সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারী কল্যাণ সমিতি
নবম জাতীয় পে স্কেল © ফাইল ছবি
সদ্য ঘোষিত নবম জাতীয় পে স্কেল অনুযায়ী বাড়িভাড়া ভাতার হার সংশোধন না হলে নিচের দিকে থাকা ১৭তম গ্রেডের চেয়ে ওপরের ১৫তম গ্রেডের কর্মচারীরা বেতন কম পাবেন। এটিকে বৈষম্য উল্লেখ করে ২০২৮ সালের আগেই নিরসনের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারী কল্যাণ সমিতি। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সমিতির সভাপতি আবদুল মালেক ও মহাসচিব আশিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে এ দাবি জানানো হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দীর্ঘ ১১ বছর পরে জারি করা নবম পে স্কেলের খুশিতে ২২ লাখ পরিবার যখন আত্বহারা, ঠিক তখনই বাড়িভাড়া নিয়ে বিশাল একটা বৈশম্য দেখা দিল। এটি কার্যকর হলে ২০তম গ্রেডের বাড়ি ভাড়া এবং ১৩তম গ্রেডের বাড়ি ভাড়া একই হয়ে যায়, অপরদিকে ১৭তম গ্রেডের চাইতে ১৫তম গ্রেডের মোট বেতন কম হয়, যা কর্ম ক্ষেত্রে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।
তারা বলছেন, ২০তম গ্রেডের ২০ হাজার টাকার শুধু ঢাকা শহরে ৬০ শতাংশ হিসাবে বাড়িভাড়া আসে ১২ হাজার টাকা। অপর দিকে ১৩তম গ্রেডের ২৪ হাজার টাকা বেসিকে ১০ শতাংশ কমে ৫০ শতাংশ হিসাবে বাড়ি ভাড়া আসে ১২ হাজার টাকা। এছাড়া ১৫তম গ্রেডের বেসিক ২২ হাজার ৮০০ টাকার ৫০ শতাংশ হিসাবে বাড়ি ভাড়া আসে ১১ হাজার ৪০০ টাকা, যা ২০তম গ্রেডের থেকে কম।
আবার ১৪তম গ্রেডের বেসিক ২৩ হাজার ৫০০ টাকার ৫০ শতাংশ হিসেবে বাড়ি ভাড়া আসে ১১ হাজার ৭৫০ টাকা, যা ২০তম গ্রেডের চেয়ে ও কম।এতে মোট বেতন কম হয়ে যাবে। একজন ১৭তম গ্রেডের কর্মচারীর প্রারম্ভিক ধাপে মোট বেতন হবে- ২১ হাজার ৪০০ টাকা মূল বেসিক, ১২ হাজার ৮৪০ বাড়ি ভাড়া ভাতা ৩ হাজার চিকিৎসা ভাতা, ৫০০ এক সন্তানের শিক্ষা ভাতা, ৬০০ যাতায়াত ভাতা, ৫০০ টিফিন, ৩০০ ধোলাই, ১৫০ মোবাইল ভাতাসহ মোট ৩৯ হাজার ২৯০ টাকা।
অন্য খবর: প্রভিডেন্ট ফান্ড নিয়ে বড় সুখবর পেলেন সরকারি চাকরিজীবীরা
অপর দিকে ১৫তম গ্রেডের মোট বেতন প্রারম্ভিক ধাপে দাঁড়াবে ২২ হাজার ৮০০ টাকা মূল বেসিক, ১১ হাজার ৪০০ বাড়ি ভাড়া ৩ হাজার চিকিৎসা, ৫০০ শিক্ষা ভাতা, ৬০০ যাতায়াত ভাতা, ৫০০ টিফিন, ১৫০ টাকা মোবাইল ভাতাসহ মোট বেতন হবে ৩৯ হাজার ২৯০ টাকা, যা ১৭তম গ্রেডের চেয়ে ৪০ টাকা কম।
কর্মচারী নেতারা বলছন, এখানে কোনও কর্মচারীকে হেয় না করা এবং যোগ্যতার দিক থেকে সব গ্রেডের বেতন বৈষম্য নিরসন করা জরুরি। সে ক্ষেত্রে কোনো গ্রেডের সুবিধা কমিয়ে নয়। তবেই এই এই বৈষম্য দূর হবে। ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি ভাতা কার্যকরের আগেই যাতে এ বৈষম্য দূর করা হয়, সে দাবি জানাচ্ছি তারা। নতুবা কর্মক্ষেত্রে এর বিশাল একটা প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা তাদের।