পদোন্নতির অনিয়মসহ পবিপ্রবির বঙ্গবন্ধু পরিষদের কর্মকর্তার বিরুদ্ধে লাগামহীন দুর্নীতির অভিযোগ

২৯ নভেম্বর ২০২৫, ০৪:০২ PM , আপডেট: ২৯ নভেম্বর ২০২৫, ০৪:০২ PM
সৈয়দ নিজাম উদ্দিন

সৈয়দ নিজাম উদ্দিন © সংগৃহীত

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) অর্থ ও হিসাব শাখার এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পদোন্নতিতে অনিয়ম, অর্থ ও হিসাবের সমন্বয়হীনতা এবং ব্যক্তিগত স্বার্থসিদ্ধির মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত কর্মকর্তা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ ও হিসাব শাখার কর্মকর্তা, ডেপুটি রেজিস্ট্রার সৈয়দ নিজাম উদ্দিন। তিনি বঙ্গবন্ধু কর্মকর্তা-কর্মচারী পরিষদের একজন নির্বাহী সদস্য।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সৈয়দ নিজাম উদ্দিনের পবিপ্রবিতে সেকশন অফিসার পদে নিয়োগের জন্য সার্কুলারে শর্ত ছিল–শিক্ষা জীবনে অন্তত একটিতে অবশ্যই প্রথম শ্রেণি থাকতে হবে। কিন্তু তার সংশ্লিষ্ট নথি বিশ্লেষণ করে দেখা যায় সৈয়দ নিজামের শিক্ষা জীবনের কোথাও কোনো প্রথম শ্রেণির ফলাফল নেই। এ সত্ত্বেও তৎকালীন আওয়ামী লীগ নেতাদের মোটা অঙ্কের অর্থ ঘুষের বিনিময়ে তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়।

২০১৬ সালের ১৯ এপ্রিল অনুষ্ঠিত বাছাই বোর্ডের সুপারিশক্রমে এবং একই বছরের ৪ জুন রিজেন্ট বোর্ডের ৩৭তম সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলে (বর্তমান–বিজয় ২৪ হল) সেকশন অফিসার (গ্রেড-৯) পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। কিন্তু বিস্ময়করভাবে কেবল ৪ বছরের পরই সরকারি পর্যায়োন্নয়ন নীতিমালার কোনো তোয়াক্কা না করে সৈয়দ নিজামকে ২০২০ সালের ২৯ নভেম্বরের বাছাই বোর্ড ও ১৯ ডিসেম্বরের রিজেন্ট বোর্ডের ৪৬তম সভার সিদ্ধান্ত দেখিয়ে একই হলের (বঙ্গবন্ধু হল) ডেপুটি রেজিস্ট্রার (গ্রেড-৫) পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়।

অভিযোগকারীদের দাবি, এ প্রক্রিয়ায় তৎকালীন প্রশাসনকে বিভিন্নভাবে ‘ম্যানেজ’ করে লোকদেখানো ১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি করে এই অনৈতিক পর্যায়োন্নয়ন নিয়েছিলেন নিজাম।

হিসাব শাখার বিভিন্ন দায়িত্বে থেকে সৈয়দ নিজাম উদ্দিন বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক কর্মকাণ্ডে অনিয়ম করে ব্যক্তিগতভাবে বিপুল পরিমাণ অর্থ আয় করেছেন এমন অভিযোগ করেছেন একাধিক কর্মকর্তা–কর্মচারীর মধ্যে। তাদের দাবি, তিনি পটুয়াখালী জেলা শহরের বিলাসবহুল বনানী এলাকায় জমি ক্রয়সহ জৈনকাঠি গ্রামসহ আরও কয়েকটি স্থানে জমি কিনেছেন, যার উৎস নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। হিসাব শাখার কোনো বিষয়ের দরকারে নিজামের কাছে গেলে তিনি অর্থ দাবি করেন বলেও একাধিক কর্মকর্তার অভিযোগ করেছেন।

প্রতিবেদকের কাছে আসা নথি অনুসারে, সৈয়দ নিজাম ছিলেন বঙ্গবন্ধু কর্মকর্তা-কর্মচারী পরিষদের ৩ নং নির্বাহী সদস্য। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের একাধিক অভিযোগে বলা হয়েছে তিনি আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি আফজাল হোসেনের কথিত নিকটাত্মীয়ের পরিচয়ে অনৈতিক প্রভাব, ঘুষ ও ব্যক্তিগত স্বার্থসিদ্ধির মাধ্যমে বহু বছর ধরে হিসাব শাখায় প্রভাবশালী অবস্থান ধরে রেখেছেন। শুধু তাই নয়, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের পরও তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান উচ্চতর প্রশাসনের সাথে সখ্যতা বজায় রেখে তার অনিয়ম দুর্নীতি নির্দ্বিধায় চালিয়ে যাচ্ছেন।

