চুয়েট উপাচার্যের স্বাস্থ্য পরীক্ষা © টিডিসি ফটো
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) প্রায় ২৭ ঘণ্টা ধরে অবরুদ্ধ রয়েছেন নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম। গতকাল সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুর ১২টা থেকে তিনি উপাচার্য ভবনের ভেতরে অবস্থান করছেন। এদিকে আজ মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টা থেকে চুয়েটের চিকিৎসাকেন্দ্রের চিকিৎসকদের ওই তালাবদ্ধ ভবনে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হয়। পাশাপাশি কয়েকটি গণমাধ্যমের প্রতিনিধিও ভবনের ভেতরে প্রবেশ করেন।
ভবনের ভেতরে সরেজমিনে দেখা যায়, সেখানে কয়েকজন অবস্থান করছেন। তবে উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম নিজেকে একটি আলাদা কক্ষে রেখেছেন। ওই কক্ষে তাঁর সঙ্গে আরও কয়েকজন রয়েছেন। পাশের আরেকটি কক্ষেও কয়েকজন অবস্থান করছিলেন।
গণমাধ্যমকর্মীরা উপাচার্যের সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে চাইলে তিনি প্রথমে রাজি হননি। পরে নিজ কক্ষের দরজার সামনে থেকে তিনি বলেন, ‘আমরা এখানে খুবই অমানবিক অবস্থায় আছি। এ অবস্থায় আমরা প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েছি। তারা কীভাবে সহযোগিতা করবে, সেটা তাদের ব্যাপার।’
দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করেও উপাচার্যের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে না পেরে প্রথমে কর্তব্যরত চিকিৎসক ফিরে যান। পরে দুপুর দেড়টার দিকে পুনরায় চিকিৎসক দেখানোর আগ্রহ প্রকাশ করলে চুয়েটের চিকিৎসাকেন্দ্র থেকে চিকিৎসক ডা. মো. সাহাবউদ্দিনকে সেখানে নেওয়া হয়।
চিকিৎসক ডা. মো. সাহাবউদ্দিন বলেন, ‘আমি তাঁর নাড়ির স্পন্দন ও রক্তচাপ মেপে দেখেছি। বর্তমানে তা স্বাভাবিক রয়েছে। তিনি আমার কাছে বুকে ব্যথা অনুভবের কথা বলেননি। হাসপাতালে যাওয়ারও ইচ্ছা প্রকাশ করেননি।’
পরে দুপুর ২টার দিকে রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডা. টিবলু কান্তি দে সেখানে গিয়ে উপাচার্যের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন। এ সময় তিনি উপাচার্যের নাড়ির স্পন্দন ও রক্তচাপ পরিমাপ করেন।
বুকে ব্যথা অনুভব করছেন কি না, জানতে চাইলে উপাচার্য চিকিৎসককে জানান, সকাল ১০টা থেকে তাঁর বুকে ব্যথা ছিল। তবে ধীরে ধীরে তা কমে এসেছে। এ সময় তিনি নিয়মিত রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের ওষুধ সেবন করেন না বলেও জানান। তবে কোন ওষুধ সেবন করেন, তা জানতে চাইলে ওষুধটির নাম স্মরণ করতে পারেননি।
পরীক্ষার সময় চিকিৎসক ডা. টিবলু কান্তি দে প্রথমে উপাচার্যের রক্তচাপ ১৪০/১০০ মিলিমিটার পারদচাপ (মিমি পারদ) পান বলে জানা যায়। পরে বাইরে এসে তিনি রক্তচাপ ১৫০/১০০ মিমি পারদ বলে জানান। একই সঙ্গে উপাচার্যের বুকে ব্যথা অনুভবের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
দুই দফায় রক্তচাপের পরিমাপ ও উপাচার্যের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে দেওয়া তথ্যে ভিন্নতা দেখা দেওয়ায় শিক্ষার্থীরা পুনরায় স্বাস্থ্য পরীক্ষার ব্যবস্থা করেন। এ জন্য চুয়েটের চিকিৎসাকেন্দ্রের চিকিৎসক ডা. মো. সাহাবউদ্দিন এবং রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডা. টিবলু কান্তি দেকে আবারও উপাচার্যের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে পাঠানো হয়।
পুনরায় পরীক্ষার সময় দুই চিকিৎসকের পরিমাপেও রক্তচাপের কিছুটা পার্থক্য পাওয়া যায়। রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক উপাচার্যের ডান হাতে রক্তচাপ ১৪৫/১০০ মিমি পারদ পান। অন্যদিকে, চুয়েটের চিকিৎসাকেন্দ্রের চিকিৎসক ডা. সাহাবউদ্দিন একই হাতে রক্তচাপ ১৩৯/১০০ মিমি পারদ পরিমাপ করেন।
বাম হাতে রক্তচাপ পরিমাপের ক্ষেত্রে রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ১৩৫/১০০ মিমি পারদ পান। বিপরীতে, চুয়েটের চিকিৎসাকেন্দ্রের চিকিৎসক ডা. সাহাবউদ্দিনের পরিমাপে তা ছিল ১২০/৮০ মিমি পারদ।