অর্থ মন্ত্রণালয় © ফাইল ছবি
নবম পে-স্কেল বাস্তবায়ন হলে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন বাড়বে কি না তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। শঙ্কায় রয়েছেন কয়েক লাখ শিক্ষক-কর্মচারী।
শিক্ষক-কর্মচারীদের আশঙ্কার বিষয়টি নিয়ে দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস কথা বলেছে অর্থ মন্ত্রণালয় এবং পে কমিশনের একাধিক সদস্যের সঙ্গে। তারা বলছেন, সরকারের বিদ্যমান বেতন কাঠামো অনুযায়ী যারা বেতন পান তাদের সবার বেতন ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বাড়বে।
নাম অপ্রকাশিত রাখার শর্তে অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক অতিরিক্ত সচিব দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘সরকারি বেতন কাঠামোর আওতায় যারা সরকারের কাছ থেকে বেতন পান, নতুন পে-স্কেল অনুমোদিত হলে তাদের সেই নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ীই বেতন পাওয়ার কথা।’
এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা সরকারের কাছ থেকে বেতন পেলেও সেটি অনুদান হিসেবে দেওয়া হয়। এছাড়া তারা সরকারি চাকরিজীবীদের ন্যায় অন্যান্য সুযোগ সুবিধা পান না। এক্ষেত্রেও তাদের বেতন-ভাতা বাড়বে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, ‘অনুদান পেলেও তাদের এই অনুদান সরকারই দেয়। এছাড়া শিক্ষকদের একটি নির্দিষ্ট বেতন গ্রেড রয়েছে। ফলে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন হলে শিক্ষকদের মূল বেতনের কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ীই দেওয়ার কথা।’
শিক্ষা প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, নবম পে-স্কেল বাস্তবায়ন হলে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের মূল বেতন শতভাগ বাড়বে। মূল বেতন বাড়লে বৈশাখী এবং উৎসব ভাতাও বাড়বে। তবে শিক্ষকরা বাড়ি ভাড়া পাবেন ১৫ শতাংশ। যেখানে সরকারি চাকরিজীবীদের বাড়ি ভাড়া ৪৫ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত হয়ে থাকে।
শুধু বাড়ি ভাড়াই নয়, চিকিৎসা ভাতা প্রাপ্তির ক্ষেত্রেও বৈষম্যের শিকার হবেন এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা। বর্তমানে এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা চিকিৎসা ভাতা পান ৫০০ টাকা। নতনু পে-স্কেল অনুমোদিত হলে সরকারি চাকরিজীবীদের চিকিৎসা ভাতা ৪ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পাবে।
এছাড়া সরকারি চাকরিজীবীদের টিফিন ভাতা বৃদ্ধি পেয়ে এক হাজার টাকা হবে। এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা এক্ষেত্রে কোনো ভাতাই পাবেন না। এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের কোনো বিনোদন ভাতা নেই। তবে সরকারি কর্মচারীরা এক বছর পর পর মূল বেতনের বিনোদন ভাতা পেয়ে থাকেন।
বর্তমানে সরকারি চাকরিজীবীদের দুই সন্তানের জন্য প্রত্যেক মাসে এক হাজার টাকা করে শিক্ষা ভাতা দেওয়া হচ্ছে। এটি দুই হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে। তবে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের সন্তানদের জন্য কোন শিক্ষা ভাতা নেই। শিক্ষা ভাতা সরকারি কর্মচারীদের সন্তানরা বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত পেয়ে থাকেন।