আবরার ফাহাদ

৪ লাখ ৭১ হাজার রিয়্যাকশন, শেয়ার ৭৩ হাজার— ৭ বছর আগে দেওয়া কী ছিল আবরার ফাহাদের স্ট্যাটাসে?

০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০১:০৩ PM , আপডেট: ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০১:০৮ PM
আবরার ফাহাদ

আবরার ফাহাদ © সম্পাদিত

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের সাত বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো কার্যকর হয়নি আদালতের দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায়। মামলার বিচারিক প্রক্রিয়ার দুই ধাপ শেষ হলেও উচ্চ আদালত ও পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া শেষে চূড়ান্তভাবে রায় কার্যকর হতে আরও কত সময় লাগবে, সে বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারছে না সংশ্লিষ্ট কেউ। দীর্ঘসূত্রতায় ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছে আবরারের পরিবার।

এদিকে মৃত্যুর আগে দেওয়া ভারত ইস্যু যোগ করে দেওয়া পোস্টটি ইতোমধ্যে ৪ লাখ ৭১ হাজার ৫০০টির বেশি রিঅ্যাকশন পেয়েছে। শেয়ার হয়েছে ৭৩ হাজারেরও বেশি।

২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর মধ্যরাতে বুয়েটের শেরেবাংলা হলের ২০১১ নম্বর কক্ষে নিয়ে আবরার ফাহাদকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করেন তৎকালীন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ছাত্রসংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আবরারকে হত্যার পর রাত ৩টার দিকে হলের সিঁড়ি থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

হত্যাকাণ্ডের দুই দিন আগে, ৪ অক্টোবর, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বিভিন্ন চুক্তি ও সমঝোতার সমালোচনা করে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি পোস্ট দেন আবরার। ওই পোস্টকে কেন্দ্র করেই তাঁকে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা জিজ্ঞাসাবাদের নামে হলের ২০১১ নম্বর কক্ষে ডেকে নেন বলে মামলার তদন্ত ও বিচারিক নথিতে উঠে আসে। পরে সেখানে তাঁকে রাতভর মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তাঁর মৃত্যু হয়।

আবরার ফাহাদের মৃত্যুবার্ষিকী পালন করতে সবাই ঢাকায় অবস্থান করছেন। বাবা বরকত উল্লাহ বলেন, ‘ভারত আমাদের দেশটাকে গ্রাস করতে চেয়েছিল। আবরার সেটার প্রতিবাদ করেছিল। যে কারণে আবরারকে জীবন দিতে হয়েছে, সেটার বাস্তবায়ন চাই আমরা। দেশকে নিয়ে আবরার ফাহাদের যেই স্বপ্ন ছিল, সেই স্বপ্নের বাংলাদেশ দেখতে চাই।’

আবরারকে হত্যার পর এক মাসের মাথায় ২০১৯ সালের ১৩ নভেম্বর ২৫ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। ২০২০ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর অভিযোগ গঠন করা হয়। ২০২১ সালের ৮ ডিসেম্বর রায় দেন ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১। ওই রায়ে ২০ জনের মৃত্যুদণ্ড এবং পাঁচজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ২০২৫ সালের ১৬ মার্চ মামলায় আসামিদের ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন), আপিল ও জেল আপিলের ওপর শুনানি শেষে হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ বিচারিক আদালতের রায় বহাল রাখেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ২০ জনের মধ্যে বিচারিক আদালতের রায়ের সময় থেকেই তিনজন পলাতক। তারা হলেন-মোর্শেদ-উজ-জামান, এহতেশামুল রাব্বি ও মুজতবা রাফিদ। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আরেক আসামি মুনতাসির আল জেমি ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট গাজীপুরের হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে পালিয়ে যান। এ মামলায় সব মিলিয়ে দণ্ডিত ২৫ আসামির মধ্যে চারজন পলাতক।

বরকত উল্লাহ বলেন, বর্তমানে মামলাটি আপিল বিভাগের বিচারাধীন আছে। আবরার ফাহাদ হত্যার সাত বছর হয়ে গেল। অথচ রায় কার্যকর হলো না। পলাতক আসামিদের দ্রুত গ্রেফতার এবং বিচার কাজ শেষ করে দ্রুত রায় কার্যকর করার দাবি জানাচ্ছি।

তিনি আরও বলেন, আবরারের মৃত্যুতে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। আমার ছেলে দেশের জন্য জীবন দিয়েছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যাতে আবরার ফাহাদকে ভুলে না যায়, এজন্য শহরের একটি সেতু তার নামে নামকরণের দাবি জানাই।

