা হয়েছে। এর মধ্যে হত্যাকাণ্ডের বহুল আলোচিত ছাত্রলীগ নেতা অমিত সাহাসহ মোট ১২ জন ছাত্রলীগের পদধারী নেতা রয়েছে। অবশ্যই ঘটনার পর তাদেরকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়। 

আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার রাতে বুয়েট বোর্ড অব রেসিডেন্স এন্ড ডিসিপ্লিন এ সিদ্ধান্ত নেয়। আজীবন বহিষ্কার করা ২৬ জনের মধ্যে ২৫ জনই পুলিশের অভিযোগপত্র অনুযায়ী অভিযুক্ত। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে আরও ৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি প্রদান করা হয়।

আজীবন বহিষ্কার হওয়া ছাত্রলীগের পদধারী নেতার মধ্যে রয়েছে-বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রাসেল, সহ-সভাপতি মুহতাসিম ফুয়াদ, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক অনিক সরকার, সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান রবিন, উপ-সমাজসেবা সম্পাদক ইফতি মোশররফ সকাল, সাহিত্য সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনির, ক্রীড়া সম্পাদক মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন, উপ-দফতর সম্পাদক মুজতবা রাফিদ ও উপ-আইনবিষয়ক সম্পাদক অমিত সাহা। এছাড়া সদস্য পদে রয়েছে, এহতেশামুল রাব্বী তানিম, মুজাহিদুর রহমান ও মুনতাসির আল জেমি।

এর আগে গত ১৩ নভেম্বর আবরার হত্যার ঘটনায় ২৫ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা দেয় গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তদন্ত-সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা জানান, গ্রেপ্তার করা আসামিদের মধ্যে এজাহারভুক্ত আটজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তাদের জবানবন্দিতে হত্যাকাণ্ডে অপর আসামিদের সম্পৃক্ততাও উঠে এসেছে। এছাড়া হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দুইজন সাক্ষী আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। এর বাইরে তদন্ত কর্মকর্তারা বুয়েটের শিক্ষক, শেরেবাংলা হলের প্রভোস্ট, চিকিৎসক, নিরাপত্তাকর্মীসহ বিভিন্নজনের সাক্ষ্য নিয়েছেন। চার্জশিটে তাদের সাক্ষী হিসেবে রাখা হয়েছে।

চার্জশিটের সঙ্গে আলামত হিসেবে আবরারের রক্তমাখা জামা-কাপড়, মেসেঞ্জারে আসামিদের লিখিত যোগাযোগ, প্রযুক্তিগত অন্যান্য যোগাযোগ, শেরেবাংলা হলের সিসিটিভি ফুটেজসহ ঘটনাস্থল থেকে জব্দ করা আলামতও জমা দেওয়া হয়েছে।

গত ৬ অক্টোবর রাতে শেরেবাংলা হলে নিজের কক্ষ থেকে আবরারকে ডেকে নিয়ে বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা নৃশংসভাবে পিটিয়ে হত্যা করে। পরের দিন তার বাবা বরকতুল্লাহ বাদী হয়ে ১৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

এরপর শিক্ষার্থীরা ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে আন্দোলনে নামলে তাদের দাবির মুখে বেশ কয়েকজনকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করেছিল বুয়েট কর্তৃপক্ষ। ১০ দফার কয়েকটি মেনে নেওয়ার পর গত ১৫ অক্টোবর মাঠের আন্দোলন থেকে সরে আসে বুয়েট শিক্ষার্থীরা; তবে মামলার অভিযোগপত্র ও অন্য দাবিগুলো পূরণ না হওয়া পর্যন্ত ক্লাসে না ফেরার ঘোষণা দেয়।

পাঁচ সপ্তাহের তদন্তে গত ১৩ নভেম্বর পুলিশ ২৫ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দিলেও ক্লাসে ফেরার জন্য বুয়েট কর্তৃপক্ষকে তিনটি শর্ত দেয় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। ওই শর্তের একটি ছিল অভিযোগপত্রভুক্ত আসামিদের স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা। এছাড়া আগের র‌্যাগের ঘটনায় অভিযুক্তদের অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী শাস্তি দেওয়ার দাবিও ছিল তাদের। শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক তৎপরতা নিষিদ্ধ করলেও সে নিয়ম ভাঙলে শাস্তির নীতিমালা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্ডিন্যান্সে যুক্ত করার দাবি রয়েছে শিক্ষার্থীদের।

বাংলাদেশ সিরিজের আগে দুঃসংবাদ পেল অস্ট্রেলিয়া
  • ০৫ আগস্ট ২০২৬
বিশ্ববিদ্যালয় বয়স্ক সাবেক ছাত্রদের রাজনীতিতে পুনর্বাসন কেন্…
  • ০৫ আগস্ট ২০২৬
জুলাইযোদ্ধাকে থাপ্পড় দিতে দিতে বের করে দিলেন বিএনপি নেতা, ভ…
  • ০৫ আগস্ট ২০২৬
গাজীপুরে নানা আয়োজনে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস পালন
  • ০৫ আগস্ট ২০২৬
যে ডকুমেন্টারিতে আবু সাঈদ নেই, সেটা কোন ডকুমেন্টারি না
  • ০৫ আগস্ট ২০২৬
বিশ্বকাপে রূপকথা গড়া কেপ ভার্দের কোচ এবার মরক্কোর ক্লাবে
  • ০৫ আগস্ট ২০২৬