৫৬ দিনে ভিসি বদলে অচল চুয়েট, অনড় সরকার কাজে লাগাতে চায় ডুয়েটের অভিজ্ঞতা

০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:০৬ PM , আপডেট: ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৩৬ PM
চুয়েটে আন্দোলনে শিক্ষার্থীরা

চুয়েটে আন্দোলনে শিক্ষার্থীরা © টিডিসি সম্পাদিত

মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় উপাচার্য পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে অচল চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট)। বন্ধ রয়েছে ক্লাস-পরীক্ষা। ফাঁকা পড়ে আছে শ্রেণিকক্ষ ও ল্যাবরেটরি। কবে নাগাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষাকার্যক্রম ফিরবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। এতে সেশনজটের শঙ্কায় পড়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ১২ বিভাগের ৫ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী। এরই মধ্যে ক্যাম্পাসের আন্দোলন গড়িয়েছে চট্টগ্রাম শহরেও। সবশেষ মঙ্গলবার চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেছেন শিক্ষার্থীরা। যদিও আন্দোলনে ২৩ ব্যাচের কোনো শিক্ষার্থী নেই। তারা পরীক্ষা শেষে বাড়ি চলে গেছেন। ২৪ ব্যাচের কিছু শিক্ষার্থী আন্দোলনে রয়েছেন।

এদিকে সরকারের পক্ষ থেকে অধ্যাপক সায়েমকে মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় কেন অব্যাহতি দেওয়া হলো, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে কোনো বিস্তারিত ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে আন্দোলনকারীরাও তাদের দাবি থেকে সরে আসছেন না। ফলে একদিকে অধ্যাপক সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষার্থী-শিক্ষকদের আন্দোলন, অন্যদিকে সরকারের সিদ্ধান্ত বহাল রাখার অবস্থান। এক্ষেত্রে ডুয়েটকে উদাহরণ হিসেবে সামনে রাখতে চাইছে সরকার। তথ্যমতে, গত ১৪ মে থেকে ভিসিবিরোধী আন্দোলনের কারণে ডুয়েটে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়। টার্ম ফাইনাল পরীক্ষা শেষ হওয়ায় একাডেমিক কার্যক্রম আগেই বন্ধ থাকলেও অফিস কার্যক্রম ২২ মে পর্যন্ত চলমান থাকার কথা ছিল। তবে ১৭ মে পরিস্থিতি সংঘর্ষে রূপ নেয়। এরপর ১৯ মে শিক্ষার্থীরা ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ ঘোষণা করেন। পরে অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্যাম্পাস বন্ধ হলে চুপিসারে ক্যাম্পাসে ফেরেন নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইকবাল। পরে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয় পরিস্থিতি। এটাকেই উদাহরণ হিসেবে  চুয়েটের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে চায় শিক্ষামন্ত্রণালয় ও ভিসি নিয়োগ সংশ্লিষ্টরা।

জানা যায়, চুয়েটের সদ্য সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে ২২ সেপ্টেম্বর থেকে সর্বাত্মক শাটডাউন কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষার্থীরা। এর আগে ২১ সেপ্টেম্বর রাতে উপাচার্য ভবনে তালা ঝোলানো হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটক বন্ধ করে দেন আন্দোলনকারীরা। আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা জানিয়েছেন শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের একাংশও। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম কার্যত থেমে গেছে। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনগুলোতেও ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ এবং ক্যাম্পাসে অচলাবস্থার বিষয়টি উঠে এসেছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা ২০২৩ সালের ১ জানুয়ারি ক্লাস শুরু করেন। চার বছরের কোর্স অনুযায়ী ২০২৭ সালের জানুয়ারির মধ্যে তাদের স্নাতক অধ্যায় শেষ করার কথা। তবে ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলন এবং এর আগে চুয়েটে সড়ক নিরাপত্তার দাবিতে আন্দোলনের কারণে একাডেমিক কার্যক্রম আগেই পিছিয়ে যায়। এর মধ্যে চলমান শাটডাউনের কারণে চতুর্থ বর্ষের প্রথম টার্মের বিভিন্ন বিভাগের দুই থেকে তিনটি পরীক্ষা বাতিল হয়েছে। ছয়টি বিভাগের বিভিন্ন বর্ষ ও সেমিস্টারের চূড়ান্ত পরীক্ষাও অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত রয়েছে।

