ইএফটিতে বেতন পেতে যেসব তথ্যের ভুলে ভোগান্তিতে শিক্ষক-কর্মচারীরা

২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ PM
কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর

কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর © টিডিসি সম্পাদিত

কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের (ডিটিই) অধীন এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফারের (ইএফটি) মাধ্যমে পরিশোধ করতে গিয়ে বিভিন্ন ধরনের তথ্যগত জটিলতা দেখা দিচ্ছে। প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে অনলাইনে সঠিক তথ্য জমা না দেওয়া, তথ্যের অসঙ্গতি এবং অনুমোদিত পদের বিপরীতে একাধিক নিয়োগের মতো বিষয় যাচাই করতে গিয়ে বেতন পরিশোধে জটিলতা তৈরি হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। 

অনলাইনে ইএফটির তথ্য জমা না দেওয়ায় একপর্যায়ে শতাধিক প্রতিষ্ঠানের বেতন-ভাতাও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। জানা গেছে, নতুন নীতিমালায় যোগদানের সঙ্গে সঙ্গে বেতনও দেয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। গত বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে অনলাইনে ইএফটির মাধ্যমে বেতন-সংক্রান্ত তথ্য জমা দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়। তবুও কিছু প্রতিষ্ঠানের অভিযোগ তারা সমসয়মতো বেতন পাচ্ছেন না।

অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, ইএফটির মাধ্যমে বেতন পরিশোধের ক্ষেত্রে শিক্ষক-কর্মচারীদের ব্যক্তিগত তথ্যের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠান ও অনুমোদিত পদের তথ্যও সঠিক থাকা জরুরি। অনলাইনে তথ্য জমা দেওয়ার সময় ভুল বা অসঙ্গতি থাকলে তা যাচাই-বাছাইয়ের প্রয়োজন হয়। এতে বেতন পরিশোধের প্রক্রিয়া বিলম্বিত হয়।

অনলাইনে ইএফটির তথ্য জমা না দেওয়ায় একপর্যায়ে শতাধিক প্রতিষ্ঠানের বেতন-ভাতাও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। জানা গেছে, নতুন নীতিমালায় যোগদানের সঙ্গে সঙ্গে বেতনও দেয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। গত বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে অনলাইনে ইএফটির মাধ্যমে বেতন-সংক্রান্ত তথ্য জমা দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়। তবুও কিছু প্রতিষ্ঠানের অভিযোগ তারা সমসয়মতো বেতন পাচ্ছেন না।

অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তার ভাষ্য, ‘আমরা অধিদপ্তর থেকে প্রতিষ্ঠানগুলোকে জানিয়েছিলাম, অনলাইনে ইএফটির তথ্য জমা না দিলে ম্যানুয়ালি বেতন দেওয়া হবে না। ফলে নির্ধারিত সময়ে অনলাইনে সঠিক তথ্য জমা না দেওয়ায় ১১৮টি প্রতিষ্ঠানের বেতন-ভাতা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। পরে কিছু প্রতিষ্ঠান অনলাইনে তথ্য জমা দিয়ে সমস্যার সমাধান করেছে। তবে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে এখনো জটিলতা রয়েছে।’

ইএফটির তথ্য যাচাই করতে গিয়ে অধিদপ্তর কিছু প্রতিষ্ঠানে অনুমোদিত পদের বিপরীতে একাধিক নিয়োগের তথ্যও পেয়েছেন। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানে একটি অনুমোদিত পদের বিপরীতে চারজন এবং কোথাও দুজন নিয়োগ পাওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। এসব তথ্য যাচাই করতে গিয়ে বেতন-সংক্রান্ত প্রক্রিয়ায় জটিলতা তৈরি হয়েছে।

ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘একটা পোস্টের বিপরীতে চারজন নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, এমন তথ্যও পাওয়া গেছে। আবার কোথাও একটা পোস্টের বিপরীতে দুজন নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এখন যেহেতু অনলাইনে তথ্য দিতে হয়, সেহেতু তারা বিপদে পড়েছেন। কারণ এক পদের বিপরীতে একজন শিক্ষকের তথ্যই সফটওয়্যারে দিতে হলে কাকে দেবেন তারা।’