প্রাপ্ত নথি বিশ্লেষণে আরও জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন শিক্ষক বছরের পর বছর ধরে অনৈতিকভাবে অতিরিক্ত উৎকোচ গ্রহণ করেছেন। নিজামের নিজের পছন্দের বিভিন্ন শিক্ষককে বেতনাদির সাথে অনৈতিকভাবে অতিরিক্ত ভাতা প্রদান করার প্রমাণাদি ইতোমধ্যে সংগ্রহ করা হয়েছে। এতোকিছু জানার পরও প্রশাসন কোনো রকম ব্যবস্থা তার বিরুদ্ধে নিতে অপারগ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব শাখার লোন কমিটির সদস্য হিসেবে নিজের অবস্থান ব্যবহার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক–কর্মকর্তা–কর্মচারীদের গৃহনির্মাণ ঋণ থেকে বড় অঙ্কের অর্থ আদায়ের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বেতন প্রস্তুতের দায়িত্বে থাকায় যাদের সঙ্গে তার সম্পর্ক ভালো, তাদের সুবিধা দেওয়া এবং অপছন্দের বেতন কমিয়ে দেওয়ার অভিযোগ করেছেন কয়েকজন শিক্ষক-কর্মকর্তা।

জানা যায়, ৫ আগস্ট ২০২৪ এর পর তাকে পূর্ববর্তী হলে (বিজয়-২৪ হল) স্থানান্তরের কথা উঠলে তিনি গোপনে প্রশাসনের উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের বিভিন্নভাবে ‘ম্যানেজ’ করে আবারও পূর্বের অফিস হিসাব শাখায় বহাল থাকেন।

অভিযোগের বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হলে ডেপুটি রেজিস্ট্রার সৈয়দ নিজাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দপ্তরে আমার ফাইল সব আছে, আমার বিষয়ে তাদেরকে প্রশ্ন করেন তারাই ভালো বলতে পারবে। আমার পদোন্নতিতে কোনো অনিয়ম কিংবা আমি কোনো দুর্নীতি করলে সেটার যদি প্রমাণ পায় প্রশাসন, আমার বিরুদ্ধে যে ব্যবস্থা নেবে আমি তা মেনে নেব।

শিক্ষাজীবনের কোনো পর্যায়ে তার ফার্স্ট ক্লাস রেজাল্ট আছে কিনা, থাকলেও কোন কোন পর্যায়ে আছে প্রশ্ন করা হলে তিনি কোনো সুস্পষ্ট উত্তর দিতে পারেননি বরং তিনি এ বিষয়েও রেজিস্ট্রার দপ্তর ভালো বলতে পারবে বলে জানান।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পটুয়াখালী জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক তাপস বিশ্বাস বলেন, সৈয়দ নিজামের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগসমূহের ব্যাপারে আমরা দুদক সদর দপ্তরকে অবহিত করবো। অভিযোগের সুনির্দিষ্টতা থাকলে আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ করবো।

এই বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অ.দা.) অধ্যাপক ড. ইকতিয়ার উদ্দিন বলেন, সৈয়দ নিজামের পদোন্নতিতে যদি কোনো অসামঞ্জস্যতা থাকে তবে সে বিষয়ে আমরা খোঁজ নেব। তদন্ত অনুসারে যদি অভিযোগ প্রমাণিত হয় আমরা ব্যবস্থা নেব।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. কাজী রফিকুল ইসলাম বলেন, এসব অভিযোগের বিষয়গুলো নিয়ে আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের সাথে আলোচনা করবো। পদোন্নতির আইনের লঙ্ঘন কিংবা দুর্নীতির প্রমাণ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইনানীতে গ্যাসের আগুন: কত দিন জ্বলবে, কীভাবে মিলবে স্থায়ী সম…
  • ০৩ নভেম্বর ২০২৬
ফের গ্যাসের দাম বৃদ্ধি জনস্বার্থবিরোধী সিদ্ধান্ত দাবি করে ব…
  • ০৩ নভেম্বর ২০২৬
৪ তারিখের আন্দোলন কর্মসূচি থেকে সরে এসেছেন এমপিওভুক্ত শিক্ষ…
  • ০৩ নভেম্বর ২০২৬
২৫ হাজার বোলার থেকে উঠে এলেন সেরা ২১, পুরস্কৃত করল বিসিবি
  • ০২ নভেম্বর ২০২৬
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও ভাইরাল, জামায়াত নেতার পদ স্থগিত
  • ০২ নভেম্বর ২০২৬
ক্রিকেটারদের জন্য নতুন উদ্যোগ নিচ্ছে বিসিবি, ইঙ্গিত দিলেন ত…
  • ০২ নভেম্বর ২০২৬
×
NORTH SOUTH
UNIVERSITY Center of Excellence
UNDERGRADUATE
ADMISSION
SPRING 2027
APPLY NOW
APPLICATION DEADLINE
NOVEMBER 22, 2026
ADMISSION TEST
NOVEMBER 28, 2026
WORLD RANKINGS 2027#801-1000
WORLD RANKINGS 2027#901-950