চুয়েটের একাডেমিক ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, প্রতিটি টার্মের ক্লাসের জন্য ৬৫ কার্যদিবস বা ১৩ সপ্তাহ সময় পাওয়া যায়। এ বছর ২২ ডিসেম্বর থেকে দুই সপ্তাহ শীতকালীন ছুটি রয়েছে। রমজান ও ঈদুল ফিতর মিলিয়ে প্রতিবছর প্রায় এক মাস বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকে। চলমান অচলাবস্থা দীর্ঘ হলে বিদায়ী বর্ষের দ্বিতীয় টার্মের পরীক্ষা আগামী বছরের মে মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত গড়াতে পারে। একই সময়ে কোরবানির ঈদের ছুটি থাকায় পরীক্ষা ঈদের পরেও যেতে পারে। এতে চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থীদের সব একাডেমিক কার্যক্রম শেষ করতে ২০২৭ সালের জুলাই পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। চার বছরের কোর্স শেষ করতে তখন সাড়ে চার বছরেরও বেশি সময় লেগে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বর্তমানে চুয়েটে স্বাভাবিক চারটির পরিবর্তে একসঙ্গে পাঁচটি ব্যাচের শিক্ষা কার্যক্রম চলছে। চলমান আন্দোলনের কারণে এ জট আরও বাড়তে পারে। ছয়টি ব্যাচের জট তৈরি হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। ২০২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদেরও একাধিক বিভাগের পরীক্ষা আটকে আছে। এমএমই বিভাগের ১৫ অক্টোবর একটি পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল। পূজার ছুটির আগে ইইই ও বিএমই বিভাগের চারটি পরীক্ষা হওয়ার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ে সেগুলো শুরু হওয়া নিয়ে সংশয় রয়েছে।

ক্যাম্পাসে আন্দোলনে শিক্ষার্থীরা

পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক মঈনুল ইসলাম বলেন, ছয়টি বিভাগের পরীক্ষা স্থগিত রয়েছে। তবে শিক্ষাপঞ্জির এই বিপর্যয় কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। প্রতিটি ব্যাচের চূড়ান্ত পরীক্ষার পর কিছুদিন ছুটি থাকে। ওই সময় শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে পিছিয়ে পড়া কাজ পুষিয়ে নেওয়া যাবে।

গত ২৭ জুলাই চুয়েটের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পান বিশ্ববিদ্যালয়ের যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম। পরদিন তিনি দায়িত্ব নেন। এরপরই অধ্যাপক সায়েমের আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি সামনে আসে। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তিনি বিভিন্ন কর্মসূচিতে ছিলেন। শেখ হাসিনার আমলের বিভিন্ন নেতাকর্মী, এমপি ও মন্ত্রীর সঙ্গে তার ছবি রয়েছে। ওই সময়ে তিনি শিক্ষক সমিতির সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছেন। এসব তথ্যের আলোচনার মধ্যেই দায়িত্ব পালনের ৫৬ দিনের মাথায় ২১ সেপ্টেম্বর তাকে অব্যাহতি দিয়ে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে নতুন উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হয়। 

যদিও অধ্যাপক সায়েমের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ এবং আন্দোলনে তার ইন্ধন থাকার অভিযোগও তিনি অস্বীকার করেছেন।

অধ্যাপক সায়েম দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, শিক্ষক, কর্মকর্তা বা কর্মচারী কাউকেই তিনি আন্দোলন বা কোনো কর্মসূচিতে যুক্ত হতে বলেননি। তিনি শিক্ষকতা উপভোগ করেন। তরুণ প্রজন্মকে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার কাজ করে যেতে চান।

এদিকে আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, কোনো দৃশ্যমান কারণ ছাড়াই এত অল্প সময়ের মধ্যে উপাচার্য পরিবর্তন করা হয়েছে। এ সিদ্ধান্তের যৌক্তিক কারণ জানতে চান তারা। তাদের আরেকটি অভিযোগ, নতুন উপাচার্য চুয়েটের বাইরে থেকে নিয়োগ পেয়েছেন।

চুয়েটের উপাচার্যদের তালিকা অনুযায়ী, এ পর্যন্ত নয়জন শিক্ষক উপাচার্যের দায়িত্ব পেয়েছেন। তাদের মধ্যে নিয়োগের সময় অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করতেন দুজন। অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম দ্বিতীয়জন। প্রথমজন ছিলেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক মীর শহিদুল ইসলাম। বিআইটি থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের পর তৎকালীন পরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক প্রথম উপাচার্যের দায়িত্ব পালন করেন। এরপর ২০০৪ সালের ২৫ জুলাই দায়িত্ব নেন অধ্যাপক মীর শহিদুল ইসলাম।

অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম চুয়েটের প্রাক্তন শিক্ষার্থী। তবে নিয়োগের সময় তিনি কুয়েটের শিক্ষক ছিলেন। বাইরে থেকে উপাচার্য নিয়োগের বিষয়টিও আন্দোলনরত শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের একাংশের ক্ষোভের কারণ। তবে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষককে উপাচার্য নিয়োগে আইনি বাধা নেই। চুয়েট আইন, ২০০৩ অনুযায়ী উপাচার্য নিয়োগের ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির। আইনের ১০(২) ধারায় প্রয়োজন মনে করলে যেকোনো সময় কারণ দর্শানো ছাড়াই উপাচার্যকে অব্যাহতি দেওয়ার ক্ষমতাও রয়েছে আচার্যের।

আমি ক্যাম্পাসে পা রাখার পর আমার প্রথম দায়িত্ব হচ্ছে শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতনের ব্যবস্থা করা। সেপ্টেম্বরের ২৮ আমি কম্পট্রোলারসহ ১২ জন কর্মকর্তাকে বৈঠকে ডাকি। সংশ্লিষ্টদের সভার জন্য ডেকেছিলাম। কিন্তু তারা কেউ আসেননি। পরে আমি ব্যাংকের ব্যবস্থাপককে মেইল দিয়েছি।—অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম, নতুন উপাচার্য

আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া শিক্ষক অধ্যাপক সৈয়দ মাসরুর আহম্মদ দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, চুয়েটের অবস্থা অত্যন্ত দুঃখজনক। এখনো অচল অবস্থাই আছে। শিক্ষার্থীরাও তাদের জায়গায় অটল। আর আমরা শিক্ষক সমিতি একবারেই বলেছি, উনাকে আমরা ভিসি হিসেবে চাই না। আমরা যতটুকু বুঝছি, আগে সরকার পরিবর্তন হলো। অন্তর্বর্তী সরকার একজনকে দায়িত্ব দিলেন। প্রফেসর আব্দুল মতিন উনি ছিলেন। এরপর দেশে নির্বাচন হলো, সরকার নির্বাচিত হলো। সরকার যখন আবু সায়েমকে ভিসি হিসেবে নিয়োগ দিল, আমরা স্বাভাবিকভাবে সেটা মেনে নিয়েছি। চুয়েটের একটা নিজস্ব সক্রিয়তা হলো, এখানে অধিকাংশ শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী রাজনীতিবিমুখ। এরা রাজনীতি করেও না। এর ফলাফল হলো, রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেও চুয়েট তার কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘সরকার অধ্যাপক সায়েমকে নিয়োগ দিয়েছে। আমরা আমাদের মতো কাজ করে যাচ্ছিলাম। বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস চলছিল। সবকিছু চলছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের অতিরিক্ত কার্যক্রমও চলছিল। হঠাৎ ৫৬ দিনে ভিসিটা পরিবর্তন। এটা কেন পরিবর্তন হলো, আমরা কিছুই জানি না। ভিসি পরিবর্তন করে বাইরে থেকে একজনকে আনা হলো। চুয়েটে ৯৫ জন প্রফেসর আছেন। সম্ভবত ২৫ জনের মতো গ্রেড-১ প্রফেসর আছেন এগুলো রেখে বাইরে থেকে একজন ভিসি আনা হলো। কোনো দৃশ্যমান কারণ ছাড়াই।’

তিনি বলেন, ‘যদি এরকম হতো যে তিনি সরকারের নির্দেশনা মানছেন না, অথবা সরকারের মিশন-ভিশন পূরণ হচ্ছে না, কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে বা শিক্ষার্থীরা তাকে চাচ্ছে না—এরকম কিছুই ছিল না। শান্ত চুয়েট হঠাৎ অশান্ত হয়ে উঠল। এটাই হলো আমাদের অবস্থান। কোনো কারণ ছাড়া একজন ভিসিকে সরিয়ে দেওয়া অবশ্যই দৃষ্টিকটু। আমরা শিক্ষক সমাজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সবাই এটাকে আমাদের অপমান হিসেবে মনে করছি। যে কারণে আমরা বলেছি, আমাদের সমস্ত সমিতি এক সিদ্ধান্তে আছে। ছাত্ররা তো আগেই দাবি করেছে। সমিতির দাবিও হলো অধ্যাপক সায়েমকে পুনর্বহাল করা হোক। প্রজ্ঞাপনটা নতুন করে পরিবর্তন করে অধ্যাপক সায়েমকে তার দায়িত্বে পুনর্বহাল করা হোক। এই দাবিতেই আমরা আছি।’

আন্দোলনরত চুয়েটের পেট্রোলিয়াম ও মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী আসাদুল্লাহিল গালিব বলেন, বর্তমান আন্দোলনকে শুধু একজন উপাচার্যের পরিবর্তে আরেকজন উপাচার্যকে রাখার দাবি হিসেবে দেখলে এর মূল কারণ বোঝা যাবে না। তার মতে, প্রশ্নটি কোনো ব্যক্তির পদে থাকা বা না-থাকার চেয়েও বড়। এখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্বের ধরন, প্রাতিষ্ঠানিক আস্থা, প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের গ্রহণযোগ্যতার প্রশ্ন রয়েছে।

তিনি বলেন, উপাচার্যের দায়িত্ব গ্রহণের পর তার পদমর্যাদা পরিবর্তিত হয়েছিল; কিন্তু শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তার সম্পর্কের মৌলিক ধরন পরিবর্তিত হয়নি। শিক্ষক থাকা অবস্থায় যে সহজলভ্যতা, আন্তরিকতা ও সরাসরি যোগাযোগের সম্পর্ক শিক্ষার্থীরা তার মধ্যে দেখেছে, উপাচার্য হওয়ার পরও তার ধারাবাহিকতা তারা অনুভব করেছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে একজন শিক্ষার্থীকে দেখে থেমে তার খোঁজ নেওয়া, পড়াশোনা বা ক্লাসের কথা জিজ্ঞাসা করা, শিক্ষার্থীদের কথা সরাসরি শোনা-এসব ছোট ঘটনা প্রশাসনিক নথিতে হয়তো লেখা থাকে না; কিন্তু একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ প্রশাসক সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের আস্থা তৈরিতে এগুলোর গুরুত্ব অনেক।

‘আমাদের বেতন দেওয়ার জন্য একটি সভা ডেকে মেইল করেছিলেন। আমরা সেই মেইলের রিপ্লাই দিইনি—এটা সত্য। কিন্তু আমরা মেইলের কীভাবে সাড়া দেব? একটা লোক যখন নিয়োগ পায়, তখন তাকে এখানে এসে যোগদান করতে হয়। হ্যান্ডিং-টেকিং হয়। এগুলো কি লাগে না? এগুলো তো হয়নি। উনি যোগদান করেছেন কোথায়? আকাশে?’—মোহাম্মদ ওয়াহিদুল ইসলাম, ডেপুটি কম্পট্রোলার

আন্দোলনে উসকানির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘কোনো আন্দোলনে উসকানি দেওয়ার অর্থ হলো সেই আন্দোলন সৃষ্টিতে, পরিচালনায় বা অব্যাহত রাখতে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সক্রিয় ভূমিকা রাখা। যেমন-কর্মসূচি নির্ধারণ করা, আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া, আন্দোলনকারীদের সংগঠিত করা, ব্যক্তিগত প্রভাব প্রয়োগ করা কিংবা আন্দোলনের গতিপথ নিয়ন্ত্রণ করা। বর্তমান আন্দোলনের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের অভিজ্ঞতায় অধ্যাপক সায়েমের কাছ থেকে এমন কোনো নির্দেশনা আসেনি। তিনি শিক্ষার্থীদের ফোন করে কোনো কর্মসূচি ঘোষণা করতে বলেননি। তিনি আন্দোলন শুরু করার নির্দেশ দেননি। তিনি আন্দোলন অব্যাহত রাখার নির্দেশ দেননি। তিনি কোনো নির্দিষ্ট কর্মসূচি নির্ধারণ করে দেননি। একইভাবে তিনি শিক্ষার্থীদের নিজেদের অবস্থান পরিত্যাগ করার নির্দেশও দেননি।’

আসাদুল্লাহিল গালিব বলেন, ‘এই অবস্থানকে উসকানি হিসেবে চিহ্নিত করা হলে একটি গুরুতর যৌক্তিক সমস্যা তৈরি হয়। কারণ তাহলে ধরে নিতে হয়, শিক্ষার্থীরা নিজেদের বিচার-বিবেচনায় কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণে সক্ষম নয়; তাদের প্রতিটি অবস্থানের পেছনে অবশ্যই কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর নির্দেশনা থাকতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে এমন ধারণা গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। শিক্ষার্থীরা প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিক। একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত তাদের বিশ্ববিদ্যালয়, শিক্ষা ও প্রাতিষ্ঠানিক পরিবেশকে প্রভাবিত করলে সেই সিদ্ধান্ত সম্পর্কে নিজেদের মতামত গঠন করা, সংগঠিত হওয়া এবং শান্তিপূর্ণভাবে দাবি জানানো তাদের নিজস্ব সিদ্ধান্তের বিষয়।’

