শিক্ষা মন্ত্রণালয় © ফাইল ছবি
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রবেশ পর্যায়ে শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা সিলেবাস অনুমোদন দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। সিলেবাস অনুমোদন হলেও পরীক্ষা কোন পদ্ধতিতে হবে সে বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। তবে পরীক্ষার জন্য অনুসরণীয় পদ্ধতিতে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষক নিয়োগের অনুসরণীয় পদ্ধতিতে নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার গেজেট জারি করেছিল। সেই গেজেট অনুযায়ী এমসিকিউ এবং ভাইভার মাধ্যমে পরীক্ষার কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। তবে বর্তমান সরকার আগের নিয়মে অর্থাৎ এমসিকিউ, লিখিত এবং ভাইভার মাধ্যমে প্রবেশ পর্যায়ে শিক্ষক নিয়োগের কার্যক্রম পরিচালনা করতে চাচ্ছে। প্রাথমিকভাবে এ বিষয়ে সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।
সূত্রের তথ্য বলছে, ৯ম শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে এমসিকিউ, লিখিত এবং ভাইভা—এই তিন ধাপে নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী এই ধাপগুলো অনুসরণ করার নির্দেশনা দিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে পৃথকভাবে পরিপত্র জারির প্রয়োজন হবে না। কেননা শিক্ষক নিয়োগ সংক্রান্ত গেজেটে ‘বাছাই পরীক্ষার মাধ্যমে প্রার্থী নির্বাচন করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
নাম অপ্রকাশিত রাখার শর্তে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের এক কর্মকর্তা দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘৯ম শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা তিন ধাপে অর্থাৎ এমসিকিউ, লিখিত এবং ভাইভার মাধ্যমে নেওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। কেননা বাছাই পরীক্ষার কথা উল্লেখ রয়েছে। আর বাছাই পরীক্ষা কয় ধাপে হবে সেটি বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) নির্বাহী বোর্ড চূড়ান্ত করবে।’
এদিকে প্রায় তিন বছর হতে চললেও নতুন শিক্ষক নিবন্ধনের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে পারেনি এনটিআরসিএ। সংস্থাটি একাধিকবার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের উদ্যোগ হাতে নিলেও নানা কারণে তা সম্ভব হয়নি। নতুন করে তিনটি কাজ সামনে আসায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের কার্যক্রম আরও পিছিয়ে যাওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। যদিও এনটিআরসিএ দাবি করেছে, ১৯তম শিক্ষক নিবন্ধনের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।
এনটিআরসিএর একটি সূত্র জানিয়েছে, বেসরকারি শিক্ষকদের বদলি, শিক্ষক নিবন্ধনের ভাইভার নম্বর বৃদ্ধি এবং প্রতিষ্ঠান প্রধান ও সহকারী প্রধান শিক্ষক নিয়োগের মৌখিক পরীক্ষার কারণে ১৯তম শিক্ষক নিবন্ধনের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশে বিলম্ব হতে পারে।
সূত্রের তথ্য বলছে, এনটিআরসিএর একটি অংশ প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের মৌখিক পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পক্ষে। আবার আরেকটি অংশ মনে করছে, শিক্ষক নিবন্ধনের মৌখিক পরীক্ষার নম্বর বৃদ্ধি সংক্রান্ত পরিপত্র জারির পর বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে। এই কার্যক্রমগুলো শেষ করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে গেলে বেশ সময় লেগে যেতে পারে।
নাম অপ্রকাশিত রাখার শর্তে এনটিআরসিএর এক কর্মকর্তা দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘১৯তম শিক্ষক নিবন্ধনের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পূর্বে বেশি কিছু সমস্যা সমাধান করতে হবে। বিষয়গুলো নিয়ে কাজ চলছে। ফলে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ কবে হবে সে বিষয়ে নির্দিষ্ট করে কিছু বলা যাচ্ছে না।’