২৬২ জাল সনদধারীর কাছে সরকার পাবে ৫০ কোটি টাকা, তালিকা মন্ত্রণালয়ে

২৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৪১ PM , আপডেট: ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:২৮ PM
জাল সনদ

জাল সনদ © টিডিসি সম্পাদিত

বেসরকারি স্কুল-কলেজে কর্মরত ৪৭১ জাল সনদধারীর পর এবার মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত ২৬২ জাল সনদধারীর তালিকা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগে পাঠানো হয়েছে। তালিকায় থাকা শিক্ষক-কর্মচারীদের মান্থলী পেমেন্ট অর্ডার (এমপিও) বন্ধ, মামলা, বেতন-ভাতা বাবদ নেওয়া অর্থ ফেরতসহ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হতে পারে বলে জানা গেছে।

পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর (ডিআইএ) আজ সোমবার এ সংক্রন্ত চিঠি কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব বরাবর পাঠিয়েছে। ডিআইএর পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর কর্তৃক কারিগরি ও মাদ্রাসার সনাক্তকৃত জাল/ভূয়া সনদধারী শিক্ষকের নিম্নরূপ তালিকা এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা প্রতিবেদন, জাল/ভূয়া সনদ এবং জাল সনদ যাচাইপূর্বক সনদ ইস্যুকারী কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রেরিত পত্রসমূহের অনুলিপিসহ সদয় অবগতি ও প্রয়োজনীয় কার্যার্থে এসঙ্গে প্রেরণ করা হলো।’

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো তালিকায় মোট ২৬২ জন শিক্ষক-কর্মচারীর তথ্য রয়েছে। এর মধ্যে ২৫১ জন শিক্ষকের বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) সনদ জাল করে চাকরি করছেন বা করছিলেন। এছাড়া বিপিএড, বিএড, গ্রন্থাগার ও অন্যান্য শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ জাল হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে ১১ জনের। এই জাল সনদধারীদের কাছ থেকে সরকার প্রায় ৫০ কোটি টাকা ফেরত পাবে। এর মধ্যে এনটিআরসিএর সনদ জালকারীদের কাছ থেকে ৪৮ কোটি টাকার বেশি ফেরত পাওয়া যাবে। আর অন্যান্য জাল সনদধারীদের কাছ থেকে ১ কোটি ৭০ লাখ টাকা ফেরত পাওয়া যাবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডিআইএ পরিচালক প্রফেসর এম এম সহিদুল ইসলাম দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করে আমরা প্রতিবেদন তৈরি করি। এরপর এ সংক্রান্ত তালিকা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট শাখা পরবর্তীতে অধিদপ্তরগুলোকে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দিয়ে থাকেন।’

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, ডিআইএর পাঠানো জাল সনদধারীদের তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে শিগগিরই মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর এবং কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরে পৃথকভাবে চিঠি পাঠানো হবে।

জানা গেছে, ২০১২ সাল থেকে জাল সনদ শনাক্তকরণ কার্যক্রম শুরু করেছে ডিআইএ। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এ বিষয়ে জোরদার অভিযান চালাচ্ছে শিক্ষা প্রশাসনের পুলিশ খ্যাত সংস্থাটি। এরই ধারাবাহিকতায় স্কুল-কলেজের জাল সনদধারীদের তালিকা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। 

এর আগে ২০২৩ সালের শুরুতে স্কুল-কলেজের ৬৭৮ জন এবং কারিগরি ও মাদ্রাসার প্রায় ২০০ জন জাল সনদধারীর তালিকা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছিল সংস্থাটি। সেসময় মন্ত্রণালয় জাল সনদধারীদের বিরুদ্ধে মামলাসহ একাধিক ব্যবস্থা নিয়েছিল। তবে মন্ত্রণালয়ের ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অনেক শিক্ষক-কর্মচারী উচ্চ আদালতে রিট দায়ের করেছেন বলে জানা গেছে। আদালতে মামলা চলমান থাকায় অনেক জাল সনদধারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারেনি সরকার।

এ বিষয়ে জানতে কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়ার দপ্তরে গেলেও তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। পরে তার ব্যবহৃত নম্বরে কল দেওয়া হলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।