শিক্ষার্থীদের শাটডাউনের পাশাপাশি একই দাবিতে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের একাংশ কর্মবিরতিতে রয়েছেন। গত রবিবার বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত উপাচার্য ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন তারা। এর আগের শনিবার ছুটির দিনেও শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল করেন। শিক্ষকেরা সংকট কাটাতে সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে যোগাযোগ করছেন। অধ্যাপক সায়েমকে ফিরিয়ে আনার পক্ষে যুক্তিও তুলে ধরেছেন তারা। তবে এখনো সমাধানের বিষয়ে দৃশ্যমান কোনো আলোচনা শুরু হয়নি।

নতুন ভিসিকে লাল কার্ড শিক্ষার্থীদের

চুয়েটের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. শেখ মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির বলেন, ‘আমি ব্যক্তি প্রফেসর হুমায়ুন হিসেবে বলতেছি, বাংলাদেশের যে কালচার, সেখানে সরকারিভাবে একজনকে হঠাৎ করে অব্যাহতি দিয়ে আরেকজনকে হঠাৎ নিয়োগ দেওয়া—এটা শোভনীয় না। যার ফলে ক্যাম্পাসে এখন আসলে সবকিছুই থেমে গেছে। বিশেষ করে শিক্ষক সমিতিতেও এখন কর্মবিরতি আছে। শিক্ষার্থীরাও শাটডাউনে আছে। সবকিছু মিলিয়ে ক্যাম্পাসের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে।’

নিজের পদত্যাগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমি আসলে গত মাসের ১ তারিখে পদত্যাগপত্র দিয়েছিলাম। ২২ তারিখ থেকে পদত্যাগ কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। তবে এটি কার্যকর হয়েছে কি না, সেটা আমি জানি না। আমি পর্যাপ্ত সময় দিয়ে ১ তারিখে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছি। ২২ তারিখ থেকে কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। মাঝখানে ২১ দিন সময় ছিল। কিন্তু ২১ তারিখ রাতে হঠাৎ করে পরিস্থিতি তৈরি হয়ে যায়। ২১ তারিখে প্রজ্ঞাপন হলো এবং ২২ তারিখ থেকে ক্যাম্পাসের সবকিছু শাটডাউন হয়ে গেল। এ কারণে বিষয়টির পরবর্তী স্ট্যাটাস কী হয়েছে, সেটা আমি ঠিক জানি না।’

সরকার উপাচার্য হিসেবে যাকে নিয়োগ দেবে, আমি তার পক্ষে। সরকারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কোনো আন্দোলন সমর্থন করি না। শিক্ষক সমিতির সিদ্ধান্তও যদি সরকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে যায়, আমি তার সঙ্গে একমত নই।— অধ্যাপক আরাফাত রানা, যন্ত্রকৌশল বিভাগ

দায়িত্ব হস্তান্তরের বিষয়ে অধ্যাপক হুমায়ুন বলেন, ‘দায়িত্ব হস্তান্তরের আসলে প্রয়োজন পড়ে না। কারণ এটি সরকারি বিষয়। সরকার একজনকে অব্যাহতি দিয়ে নতুন একজনকে নিয়োগ দিয়েছে। তাই আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব হস্তান্তরের প্রয়োজন পড়ে না। আলোচনার মাধ্যমে করলে বিষয়টি স্বাভাবিক অর্থে ভালো এবং শোভনীয় হতো। সরকারি যেকোনো দপ্তরে অনেক নথি থাকে। এখানে অনেক গোপনীয় নথি আছে। আর্থিক বিষয় আছে। বিভিন্ন শিক্ষার্থীর ক্যারিয়ারের বিষয় আছে। শিক্ষকদের ক্যারিয়ারের বিষয়ও আছে। এসব একজনকে বুঝিয়ে দেওয়া হলে ভালো হয়। এটি একটি ডিসেন্ট ওয়ে। 

