নোবিপ্রবি ভিসির বিরুদ্ধে নিয়োগে দুর্নীতি–অনিয়মের অভিযোগ বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের

১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০২:১৭ AM
বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের সংবাদ সম্মেলনে

বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের সংবাদ সম্মেলনে © সংগৃহীত

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) উপাচার্য মুহাম্মদ ইসমাইলের বিরুদ্ধে শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন সাদা দলের নেতারা। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নোয়াখালী প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষক নেতারা সাত দিনের মধ্যে উপাচার্য, সহ–উপাচার্য ও ট্রেজারারের অপসারণ দাবি করেন। সাদা দলের সভাপতি অধ্যাপক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। এ সময় সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক জাহাঙ্গীর সরকার ও সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক আবদুল কাইয়ুম মাসুদ উপস্থিত ছিলেন। অন্যদের মধ্যে ছিলেন ফয়জুন্নেসা হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক আবিদুর রহমান, অধ্যাপক জামাল উদ্দিন, আবদুর বারেক, মিনহাজুল আবেদীন, জনি মিয়া, মোকাররম হোসেন, সাদ্দাম হোসেন ও মোজাম্মেল হোসেন।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, বর্তমান উপাচার্য দায়িত্ব নেওয়ার পর ৩৪ জন শিক্ষক নিয়োগ দিয়েছেন, যাদের মধ্যে ৩১ জন জামায়াতপন্থী বলে দাবি করা হয়। বাকি তিনজন বিএনপি ও অন্যান্য মতাদর্শের। এছাড়া ২১ জন কর্মকর্তা নিয়োগের মধ্যে ১৯ জন জামায়াতপন্থী এবং তাদের সাতজন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি ও সেক্রেটারি ছিলেন বলেও অভিযোগ করা হয়। উপাচার্যের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা ও ট্রেজারার দপ্তরের এক সহকারী পরিচালকের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়। নিয়োগপ্রাপ্ত নয়জন শিক্ষকের একাডেমিক যোগ্যতা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করা হয়; তাদের মধ্যে দুজনের কোনো প্রকাশনা নেই বলে দাবি করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, নিয়ম অনুসরণ না করে সহযোগী অধ্যাপক পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে একমাত্র প্রার্থী নিয়ে নিয়োগ বোর্ড বসানো হয়। তড়িৎ প্রকৌশল (ইইই) বিভাগে নিয়োগ পরীক্ষায় প্রথম হওয়া এক নারী প্রার্থীকে বাদ দিয়ে অন্য একজনকে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগও তোলা হয়।

আর্থিক ও প্রশাসনিক অনিয়মের অভিযোগ তুলে শিক্ষক নেতারা দাবি করেন, ভর্তি পরীক্ষায় সাধারণ শিক্ষকেরা ২৬ হাজার টাকা সম্মানী পেলেও উপাচার্য, সহ–উপাচার্য ও ট্রেজারার প্রত্যেকে দুই লাখ টাকা করে নিয়েছেন। ভর্তি পরীক্ষার সফটওয়্যার উন্নয়নের নামে ৫ লাখ ৩১ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগও করা হয়।

এছাড়া গত দুই মাসে উপাচার্য, সহ–উপাচার্য ও ট্রেজারারের কক্ষ সংস্কারে ৭৬ লাখ টাকা ব্যয় এবং আরও ১৮ লাখ টাকার বৈদ্যুতিক সামগ্রী স্থাপনের কাজ চলমান রয়েছে বলেও দাবি করা হয়।

লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, উপাচার্য বিজ্ঞান অনুষদের শিক্ষক হওয়া সত্ত্বেও একাউন্টিং, পলিটিক্যাল সায়েন্স, বাংলা ও আইনসহ বিভিন্ন বিষয়ের প্রশ্নপত্র প্রণয়ন ও মডারেশনে যুক্ত হচ্ছেন। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) নীতিমালা লঙ্ঘন করে নিয়োগ বোর্ড গঠনের অভিযোগও তোলা হয়।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উপাচার্য মুহাম্মদ ইসমাইল বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর নিয়োগে মেধা ও যোগ্যতাকেই প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। দলীয় বিবেচনায় নিয়োগের অভিযোগ ভিত্তিহীন। তার ভাষ্য, প্রতিটি নিয়োগ বোর্ড ইউজিসির নীতিমালা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী গঠিত হয়েছে এবং সেখানে এককভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ নেই। তিনি বলেন, ‘যাঁরা এখন অভিযোগ করছেন, তাঁদের অনেকেই বিভিন্ন নিয়োগ বোর্ডে ছিলেন। অনিয়ম হয়ে থাকলে তখন তাঁরা আপত্তি তোলেননি কেন?’

সফটওয়্যার উন্নয়ন বিল ও কক্ষ সংস্কারের ব্যয়ের বিষয়ে উপাচার্য দাবি করেন, সংশ্লিষ্ট বিল নিয়ম মেনেই পরিশোধ করা হয়েছে এবং সংস্কারকাজ সরকারি বিধি অনুযায়ী দরপত্রের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে। কোনো ধরনের অনিয়ম হয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পর্যালোচনা করা যেতে পারে।

জবি ছাত্রদল কর্তৃক হল সংসদ নেত্রীকে ‘হেনস্তার’ ঘটনায় নিন্দা…
  • ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
‘না’ ভোট দেয়া ২ কোটি ২৫ লাখ নাগরিকের চাওয়া আসলে কী
  • ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
নোবিপ্রবি ভিসির বিরুদ্ধে নিয়োগে দুর্নীতি–অনিয়মের অভিযোগ বিএ…
  • ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
রমজানে ঢাবিতে খাদ্যের মান বাড়িয়ে মূল্য হ্রাসের দাবি ছাত্রদল…
  • ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বাংলাদেশের গণমাধ্যমের জন্য একটি কালো দিন আজ: সাদিক কায়েম
  • ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ইফতারি নিয়ে ফেরার পথে প্রাণ গেল এক যুবকের, আহত আরও ১
  • ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