ফেসবুকে কমেন্টের জেরে নোবিপ্রবির সাবেক শিক্ষার্থীকে আ.লীগ নেতার হুমকি
- নোবিপ্রবি প্রতিনিধি
- প্রকাশ: ২৫ মার্চ ২০২৫, ১০:৫০ AM , আপডেট: ২৫ মার্চ ২০২৫, ১০:৫৭ AM

ফেসবুক কমেন্টের জেরে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) সাবেক শিক্ষার্থীকে পিঠের চামড়া তুলে নেওয়ার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে কুমিল্লার বরুড়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ডের সাধারণ সম্পাদক ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হুদা ইকবালের বিরুদ্ধে।
ফেসবুক ম্যাসেঞ্জারে কল দিয়ে না পেয়ে একটি ভয়েস ম্যাসেজের মাধ্যমে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে এই হুমকি দেন নাজমুল।
সম্প্রতি ‘বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের’ কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক আবু বাকের মজুমদারের একটি ফেসবুক পোস্টে বাজে মন্তব্য করে নাজমুল বলেন, ‘আরে ... পুত শরীরের ওজন কমা, টাইম হয়ে গেছে রেডি হয়ে যা।’
এই মন্তব্যের ঘরে গত সরকারের আমলে নাজমুল কর্তৃক মুক্তিযুদ্ধের সনদ বিক্রি করার অভিযোগ এনে পাল্টা মন্তব্য করেন নোবিপ্রবির সাবেক শিক্ষার্থী ইসমাইল হোসেন। এ সময় ক্ষেপে গিয়ে ফেসবুক মন্তব্যের ঘরেই হুমকি-ধমকি দিতে শুরু করেন নাজমুল হুদা ইকবাল।
পরে ইসমাইলের আইডির ম্যাসেঞ্জারে কল দিলে তিনি রিসিভি করেননি। এতে ফেসবুক ম্যাসেঞ্জারে অকথ্য ভাষায় গালাগালি ও হুমকি ধামকির ম্যাসেজ দিতে থাকেন। ইনবক্সে ভয়েস ম্যাসেজ পাঠিয়ে ইসমাইলকে মা-বাবার নাম তুলে অকথ্য ভাষায় গালি দিতে থাকেন। একপর্যায়ে তুলে নিয়ে পিঠের চামড়া তুলে ফেলার হুমকি দিয়ে ভয়েস ম্যাসেজ পাঠান।
নোবিপ্রবির সাবেক শিক্ষার্থী ভুক্তোভোগী ইসমাইল শঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, আওয়ামী সরকার থাকাকালে ফ্যাসিবাদী শক্তি ব্যবহার করে নাজমুল এলাকায় বহু অনৈতিক কাজ করেছেন। নাজমুল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের পদে ছিলেন, সেটি ব্যবহার করে গ্রামের মানুষের সঙ্গে অনেক অন্যায় ও অনৈতিক কাজের প্রমাণ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ডের পদে থেকে আওয়ামী লীগের পেশিশক্তি ব্যবহার করে মুক্তিযোদ্ধা সনদ বিক্রি করা, এলাকায় ভূমি দখল, চাঁদাবাজি, লুটপাট, পুলিশ দিয়ে ভিন্ন রাজনৈতিক নেতাদের হয়রানি করতেন। আমি এখন আতঙ্কে আছি।
অভিযোগ বিষয়ে জানতে চাইলে নাজমুল হুদা ইকবাল বলেন, আমি একটা নির্দিষ্ট দল করি। আমি আবু বকর মজুমদারের ফেসবুক পোস্টে একটা কমেন্ট করেছিলাম। সেখানে ইসমাইল ছেলেটার আমাকে বাজেভাবে কমেন্টে করে এবং আমাকে হুমকি দেয়। অথচ ইসমাইল আমার ভাই না, কলিগ না, আমার সমপর্যায়ের না, বন্ধুও না এবং আগেও চিনতাম না। পরে জানতে পারি ও হচ্ছে আমার বাড়ির পাশের ছোট ভাই। কমেন্ট বক্সে আমার ফোন নম্বর দিয়ে বলি কে রে তুই? সাহস থাকলে আমার নম্বরে ফোন দে। পরে আমি তাকে মেসেঞ্জারে কয়েকবার ফোন দিয়েছিলাম কিন্তু সে রিসিভ করেনি এবং আমাকে ব্লক করে দেয়।
তিতি আরও বলেন, পরে আমি তাকে বললাম যে ... (অশ্লীল শব্দ) আমি তোকে চিনসি। এত বড় কমেন্ট করার পর তুই যে আমারে ব্লক মাইরা দিছস, তোর পিঠের চামড়া আমি উঠায়া নিমু। ওরে আমি ফোন দিছিলাম এটা বলার জন্য যে তুই এখানে এসে এত বড় কমেন্ট করলি কেন? এখানে তো তোর সাথে আমার কোনো কথা হচ্ছে না। আমি ওকে আসলে দেখে নেব।
তার বিরুদ্ধে আইনিভাবে ব্যবস্থা না নিয়ে হুমকি কেন দিচ্ছেন, এমনটা বললে নাজমুল বলেন, আইনি ব্যবস্থা নেব এত ভালো মানুষ আমি না। সে আমাকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া শুরু করেছে। সে আমাকে বলেছে আমি নাকি দুর্নীতি করেছি। সে জন্য আমি তাকে বলেছি আমি তার পিঠের চামড়া তুলে নেব। সে আমার ফেসবুক পোস্টগুলোকে বিভিন্ন জায়গায় খুব বাজেভাবে উপস্থাপন করে, যেটার স্ক্রিনশট আমার কাছে আছে।
মুক্তিযোদ্ধার সনদ বিক্রি করার অভিযোগের বিষয়ে নাজমুল বলেন, আমি একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, মুক্তিযোদ্ধা না। একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান কোনোভাবেই মুক্তিযোদ্ধার সনদ বিক্রি করতে পারে না।