তিনি বলেন, সময়-সুযোগ হয়ে ওঠেনি। ২১ তারিখে হঠাৎ করে প্রজ্ঞাপন হলো। ২২ তারিখ থেকে সব শাটডাউন হয়ে গেছে। অনেক কর্মকর্তা, শিক্ষক-কর্মচারী কর্মবিরতিতে গেছেন। শিক্ষার্থীরাও শাটডাউন করে দিয়েছে। যার কারণে এই প্রক্রিয়াটা হতে পারেনি।

শিক্ষক সমিতির কর্মবিরতি প্রসঙ্গে অধ্যাপক হুমায়ুন বলেন, ‘এটা আমি ঠিক জানি না। এটা আসলে সাধারণ সভার সিদ্ধান্ত। সাধারণ সভার সেই সিদ্ধান্তের আলোকে এখন কর্মবিরতি চলছে। আমি যেহেতু সমিতির একজন, আমি তো শিক্ষক। আসলে আমার প্রথম পরিচয় আমি শিক্ষক। আমি শিক্ষক সমিতির একটা অংশ।’

আন্দোলনের মধ্যে ২৪ সেপ্টেম্বর ক্যাম্পাসে না গিয়ে অনলাইনে উপাচার্যের দায়িত্ব নেন অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম। পরে তাকে প্রত্যাখ্যানের ঘোষণা দেন আন্দোলনকারীরা। বিভিন্ন প্রতিবেদনে তার অনলাইনে যোগদানের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

নতুন উপাচার্য জানিয়েছেন, তিনি দ্রুত ক্যাম্পাসে যাবেন। তার আগে সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে পরিস্থিতির সমাধান করতে চান। তবে আন্দোলনের কারণে পরবর্তী কয়েক দিনেও তিনি ক্যাম্পাসে যেতে পারেননি।

চোখ বেঁধে আন্দোলনে শিক্ষার্থীরা

এদিকে আন্দোলনের ১৫তম দিনে গত মঙ্গলবার বিকেল ৪টার দিকে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেন চুয়েটের শিক্ষার্থীরা। সেখানে তারা অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবি জানান। একই সঙ্গে অচলাবস্থা নিরসনে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনেও ৬ অক্টোবর চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধনের বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে। মানববন্ধনে শিক্ষার্থীদের হাতে বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড দেখা যায়। এতে লেখা ছিল—‘সায়েম স্যারকে পুনর্বহাল করতে হবে’, ‘চুয়েটের অচলাবস্থার সমাধান চাই’, ‘টনক নড়বে কবে’, ‘প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চাই’সহ বিভিন্ন দাবি।

তবে শিক্ষকদের একটি অংশ চলমান আন্দোলন ও শিক্ষক সমিতির কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন না। তাদের একজন যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক আরাফাত রানা বলেন, ‘সরকার উপাচার্য হিসেবে যাকে নিয়োগ দেবে, আমি তার পক্ষে। সরকারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কোনো আন্দোলন সমর্থন করি না। শিক্ষক সমিতির সিদ্ধান্তও যদি সরকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে যায়, আমি তার সঙ্গে একমত নই।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেকজন শিক্ষক বলেন, যারা এতদিন শুধু ‘সায়েম স্যারকে’ উপাচার্য হিসেবে পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলন করছিলেন, তারা এখন ওপর মহলে গিয়ে নিজেদের উপাচার্য হওয়ার ব্যবস্থা করে আসছেন। এটা কী দারুণ ভণ্ডামি! তারা যদি প্রথম দিনই বলতেন, কুয়েট থেকে আসা উপাচার্যকে বাদ দিয়ে চুয়েটের কাউকে উপাচার্য করতে হবে, তাহলে তো এক-দুই দিনের মধ্যেই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে একটি ব্যবস্থা করা যেত।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩৬৭ জন শিক্ষক, ২০৮ জন কর্মকর্তা ও ৫১২ জন কর্মচারী রয়েছেন। সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে চলমান আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের একাংশ কর্মবিরতিতে রয়েছেন। অচলাবস্থার মধ্যে চুয়েটের ১ হাজার ৮৭ শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীর সেপ্টেম্বর মাসের বেতন ও উৎসব ভাতা আটকে গেছে।

চুয়েটের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, বেতন-বোনাস পরিশোধে উপাচার্যের স্বাক্ষরের প্রয়োজন হয় না। হিসাব নিয়ন্ত্রক ও উপহিসাব নিয়ন্ত্রকের স্বাক্ষরেই ব্যাংক থেকে বেতন-বোনাস ছাড় করা হয়। সেপ্টেম্বরের বেতন-ভাতার শিটেও তারা স্বাক্ষর করে ব্যাংকে জমা দিয়েছেন। পরে নতুন উপাচার্যের চিঠির কারণে বেতন-ভাতা আটকে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনেও ১ হাজার ৮৭ শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীর সেপ্টেম্বরের বেতন-ভাতা আটকে থাকার তথ্য এসেছে।

