পাবিপ্রবিতে দুই পক্ষের উত্তেজনা, সংবাদ সংগ্রহে গিয়ে লাঞ্ছিত সাংবাদিক

২৯ জুলাই ২০২৬, ০৩:০৪ PM
দুই পক্ষের হাতাহাতির একটি মুহূর্ত

দুই পক্ষের হাতাহাতির একটি মুহূর্ত © টিডিসি

পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পাবিপ্রবি) নারীঘটিত একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ভিডিও ধারণের সময় ঢাকা মনিটর ২৪-এর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি আহনাফ মুনতাসীর পাঠানের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া ও তাকে শারীরিকভাবে আঘাত করার অভিযোগ উঠেছে।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দিবাগত রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, রাত প্রায় ১০টার দিকে টিউশন শেষে ক্যাম্পাস গেটে এসে দেখা যায় পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে গণিত বিভাগের ইমরান এবং ইতিহাস বিভাগের রাকিব হাসানের কথা-কাটাকাটি চলছে। জানা যায়, এর আগে ইতিহাস বিভাগের রাকিব হাসান ও আশফাকুর রাহাত এবং গণিত বিভাগের ইমরান ক্যাম্পাসে এক বহিরাগত ছেলে ও এক মেয়েকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখতে পান। পরে তারা ওই দুজনের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করলে পরিবার জানায়, বিষয়টি তাদের জানা ছিল এবং তারা সম্পর্কে জড়িত। পরিবার আরও জানায়, তারা পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের এক বড় ভাইয়ের সঙ্গে দেখা করতে ক্যাম্পাসে এসেছিলেন।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে রাকিব ও ইমরানের সঙ্গে দেখা করেন। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় শুরু হয়। অভিযোগ রয়েছে, তখন পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী পলক উচ্চস্বরে রাহাতকে ডাকলে রাহাত এসে তাকে ধাক্কা দেন। এরপর পরিস্থিতি আরও উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে।

এ সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ভিডিও ধারণ শুরু করেন সাংবাদিক আহনাফ মুনতাসীর পাঠান। অভিযোগ অনুযায়ী, ভিডিও ধারণে বাধা দিয়ে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী রিফাত তার মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেন। আহনাফের সহপাঠীরা এগিয়ে এলে তাদের ওপর বাঁশ দিয়ে আঘাত ও মারধরের ঘটনাও ঘটে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী আলিফ বলেন, ‘সাংবাদিক বন্ধুর ফোন কেড়ে নেওয়ার পর আমরা এগিয়ে গেলে আমাদের ওপর বাঁশ দিয়ে আঘাত করা হয়। কলার ধরে টানাহেঁচড়া করা হয় এবং কিল-ঘুষি মারা হয়।’

অভিযুক্ত শিক্ষার্থী রাকিবুল হাসান স্মরণ বলেন, ‘আমাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হচ্ছিল। উত্তেজনার মধ্যে ভিডিও করলে আমার বন্ধু রিফাত ফোনটি নিয়ে নেয়। তখন আমরা জানতাম না তিনি সাংবাদিক। পরে বিষয়টি জানার পর ফোন ফিরিয়ে দেওয়া হয়। এরপর তার সঙ্গে থাকা কয়েকজন গালিগালাজ করলে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।’

অভিযুক্ত শিক্ষার্থী রিফাত বলেন, ‘হঠাৎ ভিডিও ধারণ শুরু করায় পূর্বের কিছু বিরোধের কারণে আমরা ভেবেছিলাম উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভিডিও করা হচ্ছে। সে কারণেই ফোনটি নিয়েছিলাম। পরে জানতে পারি তিনি সাংবাদিক, তখনই ফোন ফিরিয়ে দিই।’

ঢাকা মনিটর ২৪-এর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি আহনাফ মুনতাসীর পাঠান বলেন, ‘আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে ভিডিও ধারণ শুরু করলে আমাকে বাধা দেওয়া হয়। পরে আমাকে আঘাত করে মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এতে আমার হাতে আঘাত লাগে।’

ঘটনার পর রাত ১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. কামরুজ্জামান খান, ছাত্র উপদেষ্টা দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. রাশেদুল হক, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক ও সহকারী প্রক্টর ড. আতিকুর রহমান এবং লোকপ্রশাসন বিভাগের চেয়ারম্যান আল ফাহাদ ভূঁইয়ার উপস্থিতিতে উভয় পক্ষের কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়া হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কোনো ভুক্তভোগী লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্ত কমিটি গঠন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ সময় সহকারী প্রক্টররাও উপস্থিত ছিলেন।

মাছ ধরতে গিয়ে দুই যুবকের মৃত্যু
  • ২৯ জুলাই ২০২৬
এক্সিকিউটিভ নিয়োগ দেবে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস, আবেদন অভিজ্ঞত…
  • ২৯ জুলাই ২০২৬
আগস্টে বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজ খেলবে মালয়েশিয়া
  • ২৯ জুলাই ২০২৬
বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের নির্বাহী কমিটি পুনর্…
  • ২৯ জুলাই ২০২৬
রাজশাহী কলেজে ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে শিক্ষার্…
  • ২৯ জুলাই ২০২৬
এনসিপি ও বিএনপি-ছাত্রদলের মধ্যে উত্তেজনা, ৩ প্লাটুন বিজিবি …
  • ২৯ জুলাই ২০২৬