নাম প্রকাশ না করার মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের এক কর্মকর্তা দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘ডিআইএর পাঠানো জাল সনদধারী সংক্রান্ত চিঠি আমরা পেয়েছি। অধিদপ্তরের মাধ্যমে তাদের বেতন-ভাতা হয়ে থাকে, এজন্য অধিদপ্তরগুলোকে চিঠির মাধ্যমে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হবে।

৭৩৯ জাল সনদধারীর কাছে সরকারের পাওনা ৫৩৪ কোটি টাকা
গত ২০২১-২২ অর্থ বছর থেকে শুরু করে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সারা দেশের ৭ হাজার ৩৮২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করে ৭৩৯ জন জাল সনদধারী শনাক্ত করেছে ডিআইএ। এসব জাল সনদধারীর কাছে সরকার ৫৩৪ কোটি পাবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। 

তথ্য অনুযায়ী, পাঁচ বছরের এই সময়ে মোট ৮ হাজার ১৮টি প্রতিবেদন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছে ডিআইএ। এর মধ্যে ২০২১-২২ থেকে ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে ৭ হাজার ৯৮টি প্রতিবেদন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে আরও ৭৩৬টি প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করে এক হাজার ৮২টি প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। 

অনুসন্ধানে দেখা যায়, ২০২১-২২ অর্থবছরে দুই হাজার ১০৩টি প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করে ৮৬টি জাল সনদ শনাক্ত করা হয়। সরকারের আদায়যোগ্য অর্থ নির্ধারণ করা হয় ৪৩ কোটি ৫৩ লাখ টাকার বেশি। 

পরের বছর অর্থাৎ ২০২২-২৩ অর্থবছরে পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যায়। জাল সনদের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১২৭টিতে। আদায়যোগ্য অর্থ এক লাফে বেড়ে ৯৬ কোটি ৪৯ লাখ টাকায় পৌঁছায়। যদিও এই সময়ে পরিদর্শনের সংখ্যা বেড়ে দুই ২০৯টি হয়েছিল। তবে প্রতিবেদন কমে ১ হাজার ৩৪৯টিতে নেমে আসে। 

২০২৩-২৪ অর্থবছরে পরিদর্শন কার্যক্রম সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে ২ হাজার ৩৫৮টি প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করে ডিআইএ। এই সময় ১০৫টি জাল সনদ শনাক্ত করে সংস্থাটি। এই অর্থ বছরে ৮৩ কোটি ৮৯ লাখ টাকার বেশি আদায়যোগ্য হিসেবে নির্ধারিত হয়। 

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সবচেয়ে বেশি প্রতিবেদন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। এ সময় পরিদর্শনের সংখ্যা কম ছিল। তবে প্রতিবেদন প্রেরণ বেড়ে ২ হাজার ৮৩২-তে পৌঁছায়। একই অর্থ বছরে সর্বোচ্চ ২৭৪টি জাল সনদ শনাক্ত হয়। আর্থিক অনিয়মও রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছে ১৯৫ কোটি ৬৮ লাখ টাকা আদায়যোগ্য হিসেবে চিহ্নিত হয়।

চলতি অর্থবছরের আট মাসেই আরও ১৪৭টি জাল সনদ শনাক্ত করা হয়েছে। ফলে মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৩৯-এ। একইভাবে চার বছরে প্রায় ৪১৯ কোটি টাকা আদায়যোগ্য হিসেবে নির্ধারিত হলেও চলতি বছরে আরও ১১৫ কোটি টাকা যোগ হওয়ায় মোট পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫৩৪ কোটিতে।

সারাদেশে মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হবে 
  • ২৭ এপ্রিল ২০২৬
বাংলাদেশ পুলিশের রাজশাহী রেঞ্জে চাকরি, আবেদন শেষ ১১ মে
  • ২৭ এপ্রিল ২০২৬
ইসলামী ব্যাংক ও ইসলামী ব্যাংক ফাউন্ডেশনের মধ্যে কর্পোরেট চু…
  • ২৭ এপ্রিল ২০২৬
দেশের সব বিমানবন্দরে নিরাপত্তা জোরদার
  • ২৭ এপ্রিল ২০২৬
ঢাবি ছাত্রী মিমোর আত্মহত্যার ঘটনায় বিচার দাবি শাখা ছাত্রফ্র…
  • ২৭ এপ্রিল ২০২৬
দুর্নীতির প্রতিবাদে চাকরিচ্যুত, রাজু ভাস্কর্যে বিশ্বসাহিত্য…
  • ২৭ এপ্রিল ২০২৬