ব্যাংকে পাঠানো ই-মেইলে উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম উল্লেখ করেন, চুয়েট আইন ২০০৩-এর ১৩(৭) ধারা অনুযায়ী উপাচার্যের সুস্পষ্ট অনুমোদন ছাড়া যেকোনো আর্থিক লেনদেন আইনত অবৈধ। অননুমোদিত লেনদেনের ফলে কোনো আর্থিক অনিয়ম, অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি বা আইনি জটিলতা তৈরি হলে এর জন্য উপাচার্য বা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কোনো আইনগত, প্রশাসনিক বা আর্থিক দায়ভার বহন করবে না। অনুমোদনবিহীন নথি প্রস্তুত ও প্রেরণের মাধ্যমে যে লঙ্ঘন হয়েছে, তার একক ও সম্পূর্ণ দায়ভার সংশ্লিষ্ট দুই কর্মকর্তার ওপর বর্তাবে। পাশাপাশি এর জন্য সোনালী ব্যাংক কর্তৃপক্ষও দায়ী থাকবে।

আমার মূল লক্ষ্য চুয়েটকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া, আর এই যাত্রায় আমি আমার স্নেহের ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে চাই। আমি ওদেরকে কোনো দূরত্বে রাখতে চাই না; বরং ছাত্রছাত্রীদের সার্বক্ষণিক পাশে নিয়ে, ওদের মনের ভাষা ও আকাঙ্ক্ষা অনুধাবন করে কাজ করতে চাই।-অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম

বেতন বন্ধের বিষয়ে জানতে চাইলে অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, আমি ক্যাম্পাসে পা রাখার পর আমার প্রথম দায়িত্ব হচ্ছে শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতনের ব্যবস্থা করা। সেপ্টেম্বরের ২৮ আমি কম্পট্রোলারসহ ১২ জন কর্মকর্তাকে বৈঠকে ডাকি। সংশ্লিষ্টদের সভার জন্য ডেকেছিলাম। কিন্তু তারা কেউ আসেননি। পরে আমি ব্যাংকের ব্যবস্থাপককে মেইল দিয়েছি। সেখানে বলা হয়েছে, এই লেনদেনের ফলে কোনো আর্থিক অনিয়ম, অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি বা আইনি জটিলতা সৃষ্টি হলে এর জন্য উপাচার্য বা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কোনো আইনগত, প্রশাসনিক বা আর্থিক দায়ভার বহন করবে না। এই মেইল দেখেই ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বেতন স্থগিত রেখেছে। তারা আমার ডাকে সাড়া দেয়নি। মেইলের রিপ্লাই দেয়নি। 

তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের এক্টের ১১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ভাইস-চ্যান্সেলর বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বক্ষণিক প্রধান একাডেমিক ও প্রশাসনিক নির্বাহী কর্মকর্তা হইবেন। তাহলে এখন আমাকে বেতন শীট না দেখিয়ে যদি সবার বেতন দেওয়া হয়। এখানে যদি কোন কর্মকর্তা-কর্মচারী অথবা শিক্ষক অনুপস্থিত থেকে বেতন নেই। অথবা কারো কোন ঝামেলা থাকলে এইসব জবাবদিহিতো আমাকেই করতে হবে। সেই জন্য আমি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ডেকে বৈঠক করে বেতন দিতে চেয়েছি। কিন্তু তারা আসেনি। এটা খুবই দুঃখজনক। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পট্রোলারকে কল দেওয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি। তবে কথা বলেন ডেপুটি কম্পট্রোলার মোহাম্মদ ওয়াহিদুল ইসলাম। তিনি দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, আমাদের ক্যাম্পাসে ঝামেলা চলতেছে। এজন্য আমরা কারও ফোনে কথা বলতেছি না। আমাদের স্যালারি বন্ধ হয়নি, বন্ধ করা হয়েছে। নতুন ভিসি ব্যাংকে চিঠি দিয়ে আমাদের স্যালারি বন্ধ করিয়েছেন।

তিনি বলেন, স্যালারি দেওয়ার বিষয়ে আপনাদের মেইল করেছেন নতুন উপাচার্য এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘হ্যা আমাদের বেতন দেওয়ার জন্য একটি সভা ডেকে মেইল করেছিলেন। আমরা সেই মেইলের রিপ্লাই দিইনি—এটা সত্য। কিন্তু আমরা মেইলের কীভাবে সাড়া দেব? একটা লোক যখন নিয়োগ পায়, তখন তাকে এখানে এসে যোগদান করতে হয়। হ্যান্ডিং-টেকিং হয়। এগুলো কি লাগে না? এগুলো তো হয়নি। উনি যোগদান করেছেন কোথায়? আকাশে?’

