দিনে ক্লাস, সন্ধ্যায় দোকান—স্বপ্নকে এগিয়ে নিচ্ছেন যবিপ্রবি শিক্ষার্থী রুবেল

২১ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১০:১২ PM
মো. রুবেল হোসেন

মো. রুবেল হোসেন © টিডিসি সম্পাদিত

দিনভর ক্লাস শেষে বিকেলের ক্লান্ত শরীর নিয়ে যখন অন্য শিক্ষার্থীরা বিশ্রাম নেন বা আড্ডায় মেতে থাকেন, তখন যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী মো. রুবেল হোসেনের শুরু হয় জীবনের আরেক অধ্যায়। হাতে বইখাতা নয়, চামচ, কড়াই আর দোকানের ছোট্ট কাউন্টার। ক্রেতারা এসে দাঁড়ান, কেউ পেঁয়াজু চান, কেউবা চপ। ক্লান্তি থাকলেও রুবেলের মুখে লেগে থাকে হাসি। কারণ এই হাসির আড়ালে আছে আত্মনির্ভরতার তীব্র আনন্দ, নিজের পায়ে দাঁড়ানোর এক অদম্য প্রত্যয়।

রুবেলের পারিবারিক অবস্থা মাঝামাঝি। তবুও তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “আমি কাজ করি অর্থের জন্য নয়, আমি কাজ করি নিজের আত্মসম্মানের জন্য। আমি চাই নিজের খরচ নিজে চালাতে, পরিবারকে সাহায্য করতে।” তাই তো তিনি পড়াশোনার পাশাপাশি চালাচ্ছেন একটি ফাস্টফুড দোকান।

পড়াশোনার পাশাপাশি খরচ চালানোর জন্য আগে টিউশনি করতেন রুবেল। কিন্তু সেই সামান্য টাকায় সব কিছু সামলানো ছিল দুঃসাধ্য। তখনই তার মনে হলো, টিউশনির পাশাপাশি আরেকটা কিছু করতে হবে। সেই চিন্তা থেকেই তার ভিতরে জন্ম নিল ছোট্ট ফাস্টফুড দোকানের গল্প। তবে একা নয়, সেই গল্পের নেপথ্যে আছেন এক বড় ভাই মিলন। তিনি কৃতজ্ঞতার সঙ্গে বলেন, “ভাই আমার জন্য যা করেছেন, তা নিঃস্বার্থভাবে করেছেন। তার প্রতি আমার ভালোবাসা আর দোয়া কখনো ফুরাবে না।”

প্রতিদিন সকাল ৯টা ৩০ মিনিট থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস শেষে সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দোকান সামলান রুবেল। কোনো দিন ক্লাস আগে শেষ হলে দোকানও আগে খুলে দেন। টিউশনের সময়টাও কাজে লাগান দোকানে। তাই পড়াশোনা ও ব্যবসা দুটিই সমানতালে এগিয়ে নিতে সক্ষম হচ্ছেন তিনি।

যদিও শারীরিক পরিশ্রম অনেক বেশি করতে হয় এবং ক্লান্তি আসে, তবে পড়াশোনায় তেমন কোনো ক্ষতি হয় না বলে জানালেন রুবেল। বরং পড়াশোনার বাইরে এই কাজ তাকে আত্মবিশ্বাসী করছে প্রতিদিন। তার ভাষায়, “কোনো কাজই ছোট নয়। এই কাজ করতে গিয়ে আমার আত্মসম্মান নষ্ট হয়নি, বরং অনেক বেড়েছে।”

সহপাঠী ও বন্ধুদের কাছ থেকে পেয়েছেন অকৃত্রিম সমর্থন। কেউ কটু কথা বলেনি, বরং সবাই তাকে উৎসাহ দিয়েছে। শিক্ষকরাও তার এই উদ্যোগকে প্রশংসার চোখে দেখছেন। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে এখনো বিশেষ কোনো সুযোগ-সুবিধা পাননি তিনি।

দোকান থেকে যা আয় হয়, তা দিয়ে নিজের খরচ সামলানোর পাশাপাশি পরিবারকেও কিছুটা সাহায্য করতে পারেন তিনি। এতে অর্থনৈতিক চাপ অনেকটাই কমেছে। তবে রুবেলের চোখ শুধু এই দোকানের চার দেয়ালে আটকে নেই। তার বড় স্বপ্ন—একজন বিসিএস ক্যাডার হওয়া। পাশাপাশি সুযোগ পেলে কৃষি নিয়েও কাজ করার ইচ্ছে আছে বলে জানালেন রুবেল। তিনি জানান, এই দোকান তার জীবনের চূড়ান্ত লক্ষ্য নয়, এখান থেকে তিনি শিখছেন দায়িত্ব, পরিশ্রম এবং সংগ্রামের মূল্য।

রুবেল অন্য শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, “কোনো কাজই তুচ্ছ নয়। তাই কাজ করি, দেশ গড়ি।”

রুবেলের গল্প শুধু নিছক কোনো গল্প নয়। এটি এক তরুণের লড়াই, সম্মান আর স্বপ্নের গল্প। বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাসরুম থেকে দোকানের কাউন্টার—প্রতিটি মুহূর্তেই তিনি প্রমাণ করছেন, স্বপ্ন পূরণে সবচেয়ে বড় শক্তি হলো নিজের উপর বিশ্বাস, আর কষ্টকে হাসিমুখে গ্রহণ করার সাহস।

ঢাবি অধ্যাপকের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা নিয়ে নিজ অবস্থান জানালেন হা…
  • ১৯ মার্চ ২০২৬
কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে রাকিব হত্যায় অস্ত্র-গুলিসহ গ্রেফতার ৫
  • ১৯ মার্চ ২০২৬
ভিন্ন সাজে জাতীয় ঈদগাহ
  • ১৯ মার্চ ২০২৬
সদরঘাটে লঞ্চ সংঘর্ষ: ৬ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন
  • ১৯ মার্চ ২০২৬
দেশের প্রেক্ষাপটে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য কেমন হওয়া উচিত?
  • ১৯ মার্চ ২০২৬
ঈদযাত্রায় হতাহতের ঘটনায় শোক ও উদ্বেগ জামায়াত ইসলামীর
  • ১৯ মার্চ ২০২৬
×
  • Application Deadline
  • April 1, 2026
  • Admission Test
  • April 4, 2026
APPLY
NOW!
UNDERGRADUATE ADMISSION
SUMMER 2026!
NORTH SOUTH UNIVERSITY
Center of Excellence