তথ্যমতে, হত্যাকাণ্ডে হাইকোর্টে মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকা আসামিরা হলেন মেহেদী হাসান রাসেল, অনিক সরকার, মেহেদী হাসান রবিন, ইফতি মোশাররফ সকাল, মনিরুজ্জামান মনির, মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন, মাজেদুর রহমান মাজেদ, মুজাহিদুর রহমান, খন্দকার তাবাককারুল ইসলাম তানভীর, হোসাইন মোহাম্মদ তোহা, শামীম বিল্লাহ, এ এস এম নাজমুস সাদাত, মোর্শেদ অমর্ত্য ইসলাম, মুনতাসির আল জেমি, শামসুল আরেফিন রাফাত, মিজানুর রহমান, মাহমুদ সেতু, মোর্শেদ-উজ-জামান মণ্ডল জিসান, এহতেশামুল রাব্বি তানিম ও মুজতবা রাফিদ। শেষের তিনজন মামলার শুরু থেকেই পলাতক। ফাঁসির আসামিদের মধ্যে মুনতাসির আল জেমি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট গাজীপুরের হাইসিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারের দেয়াল ভেঙে পালিয়েছেন বলে ২০২৫ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি বিজ্ঞপ্তিতে জানায় কারা কর্তৃপক্ষ। যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন মুহতাসিম ফুয়াদ হোসেন, আকাশ হোসেন, মুয়াজ আবু হুরায়রা, অমিত সাহা ও ইশতিয়াক আহমেদ।

৫ অক্টোবর তার সর্বশেষ ফেসবুক পোস্টে ভারত সর্ম্পকে লিখেছিলেন।

পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে ধরা হলো- ‌‘৪৭ এ দেশভাগের পর দেশের পশ্চিমাংশে কোন সমুদ্রবন্দর ছিল না। তৎকালীন সরকার ৬ মাসের জন্য কলকাতা বন্দর ব্যবহারের জন্য ভারতের কাছে অনুরোধ করল। কিন্তু দাদারা নিজেদের রাস্তা নিজেদের মাপার পরামর্শ দিছিলো। বাধ্য হয়ে দুর্ভিক্ষ দমনে উদ্বোধনের আগেই মংলা বন্দর খুলে দেওয়া হয়েছিল। ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে আজ ইন্ডিয়াকে সে মংলা বন্দর ব্যবহারের জন্য হাত পাততে হচ্ছে।

কাবেরি নদীর পানি ছাড়াছাড়ি নিয়ে কানাড়ি আর তামিলদের কামড়াকামড়ি কয়েকবছর আগে শিরোনাম হয়েছিল। যে দেশের এক রাজ্যই অন্যকে পানি দিতে চাই না সেখানে আমরা বিনিময় ছাড়া দিনে দেড়লাখ কিউবিক মিটার পানি দিব।

কয়েকবছর আগে নিজেদের সম্পদ রক্ষার দোহাই দিয়ে উত্তরভারত কয়লা-পাথর রপ্তানি বন্ধ করেছে অথচ আমরা তাদের গ্যাস দিব। যেখানে গ্যাসের অভাবে নিজেদের কারখানা বন্ধ করা লাগে সেখানে নিজের সম্পদ দিয়ে বন্ধুর বাতি জ্বালাব।

হয়তো এসুখের খোঁজেই কবি লিখেছেন-
“পরের কারণে স্বার্থ দিয়া বলি
এ জীবন মন সকলি দাও,
তার মত সুখ কোথাও কি আছে
আপনার কথা ভুলিয়া যাও।”

রিটেন টিকেও দেননি বিসিএস ভাইভা, ছেড়েছেন প্রথম সারির দুই সরক…
  • ০৭ অক্টোবর ২০২৬
সন্তানের মেসেজ না পড়েও নজর রাখতে পারবেন অভিভাবক—হোয়াটসঅ্যাপ…
  • ০৭ অক্টোবর ২০২৬
৪ লাখ ৭১ হাজার রিয়্যাকশন, শেয়ার ৭৩ হাজার— ৭ বছর আগে দেওয়া ক…
  • ০৭ অক্টোবর ২০২৬
ওসিকে হুমকি দেওয়া সেই বিএনপি নেতাকে দল থেকে সাময়িক বহিষ্কার
  • ০৭ অক্টোবর ২০২৬
রাতে ঘুম আসে না, সকালে উঠতে কষ্ট—আপনার ‘দেহঘড়ি’ ঠিক আছে তো?
  • ০৭ অক্টোবর ২০২৬
কারিগরির ২১৪০ প্রতিষ্ঠানে পদ শূন্য, বদলি আবেদন নিয়ে সুখবর প…
  • ০৭ অক্টোবর ২০২৬