সরকারি লোগো ও দাউদ মিয়া © ফাইল ফটো
সংযুক্ত ইতবেদায়ী মাদ্রাসা শিক্ষকরা ১৩তম গ্রেডের তিন পদে আবেদনের সুযোগ দেওয়ার দাবিতে একাধিক কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষকরা। সম্প্রতি রাজধানীর শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচিও পালন করেন তারা। তবে ১৩তম গ্রেড সংক্রান্ত জটিলতার বিষয়টি এখনো সমাধান হয়নি।
বিষয়টি নিয়ে দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস কথা বলেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রানা শিক্ষা বিভাগের সচিব দাউদ মিয়ার সঙ্গে। তিনি জানিয়েছেন, ‘ইবতেদায়ী শিক্ষকদের নীতিমালার বিষয়টি নিয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি তাদের প্রতিবেদন জমা দেয়নি।’
সম্প্রতি সচিবালয়ে কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব আরও জানান, ‘এই কমিটি মূলত ইবতেদায়ী শিক্ষকদের কোন গ্রেড দেওয়া যায়, সে বিষয়ে সুপারিশ করবে। সুপারিশের আলোকে এ বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
এর আগে গত ৯ অক্টোবর সকাল ৯টায় শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে ‘সংযুক্ত ইবতেদায়ী শিক্ষক দাবি আদায় ঐক্য পরিষদের’ উদ্যোগে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয়।
অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, ‘২০২৬ সালের ১ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত মাদ্রাসা এমপিও নীতিমালা অনুযায়ী, পূর্বে নিয়োগপ্রাপ্ত ইবতেদায়ী মৌলভী, শিক্ষক ও কারী পদে প্রয়োজনীয় যোগ্যতা অর্জন সাপেক্ষে ১৩তম গ্রেড পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে প্রশাসনিক জটিলতা ও আবেদনের সুযোগ না থাকায় শিক্ষকরা এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারছেন না। এতে হাজারো শিক্ষক তাদের ন্যায্য আর্থিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে দাবি করেন তারা।’
ঐক্য পরিষদের প্রধান সমন্বয়ক সাকিবুল হাসান সজিব বলেন, ‘অনেক দিন অপেক্ষার পর আমরা রাজপথে নেমেছি। নীতিমালা প্রকাশের পরও আবেদনের সুযোগ না দেওয়া চরম বৈষম্যমূলক। আমরা অবিলম্বে নীতিমালার পূর্ণ বাস্তবায়ন এবং ১৩তম গ্রেডে আবেদনের সব জটিলতা নিরসনের দাবি জানাচ্ছি। আমাদের ন্যায্য দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।’
আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক রহমত মিয়া বলেন, ‘শিক্ষকদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়ে আলোচনা ও সম্মাননার উদ্যোগ থাকলেও ইবতেদায়ী শিক্ষকদের বেতন বৈষম্যের বিষয়টি উপেক্ষিত হচ্ছে। ইবতেদায়ী শিক্ষকরা চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের ১৬তম গ্রেডের সমপর্যায়ের বেতন পাচ্ছেন। নীতিমালা বাস্তবায়নের দাবিতে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরে একাধিকবার স্মারকলিপি দেওয়া হলেও দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।’
কর্মসূচির সমাপনীতে ঐক্য পরিষদের নেতারা জানান, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।