র‍্যাঙ্কিংয়ে চমক নোবিপ্রবির, প্রথমবারেই দেশসেরা ১২তম বিশ্ববিদ্যালয়

০৯ অক্টোবর ২০২৫, ০৫:২৮ PM
নোবিপ্রবি

নোবিপ্রবি © টিডিসি সম্পাদিত

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (নোবিপ্রবি) প্রথমবারের মতো বিশ্বখ্যাত টাইমস হায়ার এডুকেশন (টিএইচই) কর্তৃক প্রকাশিত ‘ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র‍্যাঙ্কিং ২০২৬’-এ স্থান করে নিয়েছে। এই মাইলফলক অর্জন করে বিশ্ববিদ্যালয়টি দেশের মধ্যে ১২তম অবস্থানে রয়েছে এবং বিশ্ব র‍্যাঙ্কিংয়ে অবস্থান ১২০১ থেকে ১৫০০-এর মধ্যে। আজ বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) টিএইচই তাদের ওয়েবসাইটে ২০২৬ সালের র‍্যাঙ্কিং প্রকাশ করে। বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মানদণ্ড হিসেবে এই র‍্যাঙ্কিং তালিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত। প্রথমবারেই এমন আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট সবাই উচ্ছ্বসিত। আর উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইসমাইল বলছেন, সকলের প্রচেষ্টায় প্রথমবারেই র‍্যাঙ্কিংয়ে চমক দেখিয়েছে নোবিপ্রবি। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি। 

স্বতন্ত্র দপ্তরের উদ্যোগেই সাফল্য
এই অর্জনটি নোবিপ্রবির জন্য এক বিশেষ গুরুত্ব বহন করে বলে জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। আগে আন্তর্জাতিক র‍্যাঙ্কিংয়ে স্থান পাওয়ার জন্য তেমন কোনো উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ বা আলাদা দপ্তর ছিল না। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতি বছরই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি থেকে বঞ্চিত হতো। তবে, গত বছর জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর গঠিত নতুন প্রশাসন ‘নোবিপ্রবি র‍্যাঙ্কিং এন্ড স্ট্র্যাটেজি সেল’ নামে একটি স্বতন্ত্র দপ্তর প্রতিষ্ঠা করে। এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে এই নতুন উদ্যোগের ফলশ্রুতিতেই নোবিপ্রবি আজ এই বৈশ্বিক স্বীকৃতি অর্জন করলো।

র‍্যাঙ্কিংয়ে প্রথমবারেই বাজিমাত করায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও গবেষকরা বেশ আশাবাদী। ফিশারিজ এন্ড মেরিন সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ও গবেষক ড. মোহাম্মদ বেলাল হোসাইন এটিকে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের জন্য একটি 'বড় অর্জন' হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি বলেন, “তুলনামূলকভাবে নতুন একটি প্রতিষ্ঠান হয়েও নোবিপ্রবি এই অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেছে। সারাবিশ্বে গবেষণার ক্ষেত্রে আমরা ৭২২তম অবস্থানে রয়েছি, যা আমাদের গবেষণার উন্নত মানকে স্পষ্ট করে। এই র‍্যাংকিংয়ের ফলে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা স্কলারশিপ, ফান্ডিং ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে আরও বেশি সুযোগ সুবিধা পাবেন। বিদেশে এখন আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম বললে গর্বের সাথে বলা যাবে যে এটি বিশ্বের ১২০০ থেকে ১৫০০-এর মধ্যে অবস্থান করছে।”

এই অর্জন নিয়ে উচ্ছ্বাস থাকলেও শিক্ষার্থীরা র‍্যাঙ্কিং-এর পাশাপাশি মৌলিক সমস্যা সমাধানেও প্রশাসনের ইতিবাচক ভূমিকা দেখতে চান। এ বিষয়ে বায়োটেকনোলজি এন্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী জাহেদুল হক বলেন, “কোনো ইউনিভার্সিটির শিক্ষার মান শুধু বিশ্ব র‍্যাংকিং দেখে বুঝা যায় না। আমাদের মোট শিক্ষার্থীর কত শতাংশ শিক্ষার্থী তাদের ক্যারিয়ার জীবনে ভালো করলো, এটা ফোকাসে রাখা উচিত। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উচিত ক্যারিয়ারমুখী কোর্স বাধ্যতামূলক করে দেওয়া। র‍্যাংকিং নিয়ে কাজ করার পাশাপাশি মৌলিক বিষয়াবলি যত উন্নত করা যাবে, সেটা র‍্যাংকিংয়ের অগ্রগতিতেও সহায়ক ভূমিকা রাখবে।”

