‘জিরো টাচ’-এর উদ্যোক্তা তিন শিক্ষার্থী © সংগৃহীত
রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (রুয়েট) শিক্ষার্থীদের ডকুমেন্টস প্রিন্টিং-সংক্রান্ত ভোগান্তি কমাতে চালু করা হয়েছে স্বয়ংক্রিয় প্রিন্টিং স্টেশন ‘জিরো টাচ’। বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হল গেটে স্থাপন করা হয়েছে এই আধুনিক অটোমেটেড প্রিন্টিং সেবাটি।
রুয়েটের শিক্ষার্থীদের নিয়মিত অ্যাসাইনমেন্ট, ল্যাব রিপোর্ট ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রিন্ট করতে প্রায়ই ভোগান্তি পোহাতে হয়। অনেক সময় দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়, আবার রাতে প্রিন্টিং দোকান বন্ধ থাকায় জরুরি প্রয়োজনে প্রিন্ট করা সম্ভব হয় না। এসব সমস্যা নিরসন এবং শিক্ষার্থীদের জন্য ২৪ ঘণ্টা প্রিন্টিং সুবিধা নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থীর উদ্যোগে চালু হয়েছে ‘জিরো টাচ’ প্রিন্টিং স্টেশন।
এই সেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীরা জানান, ‘জিরো টাচ’ একটি সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় ও সেলফ সার্ভিস প্রিন্টিং ব্যবস্থা। শিক্ষার্থীরা এখন তাদের হলের কক্ষ থেকেই নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটে (https://zerotouch313.github.io/) পিডিএফ বা ইমেজ ফাইল আপলোড করতে পারবেন। এরপর বিকাশ বা নগদের মাধ্যমে পেমেন্ট সম্পন্ন করে ট্রানজেকশন আইডি ভেরিফাই করলেই প্রিন্টার স্বয়ংক্রিয়ভাবে নির্ধারিত ডকুমেন্ট প্রিন্ট করে দেবে। এতে দোকানদারের শারীরিক উপস্থিতি ছাড়াই দ্রুত ও সহজে সেবা গ্রহণ করা সম্ভব হবে।
রুয়েট শিক্ষার্থীদের ব্যতিক্রমী এই উদ্যোগের অন্যতম সুবিধা হলো ‘কলেক্ট লেটার’ ফিচার। কোনো শিক্ষার্থী যদি তাৎক্ষণিকভাবে প্রিন্টিং স্টেশনে উপস্থিত থাকতে না পারেন, তবে তিনি রুম থেকেই ‘প্রিন্ট লেটার’ কমান্ডের মাধ্যমে পরবর্তী সময়ে সুবিধাজনক সময়ে এসে প্রিন্ট করা ডকুমেন্ট সংগ্রহ করতে পারবেন। প্রতিটি ডকুমেন্টের সঙ্গে নাম ও স্টুডেন্ট আইডি-সংবলিত একটি কভার পেজ যুক্ত থাকায় ডকুমেন্ট এলোমেলো হওয়ার সম্ভাবনাও থাকে না।
রুয়েটের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের তিন শিক্ষার্থী—ইবনে ছুফিয়ান মুহাম্মদ তাছীন, মো. নাঈমুল ইসলাম নাঈম ও মো. আরাফাত রহমান যৌথভাবে এই সেবাটি চালু করেছেন। এখানে সাদা-কালো প্রিন্ট প্রতি পৃষ্ঠা ২ টাকা এবং রঙিন প্রিন্ট প্রতি পৃষ্ঠা ৩ টাকা হারে পাওয়া যায়। বিকাশ বা নগদ মোবাইল ব্যাংকিং সার্ভিসের মাধ্যমে সহজেই পেমেন্ট করা যায়।
২৪ ঘণ্টা প্রিন্টিং সেবা চালু থাকায় শিক্ষার্থীরা এখন যেকোনো সময় জরুরি প্রয়োজনে প্রিন্ট করতে পারছেন।
উদ্যোক্তারা জানান, কারিগরি দিক থেকে জিরো টাচ সিস্টেমটি সম্পূর্ণ প্রস্তুত এবং কার্যকরভাবে পরিচালিত হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সাড়া ও সিস্টেমের কার্যকারিতা পর্যবেক্ষণ করে অচিরেই বৃহৎ পরিসরে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পরিকল্পনা রয়েছে।
হলের আবাসিক শিক্ষার্থীরা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। প্রযুক্তিনির্ভর এই সেবাটি শিক্ষার্থীদের সময় সাশ্রয়ের পাশাপাশি ক্যাম্পাসের দৈনন্দিন কার্যক্রমকে আরও সহজ ও গতিশীল করবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। রুয়েট প্রশাসনের সহযোগিতা এবং শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী ভাবনায় গড়ে ওঠা জিরো টাচ ভবিষ্যতে পুরো ক্যাম্পাসে সম্প্রসারিত হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।