চুয়েট আন্তঃবিভাগ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট ২০২৬ © সংগৃহীত
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) কেন্দ্রীয় মাঠে আজকের বিকেল ছিল শুধু একটি ফাইনাল ম্যাচের মুহূর্ত নয়, বরং ক্যাম্পাস ছড়িয়ে পড়া এক উৎসবের অধ্যায়। ধুলোমাখা সবুজ ঘাসের ওপর ব্যাট-বলের লড়াই যত গড়াচ্ছিল, ততই বাড়ছিল উত্তেজনা। কার হাতে উঠবে শিরোপা, সেই অপেক্ষা যেন চারপাশের বাতাসেও ছড়িয়ে পড়েছিল। অপেক্ষার ইতি টেনে ‘আন্তঃবিভাগ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট ২০২৬’-এর শিরোপা জিতে নেয় তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগ, এবং রানার্সআপ হয় বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ।
চুয়েটের শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্র কর্তৃক আয়োজিত ‘আন্তঃবিভাগ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট ২০২৬’-এর ফাইনাল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ ১৫ মে (শুক্রবার) বেলা সাড়ে তিনটায় বিশ্ববিদ্যালয়টির কেন্দ্রীয় মাঠে ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগ। রানার্সআপ হয়েছে বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ।
চূড়ান্ত খেলায় বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ প্রথমে ব্যাটিং করে ১০ উইকেটে ৫৯ রান সংগ্রহ করে। জবাবে ৬০ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগ বিনা উইকেটে ৬৩ রান সংগ্রহ করে এবং ১০ উইকেটে জয়ী হয়। টুর্নামেন্ট-এ সেরা খেলোয়াড় হয়েছে তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী নাসিম রহমান। টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ রান সংগ্রহ করেন (১৯১ রান) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী নাসিম রহমান এবং সর্বোচ্চ উইকেট সংগ্রহ করেন (৯ উইকেট) পুরকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী জান্নাতুল নাইম।
উক্ত ম্যাচে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম ৭ আসনের সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন চুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাহমুদ আব্দুল মতিন ভূইয়া।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে হুমাম কাদের চৌধুরী বলেন, ‘তরুণদের নিয়ে বর্তমান সরকার অনেক কাজ করছে। যে কষ্টটা আমাদের প্রজন্ম করছে, আমাদের পরের প্রজন্মকে যেন সে কষ্টটা করতে না হয়। চুয়েট-এর একজন ছাত্র বাংলাদেশের মধ্যে সবচেয়ে সফল প্রকৌশলী হিসেবে পরিচিত পেয়েছে শুনলে আমি সবচেয়ে গর্বিত হবো। কারণ এই এলাকার সন্তান আমি, এই চুয়েটসহ আরও অনেক প্রতিষ্ঠান স্থাপনে আমাদের পরিবারের অবদান রয়েছে।’
এসময় তিনি মেধাবী প্রজন্ম গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন এবং প্রচলিত রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার চেয়ে মেধাবী প্রজন্ম হিসেবে নিজেদের তৈরি করার আহ্বান জানান।
মাঠের এই লড়াইয়ে স্কোরবোর্ড শুধু জয়-পরাজয়ের হিসাব দেখায়নি, বরং তা চুয়েট ক্যাম্পাসে গড়ে ওঠা দলীয় চেতনা, সুস্থ প্রতিদ্বন্দ্বিতা আর বন্ধুত্বের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।