অধ্যাপক ড. আব্দুস সালাম © টিডিসি ফটো
রাজধানীর যানজট নিরসন এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সাপ্তাহিক ছুটির দিন পরিবর্তনের পাশাপাশি গাড়ি শেয়ারিং ও শিক্ষা-মার্কেট বন্ধ রাখার জোনিং পদ্ধতি চালুর পরামর্শ দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আব্দুস সালাম।
বুধবার (৮ এপ্রিল) দুপুরে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে আয়োজিত এক বিশেষ সেমিনারে অংশ নিয়ে তিনি এসব প্রস্তাবগুলো তুলে ধরেন। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধাবস্থা এবং তীব্র যানজটের কারণে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রাখা ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের পরবর্তী করণীয় নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সমন্বয়ে এই সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।
সেমিনারে অধ্যাপক ড. আব্দুস সালাম শ্রেণিকক্ষে সশরীরে পাঠদান অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, শিক্ষার্থীদের মতামতের ভিত্তিতে এটি স্পষ্ট যে অনলাইন ক্লাস কোনো স্থায়ী বা কার্যকর সমাধান নয়। বিকল্প প্রস্তাব হিসেবে তিনি বলেন, ‘যদি আমরা ইন পারসনে থাকি তাইলে আমাদের যে শুক্র শনিবার আছে, এই শুক্র শনিবারটা আমরা ব্যবহার করতে পারি কিনা। সাপ্তাহিক ছুটি আমরা শুক্র, শনিবার না নিয়ে অন্যদিন যদি আমরা সেটা নেই, উইকের মাঝখানে। তাইলে যানজটটা কিছুটা কম হবে এবং আমাদের কাজকর্ম চালাতে পারব।’
যানজট কমাতে কার পুলিং চালুর ওপরও জোর দেন এই অধ্যাপক। তিনি বলেন, ‘আমাদের একটা বাচ্চা একটা গাড়িতে যায়। একটা বাচ্চা একটা গাড়িতে না যেয়ে বা একজন শিক্ষক এক গাড়িতে না যেয়ে আমরা চারজন মিলে একটা গাড়ি শেয়ার করি। এভাবে কার পুলিং করি তাহলে রাস্তাঘাটে গাড়ির সংখ্যা কমে যাবে। আমাদের জ্বালানি কম প্রয়োজন হবে।’
এ ছাড়া শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট মার্কেট ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে জোনিংয়ের আওতায় আনার প্রস্তাবও দেন তিনি। বলেন, ‘আরেকটা বিষয় হল শিক্ষার সাথে জড়িত যে মার্কেটগুলো আছে। সে মার্কেটগুলাকে আমরা কোন ভাবে জোনিং করতে পারি কিনা। ওই এলাকার মার্কেট অমুক তারিখে ওই এলাকার মার্কেট অন্য তারিখে এভাবে জোনিং করে বন্ধ করতে পারি। সেটা হয়তো আমাদের হেল্প হবে। সাথে সাথে স্কুলগুলো যদি আমরা জনিং করতে পারি, এই স্কুলে এইদিন ওই স্কুল ওইদিন বন্ধ থাকবে। সেটা তো আমার মনে হয় ওভারঅল যানজটের উপর অনেক পড়বে।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘তাই যেটা আমি বলতে চাচ্ছি আমাদের উইকেন্ড আমরা কাজে লাগাতে পারি কিনা তাইলে কমবে এবং কার পুলিং এর উপর যেখানে জ্বালানি তেল অনেকটা সাশ্রয় হবে।’
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। এছাড়া সেমিনারে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিবসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন। সেমিনারের মূল লক্ষ্য ছিল বর্তমান বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ সংকটের মধ্যে শিক্ষা কার্যক্রমকে নিরবচ্ছিন্ন রাখা এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ে কার্যকর জাতীয় নীতিমালা প্রণয়ন করা।