রুয়েটে সার্টিফিকেট পেতে আর নয় ৮৭ ক্লিয়ারেন্স, আসছে অনলাইন সেবা

২৯ জুলাই ২০২৬, ১২:১৬ AM , আপডেট: ২৯ জুলাই ২০২৬, ১২:১৮ AM
রুয়েটে চালু হচ্ছে অনলাইন সেবা

রুয়েটে চালু হচ্ছে অনলাইন সেবা © টিডিসি ছবি

রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান হতে যাচ্ছে। এতদিন একটি সার্টিফিকেট পেতে ৮৭টি দপ্তর থেকে ক্লিয়ারেন্স নিতে হলেও এখন থেকে সেই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে অনলাইনে। আগামী ২৯ জুলাই থেকে মূল সনদ, প্রভিশনাল সার্টিফিকেট (পিপিসি) এবং চতুর্থ সনদসহ বিভিন্ন ধরনের সনদের জন্য শিক্ষার্থীরা ঘরে বসেই আবেদন করতে পারবেন।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এই অনলাইন সার্টিফিকেট আবেদন সেবার উদ্বোধন করেন রুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস. এম. আব্দুর রাজ্জাক। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ছাত্রকল্যাণ দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. রবিউল ইসলাম সরকার, সহকারী পরিচালক মো. আবু ইসমাইল সিদ্দিকী সাইফ, উপ-পরিচালক জেড. এইচ. এম. মঞ্জুর মোরশেদ, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন দপ্তরের পরিচালক ড. এইচ. এম. রাসেল, আইসিটি সেলের পরিচালক ড. মো. সামিউল হাবিব এবং রসায়ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মো. মাঈদুল ইসলাম।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, নতুন ডিজিটাল পোর্টালের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা আবেদন জমা দেওয়ার পর থেকে সার্টিফিকেট হাতে পাওয়া পর্যন্ত প্রতিটি ধাপ অনলাইনে অনুসরণ করতে পারবেন। ফলে আবেদন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বাড়বে, সময় বাঁচবে এবং অপ্রয়োজনীয় দাপ্তরিক জটিলতাও কমে আসবে।

দীর্ঘদিন ধরে রুয়েটের শিক্ষার্থীরা সার্টিফিকেট সংগ্রহ করতে গিয়ে চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছেন। একটি সার্টিফিকেটের জন্য ৮৭টি দপ্তর থেকে সশরীরে ক্লিয়ারেন্স বা স্বাক্ষর সংগ্রহ করতে হতো। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অনেক সময় পাওয়া যেত না। ফলে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করার পরও সাবেক শিক্ষার্থীদের কয়েক দিন ক্যাম্পাসে অবস্থান করে এক দপ্তর থেকে আরেক দপ্তরে ঘুরতে হতো। নতুন অনলাইন ব্যবস্থায় সেই জটিলতা দূর হচ্ছে। এখন আবেদন, ক্লিয়ারেন্স এবং আবেদনের অগ্রগতি—সবই অনলাইনে দেখা যাবে।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস. এম. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, “শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি কমানোর জন্যই আমরা এই উদ্যোগ নিয়েছি। এখন আর দপ্তর থেকে দপ্তরে ঘুরতে হবে না। মাত্র এক ক্লিকেই ক্লিয়ারেন্সের আবেদন সম্পন্ন করা যাবে। আপাতত ব্যক্তিগত সেবাগুলো চালু করছি। এরপর সব সেবাকে একত্র করে আমাদের ‘ভার্চুয়াল রুয়েট’ প্রকল্প বাস্তবায়ন করব। এই প্রকল্প নিয়ে একটি দল ইতোমধ্যে কাজ করছে। আমাদের লক্ষ্য পুরো রুয়েটকে ডিজিটালাইজ করা।”

ছাত্রকল্যাণ দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. রবিউল ইসলাম সরকার বলেন, “আগে শিক্ষার্থীদের ৮৭টি জায়গা থেকে ক্লিয়ারেন্স নিতে হতো। এই দুর্ভোগ দূর করতেই আমরা অনলাইন ক্লিয়ারেন্স ব্যবস্থা চালু করেছি। আমাদের অ্যালামনাইরা এখন বিদেশ থেকেও সহজে সনদ যাচাইয়ের আবেদন করতে পারবেন। আগে এই ভেরিফিকেশনের জন্য ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হলেও এখন মাত্র ৫০০ টাকায় করা যাচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, “আগে সার্টিফিকেট নিতে হলে সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে আবেদন করতে হতো। এখন শিক্ষার্থীরা অনলাইনে আবেদন করতে পারবে এবং ট্র্যাকিং সিস্টেমের মাধ্যমে আবেদন কোন পর্যায়ে আছে, সেটিও জানতে পারবে। ভবিষ্যতে দেশের যেকোনো স্থান থেকে সার্টিফিকেট গ্রহণের সুবিধাও যুক্ত করা হবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে হল ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা আগামী মাসে চালু হওয়ার কথা রয়েছে।”

তিনি জানান, ভবিষ্যতে এই সেবার সঙ্গে কুরিয়ার সুবিধাও যুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে অনলাইন সার্টিফিকেট আবেদন ব্যবস্থায় আরও নতুন ফিচার ও সেবা সংযোজন করা হবে।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই সফটওয়্যারটি তৈরি করেছেন রুয়েটের ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার রহমান। ছাত্রকল্যাণ দপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. আবু ইসমাইল সিদ্দিকীর তত্ত্বাবধানে তিনি সফটওয়্যারটি তৈরি করেন। এটি তৈরিতে বাইরের কোনো প্রতিষ্ঠানের সহায়তা নেওয়া হয়নি। ভবিষ্যতে সফটওয়্যারটির আরও উন্নয়ন করা হবে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, অনলাইন সার্টিফিকেট আবেদন ব্যবস্থা ইতোমধ্যে পরীক্ষামূলকভাবে সফলভাবে পরিচালিত হয়েছে। আগামী ২৯ জুলাই থেকে এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থীর জন্য উন্মুক্ত করা হবে। সংশ্লিষ্টদের আশা, এই উদ্যোগের মাধ্যমে সার্টিফিকেট সংগ্রহে দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান হবে এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও দ্রুত, স্বচ্ছ ও সময়োপযোগী হবে।

বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নিজেদের জ্ঞান ও দক্ষতা কাজে লাগিয়ে শিক্ষার্থীদের এমন উদ্ভাবনী উদ্যোগ ভবিষ্যতে আরও প্রযুক্তিনির্ভর সমাধান তৈরিতে অনুপ্রেরণা দেবে। একই সঙ্গে এটি শিক্ষার্থীদের বাস্তব সমস্যার সমাধানে প্রযুক্তির প্রয়োগের একটি সফল উদাহরণ হিসেবেও বিবেচিত হবে।

হৃদয়ের ঝড়ে জাফনার রোমাঞ্চকর জয়
  • ২৯ জুলাই ২০২৬
জবি ছাত্রশক্তির নেতৃত্বে শাহিন মিয়া ও ফেরদৌস শেখ
  • ২৯ জুলাই ২০২৬
রুয়েটে সার্টিফিকেট পেতে আর নয় ৮৭ ক্লিয়ারেন্স, আসছে অনলাইন স…
  • ২৯ জুলাই ২০২৬
এনসিপির ‘জুলাই পদযাত্রা’য় বিএনপি-ছাত্রদলের হামলার অভিযোগ, ত…
  • ২৮ জুলাই ২০২৬
আপনার পতন ছাত্রদল আর যুবদলই নিয়ে আসবে—প্রধানমন্ত্রীকে শিবির…
  • ২৮ জুলাই ২০২৬
সহপাঠীদের সঙ্গে সন্ধ্যায় ক্যাম্পাসের পুকুরে নেমে প্রাণ হারা…
  • ২৮ জুলাই ২০২৬