গোবিপ্রবিতে ইভটিজিংয়ের ঘটনায় আটক তিন বহিরাগত © টিডিসি ফটো
গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গোবিপ্রবি) পরিসংখ্যান বিভাগের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের এক নারী শিক্ষার্থীকে রাস্তায় উত্ত্যক্ত ও হয়রানির অভিযোগ উঠেছে চার বহিরাগতের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় নিরাপত্তাহীনতার কথা জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে গোপালগঞ্জ সদর থানায় মামলা করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের কাছে দেওয়া লিখিত অভিযোগে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রেজেন্টেশন শেষে ব্যাচের কয়েকজন ছেলে-মেয়ে একসঙ্গে বাসায় ফিরছিলেন। এ সময় চারজন বহিরাগত তার এক ব্যাচমেট ছেলেকে ডেকে ভয় দেখিয়ে ওই শিক্ষার্থীর বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানতে চান।
অভিযোগে তিনি আরও উল্লেখ করেন, বিষয়টি বুঝতে পেরে তার ব্যাচমেট সেখান থেকে চলে আসেন। পরে তারা বাসায় ফেরার সময় অভিযুক্তরা মোটরসাইকেল নিয়ে তাদের পিছু নেন। এতে আতঙ্কিত হয়ে তারা অটোরিকশাযোগে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ফিরে আসেন। এ সময় অভিযুক্তরাও তাদের পিছু নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন।
ক্যাম্পাসে প্রবেশের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অভিযুক্তদের মধ্যে তিনজনকে আটক করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের কাছে সোপর্দ করেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাদেরকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত অপর একজন ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে গোপালগঞ্জ সদর থানায় চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। মামলায় অভিযুক্তরা হলেন—তাজিম চৌধুরী (১৯), সোহাগ (১৯), সম্পদ বিশ্বাস (২১) এবং ইউসুফ বিশ্বাস (২১)। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত চারজনের মধ্যে একজন এখনো পলাতক রয়েছেন। অপর তিনজনকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
আরও খবর: তালিকায় ৪৬৯ শিক্ষার্থীর ৩০ জন ঢাবির, রাবির ২৮ জন— কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের কত?
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক ড. এস এম আহসান বলেন, ‘ইভটিজিংয়ের যে ঘটনাটি ঘটেছে, এ জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমরা দুঃখ প্রকাশ করছি। অবশ্যই এখানে নিরাপত্তাব্যবস্থার একটি ঘাটতি ছিল। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তার দায়িত্বে যারা রয়েছেন, তাদের ব্যাপারে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’
মামলার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যে মামলা করেছি। ওসির সঙ্গেও আমাদের কথা হয়েছে। পুলিশ প্রশাসন এ বিষয়ে খুবই আন্তরিকতা দেখিয়েছে এবং সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করার ব্যাপারে সর্বোচ্চ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে।’
ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকানোর বিষয়ে প্রক্টর বলেন, ‘আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটে বহিরাগতদের অনুপ্রবেশ ঠেকানোর জন্য যাবতীয় ব্যবস্থা দ্রুততম সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করার চেষ্টা করব। আশা করছি, ভবিষ্যতে এমন ঘটনা আর ঘটবে না।’