আন্দোলনের কারণে শিক্ষকরা নতুন উপাচার্যের সঙ্গে দেখা করতে যাননি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা তো আন্দোলনে ছিলাম। আমরা ওখানে যাব কেন? আর ওখানে কীভাবে যাব? উনি একটা মেইল দিলে কি আমরা যেতে পারি? আমাদের যাওয়ার ব্যবস্থা থাকতে হবে না?’

শিক্ষার্থীদের দাবির বিষয়ে ওই শিক্ষক বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের দাবির সঙ্গে আমরা একমত। শিক্ষার্থীরা থাকবে। একটা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী আছে, শিক্ষার্থী অরিয়েন্টেড হতে হবে তো। শিক্ষার্থীরা যেহেতু একমত প্রকাশ করে নাই, আমরা শিক্ষার্থীদের বাইরে যেতে পারতেছি না।

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, আমরা এক চুয়েট পরিবার যে পরিবারের প্রাণস্পন্দনই হলো আমাদের সাধারণ ছাত্রছাত্রীরা। আমার মূল লক্ষ্য চুয়েটকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া, আর এই যাত্রায় আমি আমার স্নেহের ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে চাই। আমি ওদেরকে কোনো দূরত্বে রাখতে চাই না; বরং ছাত্রছাত্রীদের সার্বক্ষণিক পাশে নিয়ে, ওদের মনের ভাষা ও আকাঙ্ক্ষা অনুধাবন করে কাজ করতে চাই। একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মূল চালিকাশক্তিই হলো শিক্ষার্থীরা, তাদের নিরাপদ ও মেধানুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করা আমার প্রথম অগ্রাধিকার।

একই সাথে, একটি বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনায় সবচেয়ে বড় চালিকাশক্তি আমাদের শিক্ষক সমাজ। চুয়েটের সম্মানিত শিক্ষকবৃন্দের মেধা, অভিজ্ঞতা এবং নিষ্ঠাকে আমি গভীরভাবে সম্মান করি। চুয়েটকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে হলে আমাদের সবাইকে এক হয়ে কাজ করতে হবে। তাই খুব দ্রুতই আমি চুয়েটের জ্যেষ্ঠ ও তরুণ সকল শিক্ষক মহোদয়ের সাথে আলাদাভাবে বসব, তাদের সুচিন্তিত মতামত শুনব।

প্রসঙ্গত, ১৯৬৮ সালে প্রকৌশল কলেজ হিসেবে চুয়েটের যাত্রা শুরু হয়। পরে প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি বা বিআইটিতে রূপ নেয়। ২০০৩ সালের ১ সেপ্টেম্বর পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে কার্যক্রম শুরু করে চুয়েট। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়টির ১৮টি বিভাগে ৬ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী পড়ছেন। তবে আন্দোলনে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১২ বিভাগের ৫ হাজারের বেশি বলে বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানিয়েছে। উপাচার্য নিয়োগ নিয়ে বিরোধের প্রভাব এখন তাদের ক্লাস ও পরীক্ষার সূচিতে পড়ছে।

দেশবিরোধী চক্রান্তের কাছে জাতীয়তাবাদী শক্তি আত্মসমর্পণ করবে…
  • ০৭ অক্টোবর ২০২৬
জেট ফুয়েলের দাম লিটারে বাড়ল ১৭ টাকা
  • ০৭ অক্টোবর ২০২৬
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা বাড়ানোর সুপারিশ
  • ০৭ অক্টোবর ২০২৬
‎জাবির জঙ্গলে গভীর রাতে ৩ নারীসহ ৫ বহিরাগত, পুলিশের কাছে হস…
  • ০৭ অক্টোবর ২০২৬
সুপারভাইজার নিয়োগ দেবে ডেকো ফুডস, আবেদন ৩ নভেম্বর পর্যন্ত
  • ০৭ অক্টোবর ২০২৬
‘দুটির বেশি সন্তান নয়, একটি হলে ভালো হয়’—প্রচার অভিযানে ঘরে…
  • ০৭ অক্টোবর ২০২৬