র‍্যাঙ্কিং প্রক্রিয়া নিয়ে শুরু থেকেই যুক্ত থাকা নোবিপ্রবি র‍্যাঙ্কিং এন্ড স্ট্র্যাটেজিক ডেভেলপমেন্ট সেলের অতিরিক্ত পরিচালক ও ফার্মেসি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফাহাদ হোসাইন জানান, নতুন দপ্তর হিসেবে আমাদের কাছে ডেটা গোছানো ছিল না। আমরা অতি অল্প সময়ের মধ্যে যতটুকু ডেটা সংগ্রহ করতে পেরেছি, সেটাই এপ্রিল মাসে জমা দিই। যেখানে অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় এক্সপার্ট লোক নিয়োগ করে, সেখানে আমরা নিজেদের লোকাল সাপোর্ট নিয়ে এই কাজ করেছি।”

তিনি আরও বলেন, এই স্বীকৃতির সবচেয়ে বেশি সুফল ভোগ করবে আমাদের ছাত্র-ছাত্রীরা, যারা উচ্চতর গবেষণায় ভালো প্রতিষ্ঠানে সুযোগ পাবেন।

নোবিপ্রবি র‍্যাঙ্কিং এন্ড স্ট্র্যাটেজিক ডেভেলপমেন্ট সেলের পরিচালক ও উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. রেজওয়ানুল হক অত্যন্ত আনন্দ প্রকাশ করে বলেন, “আলহামদুলিল্লাহ, আমরা যতটুকু আশা করিনি তার চেয়েও বেশি ফলাফল পেয়েছি। তবে এটা মাত্র শুরু, অনেক পথ বাকি। আমাদের স্বপ্ন হচ্ছে নোবিপ্রবিকে বাংলাদেশে সেরা পাঁচটি এবং বিশ্বে সেরা ১০০০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে দেখতে পাওয়া। আশা করি সবার সহযোগিতায় আমরা তা অর্জন করতে পারবো।”

নোবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইসমাইল বলেন, সকলের প্রচেষ্টায় প্রথমবারেই র‍্যাঙ্কিংয়ে চমক দেখিয়েছে নোবিপ্রবি। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি। শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী সকলের সহযোগিতায় এই অবস্থানে আসতে পেরেছি। আমাদের সামনে অনেক দূর যেতে হবে। এক্ষেত্রে এলাকাবাসী সহ সকল অংশীজনদের আমরা চাই। যেহেতু আমরা গবেষণায় ভালো করেছি কিন্তু কিছু বিষয়ে পিছিয়ে আছি। যে বিষয়গুলোতে পিছিয়ে আছি সেগুলিতে উন্নতি করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সহ সংশ্লিষ্ট সকলের কাছে আবেদন করবো। এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের মান উন্নয়নে জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাবো।”

এবারের র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের মোট ২৮টি বিশ্ববিদ্যালয় স্থান পেয়েছে। যার মধ্যে ২২টি সরাসরি র‍্যাঙ্কিংয়ে এবং বাকি ছয়টি রিপোর্টার ক্যাটাগরিতে জায়গা করে নিয়েছে। শিক্ষার মান, শিক্ষার্থী-শিক্ষকের অনুপাত, গবেষণার মান, সাইটেশন, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীসহ কয়েকটি সূচকের ওপর ভিত্তি করে টিএইচই এই র‍্যাঙ্কিং প্রকাশ করে।

কল্পনাও করিনি গানটি এত সমাদৃত হবে— দাঁড়িপাল্লার গান নিয়ে যা…
  • ১৬ জানুয়ারি ২০২৬
ইউআইইউতে টেকসই উন্নয়ন বিষয়ক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত
  • ১৬ জানুয়ারি ২০২৬
আইইউবিএটির ৩৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন
  • ১৬ জানুয়ারি ২০২৬
ঢাবি শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্…
  • ১৬ জানুয়ারি ২০২৬
ডিআইএমএফএফ ও ইনফিনিক্সের উদ্যোগে ‘প্রাউড বাংলাদেশ’ মোবাইল ফ…
  • ১৬ জানুয়ারি ২০২৬
বিএনপির দেশ গড়ার পরিকল্পনা শীর্ষক প্রশিক্ষণ কর্মশালা চট্টগ্…
  • ১৬ জানুয়ারি ২০২৬
X
UPTO
100%
MERIT BASED
SCHOLARSHIP
ADMISSION OPEN FOR
SPRING 2026
Application Deadline Wednesday, 21 January, 2026
Apply Now

Programs Offered

  • BBA
  • Economics
  • Agriculture
  • English
  • CSE
  • EEE
  • Civil
  • Mechanical
  • Tourism & Hospitality
01810030041-9