শিক্ষা মন্ত্রণালয় © টিডিসি সম্পাদিত
পাবলিক পরীক্ষাগুলোতে প্রতিবছর লাখ লাখ পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। বিপুল সংখ্যক উত্তরপত্র মূল্যায়নের দায়িত্ব পান হাজার হাজার শিক্ষক। অনেক ক্ষেত্রে একজন শিক্ষককে স্বল্প সময়ের মধ্যে শত শত খাতা মূল্যায়ন করতে হয়। অতিরিক্ত কাজের চাপ, সময়ের সীমাবদ্ধতা এবং তদারকির ঘাটতির কারণে খাতা মূল্যায়নে ভুলের সম্ভাবনা তৈরি হয়। একই ধরনের উত্তরের ক্ষেত্রে একজন পরীক্ষক বেশি নম্বর দিলেও অন্যজন তুলনামূলক কম নম্বর দিতে পারেন। ফলে ফলাফলে অসঙ্গতির অভিযোগ সামনে আসে।
এ সমস্যার সমাধানে দেশের পাবলিক পরীক্ষার খাতা দেখার ঢিলেঢালা পদ্ধতি বদল করার কথা জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আমরা বোর্ডে বলে দিয়েছি খাতা কম করে দিতে। এক্সামিনার কীভাবে খাতা দেখলো। সে খাতাগুলো ঠিকভাবে দেখেছে কিনা। খাতা মূল্যায়নের পরে, সকল বোর্ডের খাতা থেকে স্যাম্পল খাতা নিয়ে এটি খতিয়ে দেখা হবে। আমরা প্রতিটি ইস্যু অ্যাড্রেস করছি, সেজন্যই আইন পরিবর্তন করেছি। নতুন আইনে প্রয়োজন হলে পরীক্ষার খাতা পুনর্মূল্যায়নের সুযোগ রাখা হয়েছে।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) খুলনা বিভাগীয় অডিটোরিয়ামে আসন্ন এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা উপলক্ষে কেন্দ্র সচিবদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় শিক্ষামন্ত্রী বলেছেন, বোর্ডগুলো শিক্ষকদের ৫০০ করে খাতা দিয়ে দেয়, কিন্তু শিক্ষকরা কীভাবে মূল্যায়ন করছেন- ওভার মার্কিং (বেশি নম্বর) নাকি আন্ডার মার্কিং (কম নম্বর) হচ্ছে- তা বোর্ড যথাযথভাবে তদারকি করে না। আমাদের খাতা দেখার এই ঢিলেঢালা পদ্ধতি আমরা বদল করতে চাই।’
বোর্ড পরীক্ষার খাতা চ্যালেঞ্জ করলে এখন আর শুধু নম্বর যোগে কোনো ভুল হয়েছে কি না তা যাচাই করা হবে না। বরং পরীক্ষক উত্তরপত্র যথাযথভাবে মূল্যায়ন করেছেন কি না এবং কোনো প্রশ্নে প্রাপ্য নম্বর কম দেওয়া হয়েছে কি না, সেসব বিষয়ও পুনর্মূল্যায়নের আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী।