আজ সোমবার সকাল থেকে গায়েব করে রাখা ভিডিও প্রকাশ করে ছাড়া পেলেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শের-ই বাংলা হলের অবরুদ্ধ প্রভোস্ট ও পুলিশ কর্মকর্তারা। রাত সাড়ে নয়টার দিকে হলের প্রভোস্ট অফিস থেকে একের পর এক বের হতে থাকেন অবরুদ্ধরা।
এর আগে আবরার ফাহাদ হত্যায় জড়িতদের চিহ্নিত করতে হলের সিসি ক্যামেরায় ধারণকৃত ভিডিও ফুটেজ প্রকাশের দাবিতে আজ সোমবার সকাল থেকে বিক্ষোভ করে আসছিল শিক্ষার্থীরা। সারাদিন প্রভোস্ট অফিসে তাদের অবরুদ্ধ করে রাখে শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীদের দাবি, ভিডিও ফুটেজ গায়েব করে ছাত্রলীগ নেতাদের বাঁচাতে চান হল প্রশাসন। তাই ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ না করা পর্যন্ত কাউকে বের হতে দিবেন না।
অবশেষে শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নিয়ে রাত ৭টার দিকে সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ করে হল প্রশাসন।
এদিকে সন্ধ্যা অবরুদ্ধদের উদ্ধার করতে আসা পুলিশকে ধাওয়া দেয় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। আজ রাত ৮টার দিকে শতাধিক পুলিশ সদস্যকে ধাওয়া দিয়ে হল গেটের বাহির করে দেয় শিক্ষার্থী।
এসময় প্রভোস্টের অফিসের সামনে অবস্থান করা শিক্ষার্থীদের ধাক্কাসহ লাটিচার্জ করার ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।
সিসিটিভি ওই ফুটেজে দেখা মেলে আবরারকে হত্যার ভয়াবহ চিত্র। এতে দেখা যায়, কয়েকজন আবরারকে মারার পর নিয়ে যাচ্ছে। আজ দিনভর যাদের গ্রেফতার করা হয়েছে তাদের সাতজনেরই উপস্থিতি মিলেছে ওই সিসিটিভি ফুটেজে।
সোমবার (৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার কৃষ্ণ পদ রায় জানিয়েছেন, ‘বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যার ঘটনায় শনাক্ত ৯ জনকে আটক করেছি। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। আমরা সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পেয়েছি। সেটা পর্যালোচনা করছি।’
আটকরা হলো- বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদি হাসান রাসেল, সহসভাপতি মুস্তাকিম ফুয়াদ, সহসম্পাদক আশিকুল ইসলাম বিটু, উপদফতর সম্পাদক মুজতবা রাফিদ, উপসমাজ কল্যাণ সম্পাদক ইফতি মোশাররফ সকাল, উপআইন সম্পাদক অমিত সাহা, ক্রীড়া সম্পাদক সেফায়েতুল ইসলাম জিওন, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক অনিক সরকার, গ্রন্থ ও গবেষণা সম্পাদক ইশতিয়াক মুন্সি।