পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নবনিযুক্ত উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন অধ্যাপক ড. আবুল হাসনাত মোহা. শামীম। তার যোগদানের মধ্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় পেয়েছে সপ্তম উপাচার্য। তার নিয়োগকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন শিক্ষার্থীরা। নবনিযুক্ত উপাচার্যকে নিয়ে নিজেদের প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। তারা আশা করছেন, নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার মানোন্নয়ন, গবেষণার সুযোগ বৃদ্ধি এবং শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশ আরও সুদৃঢ় হবে।
প্রত্যাশার কথা জানিয়ে ইইসিই বিভাগের শিক্ষার্থী মুনতাহা খন্দকার রিতু বলেন, ‘পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী হিসেবে নতুন উপাচার্য স্যারের কাছে আমাদের প্রত্যাশা একটি আধুনিক ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলা। আমরা চাই বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা বৃদ্ধির জন্য কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জন্য ইন্টার্নশিপ বা তাদের কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারে এমন কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করা হোক। তা ছাড়া আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে এখনো পর্যন্ত কোনো সমাবর্তনের আয়োজন হয়নি, যা শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি। আমরা আশা করি, নতুন উপাচার্য স্যার এ বিষয়ে দ্রুত উদ্যোগ গ্রহণ করবেন।’
কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী রতন আহমেদ বলেন, ‘২০০৮ সালে প্রতিষ্ঠিত আমাদের প্রিয় বিশ্ববিদ্যালয়টি সম্ভাবনায় সমৃদ্ধ হলেও সমসাময়িক অনেক প্রতিষ্ঠানের তুলনায় এখনো সুযোগ-সুবিধা, গবেষণা ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের দিক থেকে কিছুটা পিছিয়ে রয়েছে। আমরা বিশ্বাস করি, আপনার দূরদর্শী ও যোগ্য নেতৃত্বে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় একদিন দেশ-বিদেশে স্বমহিমায় মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এমন একটি শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ প্রত্যাশা করি, যেখানে শিক্ষা, গবেষণা, আবাসন, ক্রীড়া, স্কিল ডেভেলপমেন্ট ও নেতৃত্ব বিকাশ প্রতিটি ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীরা নিজেদের প্রতিভা ও সক্ষমতা বিকশিত করার পূর্ণ সুযোগ পাবে। ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে ক্যাম্পাসে যে শান্তিপূর্ণ ও সুস্থ পরিবেশ বিরাজ করছে, তা যেন ভবিষ্যতেও অটুট থাকে। নোংরা রাজনীতি, বিভেদ ও অসুস্থ সংস্কৃতি যেন কখনো আমাদের প্রিয় ক্যাম্পাসে স্থান না পায়। শিক্ষা, মেধাচর্চা ও মানবিক মূল্যবোধই যেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল শক্তি হয়ে ওঠে। আপনার নেতৃত্বে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় আরও উজ্জ্বল ও সমৃদ্ধ হয়ে উঠবে এই প্রত্যাশা ও বিশ্বাস নিয়েই আপনাকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা জানাই।’
ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী মজনু আলম বলেন, ‘নবনিযুক্ত উপাচার্য মহোদয়ের কাছে আমাদের প্রত্যাশা তিনি যেন দল-মতের ঊর্ধ্বে থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদ্যমান সমস্যাগুলোর সমাধান করে একটি প্রকৃত শিক্ষা ও শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করেন, পারস্পরিক সহাবস্থান ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করেন, শিক্ষার্থীদের প্রকৃত প্রতিনিধি নির্বাচনের সুযোগ তৈরি করেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক মান, আয়তন ও কার্যপরিধি বৃদ্ধিতে দৃশ্যমান উদ্যোগ নেন।’
অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী কণিকা দেবনাথ বলেন, ‘পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী হিসেবে নতুন উপাচার্য স্যারের কাছে আমার প্রত্যাশা, তিনি যেন বিশ্ববিদ্যালয়কে আরও শৃঙ্খলাপূর্ণ, উন্নত ও শিক্ষার্থীবান্ধব করে তুলতে কাজ করেন। ক্যাম্পাসে পড়াশোনার সুন্দর পরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি লাইব্রেরি, ল্যাব ও অন্যান্য একাডেমিক সুবিধাগুলো আরও আধুনিক করা প্রয়োজন। শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়ন, ক্যারিয়ার গাইডলাইন ও নতুন সুযোগ তৈরির দিকেও গুরুত্ব দেওয়া উচিত। আমরা বিশ্বাস করি, তার নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয় নতুন সম্ভাবনার দিকে এগিয়ে যাবে।’
ইলেকট্রিক্যাল, ইলেকট্রনিক অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী কামিল আহমেদ বলেন, ‘একজন শিক্ষার্থী হিসেবে নতুন উপাচার্যের কাছে আমার প্রত্যাশা, তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করবেন, যাতে ফরম পূরণ থেকে শুরু করে হলের মিল সিস্টেমসহ সব সেবা আরও সহজ, স্বচ্ছ ও কার্যকর হয়। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের গবেষণামুখী করে তুলতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া জরুরি, যেন গবেষণাপত্র প্রকাশের ক্ষেত্রে এপিসি সহায়তাসহ প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পাওয়া যায়। যেসব বিভাগে ল্যাব সুবিধা প্রয়োজন, সেখানে আধুনিক যন্ত্রপাতি ও পর্যাপ্ত গবেষণা পরিবেশ নিশ্চিত করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় যেন মুক্ত চিন্তা, জ্ঞানচর্চা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার একটি নিরাপদ ক্ষেত্র হয়ে ওঠে, যেখানে শিক্ষার্থীরা নিজেদের ভাবনা নির্ভয়ে প্রকাশ করতে পারে, এটাই আমার প্রত্যাশা।’
সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী মুহাম্মদ আল ইমরান বলেন, ‘পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (পাবিপ্রবি) উত্তরবঙ্গের অন্যতম সম্ভাবনাময় বিদ্যাপীঠ। তবে বর্তমান বৈশ্বিক চাকুরির বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে শিক্ষার্থীদের শুধু একাডেমিক শিক্ষাই নয়, প্রয়োজন দক্ষতা ও ব্যবহারিক জ্ঞান। নতুন উপাচার্যের কাছে শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্কিল ডেভেলপমেন্ট ও ক্যারিয়ার গাইডেন্স প্ল্যাটফর্ম চালু করা, ল্যাব সুবিধার আধুনিকায়ন নিশ্চিত করা এবং প্রকৌশল বিভাগসমূহের জন্য দ্রুত আইইবি অনুমোদন আনা। আমরা বিশ্বাস করি, শিক্ষার্থীদের এই যৌক্তিক দাবিগুলো আন্তরিকভাবে বিবেচনা করে তিনি পাবিপ্রবিকে আরও এগিয়ে নিয়ে।’