জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালেয়ের লোগো © সংগৃহীত
শিল্পখাতের চাহিদার সঙ্গে তাল মেলাতে এবং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করতে জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবিপ্রবি) অত্যাধুনিক তিনটি বিভাগ খোলার অনুমোদন দেওয়া হবে। বিভাগগুলো হলো- ডেটা সায়েন্স অ্যান্ড এআই, স্ট্যাটিস্টিকস এবং রোবটিক্স। এছাড়া ইন্টার্নশিপ নীতিমালা তৈরি করে ইউজিসিতে পাঠালে শিক্ষার্থীরা প্রতি মাসে ১৭ হাজার টাকা করে ভাতা পাবেন।
আজ শনিবার (৩ অক্টোবর) জাবিপ্রবিতে আয়োজিত ‘তারুণ্যের ভাবনায় বাংলাদেশ’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য প্রফেসর ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন এসব কথা জানান।
শিক্ষার্থীদের সরাসরি প্রশ্নের জবাবে ইন্টার্নশিপ ভাতার বিষয়ে ইউজিসি সদস্য বলেন, ‘বাংলাদেশের ইতিহাসে এবারই প্রথম ইউজিসির গবেষণা নীতিমালায় নিশ্চিত করা হয়েছে যে, গবেষণা ফান্ডের ২৫ শতাংশ সরাসরি শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ থাকবে।’ তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ইন্টার্নশিপ নীতিমালা তৈরি করে ইউজিসিতে জমা দিলে শিক্ষার্থীরা প্রতি মাসে ১৭ হাজার টাকা করে ইন্টার্নশিপ ভাতা পাবেন।
পাশাপাশি, যুগের চাহিদার সঙ্গে তাল মেলাতে জাবিপ্রবিতে ডেটা সায়েন্স অ্যান্ড এআই, স্ট্যাটিস্টিকস এবং রোবটিক্স সাবজেক্টগুলো খোলার বিষয়ে ইউজিসি থেকে সার্বিক সাপোর্ট দেওয়া হবে বলে তিনি শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করেন।
তরুণ উদ্যোক্তা বা স্টার্টআপ নিয়ে কাজ করতে আগ্রহীদের জন্য ড. মামুন জানান, বর্তমান সরকার শিক্ষা খাতে জিডিপির বরাদ্দ ৫ শতাংশে নিতে চায়। ইনোভেশন ফান্ড হিসেবে বাজেটে ৫০০ কোটি টাকা এবং ক্রিয়েটিভ ইকোনমিতে ১৪০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। তরুণ উদ্যোক্তাদের যেকোনো ইনোভেশন বা স্টার্টআপের ক্ষেত্রে আগে ১৫ শতাংশ ট্যাক্স দিতে হতো, যা বর্তমান সরকার কমিয়ে ০% (শূন্য শতাংশ) করেছে। এছাড়া বিদেশে উচ্চশিক্ষায় যেতে চাইলে তরুণদের ১০ লাখ টাকা করে ঋণ দেওয়ার ব্যবস্থাও করেছে সরকার।
শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক মানের মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে ‘থার্ড ল্যাঙ্গুয়েজ’ কোর্সের কথা উল্লেখ করে ইউজিসি সদস্য জানান, প্রথম ধাপে দেশের ৫০টি বিশ্ববিদ্যালয়ে এটি চালু হতে যাচ্ছে, যার মধ্যে জাবিপ্রবিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি আইসিটি স্কিলস উইথ এআই, এথিক্স এবং সিভি লেখা বা ইন্টারভিউ দেওয়ার মতো বেসিক অন-জব ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করা হবে বলেও তিনি জানান।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো গুজবে বিভ্রান্ত না হয়ে শিক্ষার্থীদের সরকারের বিভিন্ন ওয়েবসাইটের (যেমন অর্থ মন্ত্রণালয়, আইসিটি ডিভিশন) নিয়মিত আপডেট রাখার এবং এসব সুযোগ-সুবিধা কাজে লাগানোর আহ্বান জানান ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন।