অবরুদ্ধ দুই শিক্ষার্থীকে মেডিকেলে নেওয়া হচ্ছে © সংগৃহীত
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) প্রশাসনিক ভবন-২-এ ২২ ঘণ্টা ধরে অবরুদ্ধ রয়েছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমসহ বেশ কয়েকজন। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎবিহীন ভবনে আটকে থাকায় অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই সাবেক শিক্ষার্থী। তাঁদের মধ্যে প্রকৌশলী শাহরিয়ারের উচ্চ রক্তচাপ বেড়ে যাওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রামের এভারকেয়ার হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। উপাচার্য নিয়োগের প্রতিবাদে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, নবনিযুক্ত উপাচার্যের পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত ভবনের তালা খোলা হবে না।
সোমবার (১৩ অক্টোবর) দিবাগত রাত ১টার দিকে চুয়েট চিকিৎসাকেন্দ্রের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ ও টেকনোলজিস্ট বাসু দেব প্রশাসনিক ভবন-২-এ প্রবেশ করে অসুস্থ ব্যক্তিদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন। উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম মুঠোফোনে চিকিৎসককে ডেকে পাঠানোর পর আলোচনার মাধ্যমে তাঁদের ভবনে প্রবেশের অনুমতি দেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।
স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে চিকিৎসক জানান, প্রকৌশলী শাহরিয়ারের রক্তচাপের সিস্টোলিক মাত্রা ১৭০ এবং ডায়াস্টোলিক মাত্রা ১০০ মিলিমিটার পারদ পাওয়া গেছে। পরে তাঁকে চুয়েট চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য এভারকেয়ার হাসপাতালে পাঠানো হয়। অন্যদিকে, প্রকৌশলী টিটু মো. সোহানের রক্তচাপের সিস্টোলিক মাত্রা ১৪০ এবং ডায়াস্টোলিক মাত্রা ৯০ মিলিমিটার পারদ পাওয়া যায়। চিকিৎসকের পরামর্শে ভবনের ভেতরে অবস্থানরত অন্যদেরও স্যালাইন দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম বলেন, ‘আমাদের দুজন প্রাক্তন শিক্ষার্থী উচ্চ রক্তচাপের জটিলতায় ভুগছেন। তাই আমি অ্যাম্বুলেন্স ও চিকিৎসক ডেকেছি। এখানে যেহেতু সবাই দীর্ঘ সময় ধরে অবরুদ্ধ রয়েছেন, তাই সবাই অসুস্থ ও ক্লান্ত অনুভব করছেন।’
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল সোমবার সকাল ৯টার দিকে একটি হাইয়েস মাইক্রোবাসে করে ক্যাম্পাসে পৌঁছান উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম। ফটকে নিজেকে ‘শিক্ষক’ পরিচয় দিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন তিনি। পরে ছাত্রদল নেতাদের সঙ্গে নিয়ে উপাচার্য ভবনের ফটকের তালা ভেঙে নিজের দপ্তরে যান এবং নির্ধারিত চেয়ারে বসেন।
এ সময় তাঁর কক্ষে চুয়েট শাখা ছাত্রদলের সভাপতি ওয়াসিফ রাশেদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান আল সাবিত ও সাংগঠনিক সম্পাদক বিপ্লব হোসাইন উপস্থিত ছিলেন।
যদিও ওই সময়ে উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমের বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) একটি সভায় অংশ নিতে ঢাকায় অবস্থান করার কথা ছিল। এ কারণে ১১ ও ১২ অক্টোবর দুই দিনের জন্য যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. আরাফাত রহমানকে উপাচার্যের রুটিন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।
উপাচার্য ভবনে প্রবেশের পর আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা তাঁকে ও তাঁর সহযোগীদের দুপুর ১২টার মধ্যে ভবন ছেড়ে যাওয়ার সময় বেঁধে দেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভবন না ছাড়লে সেটিকে ‘ভ্যাকেন্ট’ ঘোষণা, ফটকে তালা দেওয়া এবং বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার হুঁশিয়ারি দেন তাঁরা।
আলটিমেটামের সময় শেষ হলে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শিক্ষার্থীরা উপাচার্য ভবনের ভেতরের ফটকে তালা লাগিয়ে দেন। একই সঙ্গে ভবনের বিদ্যুৎ সংযোগও বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। এ সময় তাঁরা ‘তালা, তালা, তালা হবে, ভিসি ভবন তালা হবে’, ‘প্রত্যাখ্যান, প্রত্যাখ্যান, অনলাইন ভিসি প্রত্যাখ্যান’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।
সংবাদ প্রকাশের সময় পর্যন্ত প্রায় ২২ ঘণ্টা ধরে বিদ্যুৎবিহীন ভবনে অবরুদ্ধ ছিলেন উপাচার্যসহ বেশ কয়েকজন। নবনিযুক্ত উপাচার্য পদত্যাগ না করা পর্যন্ত ভবনের তালা খোলা হবে না বলে জানিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।
উপাচার্য নিয়োগের প্রতিবাদ এবং সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে গত ২২ সেপ্টেম্বর থেকে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষার্থীরা। একই দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও কর্মবিরতি পালন করছেন। আন্দোলন ও কর্মবিরতির কারণে টানা ২০ দিন ধরে চুয়েটে ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ রয়েছে।