তিনি আরও বলেন, ‘ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে এই অসুবিধা ছিল না। কিন্তু অনলাইনে সব সঠিক তথ্য দিতে হয়। ফলে এসব নিয়োগের বৈধতা ও প্রক্রিয়া নিয়ে আলাদাভাবে যাচাই করতে হচ্ছে। ফলে সেসব প্রতিষ্ঠানের বেতন বন্ধ রয়েছে।’

শুধু শিক্ষক-কর্মচারীর ব্যক্তিগত তথ্য নয়, প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে জমা দেওয়া বিভিন্ন তথ্যের ভুলের কারণেও ইএফটি প্রক্রিয়া আটকে যেতে পারে। প্রতিষ্ঠানের ধরন, অনুমোদিত পদ, শিক্ষক-কর্মচারীর সংখ্যা এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য তথ্যের মধ্যে অসঙ্গতি থাকলে তা সংশোধনের প্রয়োজন হয়। অনেক সময় প্রতিষ্ঠান থেকে পাঠানো তথ্য যাচাইয়ের পর ভুল পাওয়া গেলে সেটি সংশোধনের জন্য ফেরত পাঠাতে হয়। 

এ ছাড়া কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান ইএফটির অনলাইন কার্যক্রমের জন্য কম্পিউটার দোকান বা প্রতিষ্ঠানের নিয়মিত কর্মী নন এমন ব্যক্তির ওপর নির্ভর করে। এতে তথ্য সময়মতো না দেওয়া কিংবা ভুলভাবে প্রবেশ করানোর আশঙ্কা তৈরি হয় বলে জানান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘কয়েকজন শিক্ষক এমনও আছেন, যারা শিক্ষকতায় বেশ অভিজ্ঞ, কিন্তু ইএফটির অনলাইন কার্যক্রমের জন্য একেবারে অনভ্যস্ত। ফলে কম্পিউটারের দোকানের উপর নির্ভরশীল থাকেন। কিন্তু দোকানের কর্মচারীরা সময়মতো তথ্য দেন না। ফলে বেতন পেতে দেরি হয়।’

অন্য খবর: চুয়েটের উপাচার্য পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার চায় শিক্ষক সমিতি

এদিকে ইএফটির মাধ্যমে বেতন পরিশোধের আগে প্রতিষ্ঠান থেকে অনলাইনে তথ্য জমা দেওয়ার পর তা আঞ্চলিক কার্যালয়ের মাধ্যমে অধিদপ্তরে আসে। এরপর প্রয়োজনীয় যাচাই শেষে তথ্য আইবাস-এ পাঠানো হয়। সেখানে জাতীয় পরিচয়পত্রসহ সংশ্লিষ্ট তথ্য যাচাইয়ের পর বেতন পরিশোধের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। 

কোনো ধাপে তথ্যের ভুল বা অসঙ্গতি পাওয়া গেলে তা সংশোধনের জন্য আবার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে পাঠানো হতে পারে। ফলে তথ্য সংশোধন ও পুনরায় যাচাইয়ের কারণে বেতন পেতে দেরি হয়ে থাকে। অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা জানান, অধিদপ্তরের পর্যায়ে কোনো ফাইল আটকে থাকলে সর্বোচ্চ প্রায় দুই মাস পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। তবে এর পরের সময় নির্ভর করে প্রতিষ্ঠানসহ অন্যান্য সংশ্লিষ্ট ধাপের ওপর।

তিনি বলেন, শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা নিয়মিত ও নির্ধারিত সময়ে পেতে প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে সঠিক তথ্য অনলাইনে জমা দেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে অনুমোদিত পদ ও নিয়োগসংক্রান্ত তথ্যের সঙ্গেও অনলাইন তথ্যের সামঞ্জস্য থাকতে হবে। তবেই বেতন সঠিক সময়ে পাওয়া যাবে।

তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বাড়লে ১০ হাজার কোটি লোকসান কমবে
  • ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
একাদশে শ্রেণিতে প্রথম ধাপে ভর্তি শেষ হচ্ছে আজ, ক্লাস শুরু ক…
  • ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বাংলাদেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল…
  • ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
‘ট্রায়াল অব সূর্যসেন’র বিশেষ প্রদর্শনী আজ, থাকছে সংগীতানুষ্…
  • ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
দূরপাল্লায় ৮ পয়সা, সিটি সার্ভিসে ১০ পয়সা বাস ভাড়া বৃদ্ধির প…
  • ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ভাইরাল সেই ছিনতাইয়ের ঘটনায় তিন দিনের মাথায় ওসিকে বদলি
  • ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