পরীক্ষার হল ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের লোগো © ফাইল ফটো
চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে পরীক্ষক ও প্রধান পরীক্ষক নিয়োগে জরুরি নির্দেশনা দিয়েছে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর এস এম কামাল উদ্দিন হায়দার স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, eTIF সংক্রান্ত তথ্য আগামী ৫ এপ্রিলের মধ্যে অবশ্যই পাঠাতে হবে। এর পরে পাঠানো কোনো তথ্য ২০২৬ সালে এসএসসি পরীক্ষার জন্য প্রযোজ্য হবে না।
নির্দেশনা সমূহ:
১. প্রতিষ্ঠান প্রধানসহ কর্মরত সব শিক্ষকদের পরীক্ষাসংক্রান্ত গোপনীয় কাজ সম্পাদনের লক্ষ্যে eTIF পূরণ নিশ্চিত করতে প্রতিষ্ঠান প্রধানকে অনুরোধ করা হলো।
২. সম্প্রতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে, প্রধান পরীক্ষক হওয়ার জন্য অনেক শিক্ষক মাস্টার ট্রেইনার না হওয়া সত্ত্বেও eTIF-এর ডাটায় মাস্টার ট্রেইনার এর কলাম এন্ট্রি করেছেন। যারা প্রকৃতপক্ষে মাস্টার ট্রেইনার নয় তারা অনতিবিলম্বে eTIF-এর ডাটা থেকে মাস্টার ট্রেইনার কলাম সংশোধন করবেন, নতুবা এরূপ প্রতারণামূলক তথ্য প্রদানের জন্য আপনার বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং প্রতিষ্ঠান প্রধান সত্যায়নকারীর দায় এড়াতে পারবেন না। কারণ প্রতিষ্ঠান প্রধান হিসাবে তিনি প্রতিটি শিক্ষকের তথ্য অনুমোদনকারী। মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, ঢাকা থেকে সৃজনশীল প্রশ্নপত্র প্রণয়ন ও পরিশোধন প্রশিক্ষণে যারা অংশগ্রহণ করেছেন তারা eTIF-এর ডাটাতে মাস্টার ট্রেইনার কলাম পূরণ করবেন।
৩. কিছু শিক্ষক তাদের পরীক্ষার ফলাফল তথা এসএসসি, এইচএসসি, স্নাতক (পাশ), স্নাতক(সম্মান), মাস্টার্স, বিএড, এমএড, পিএইচডি ইত্যাদি পরীক্ষায় প্রাপ্ত বিভাগ/শ্রেণি eTIF-এর নির্দিষ্ট কলামে এন্ট্রি না করে ফাঁকা রাখেন, অথচ প্রধান পরীক্ষক, পরীক্ষক হওয়ার ক্ষেত্রে ফলাফলে সুনির্দিষ্ট পয়েন্ট রয়েছে। সুতরাং, অবিলম্বে উক্ত কলাম সমূহে তাদের প্রাপ্ত বিভাগ/শ্রেণি এন্ট্রি করবেন।
8. First Joining -এর ক্ষেত্রে অনেকে তার বর্তমান স্কুল/কলেজে যোগদানের তারিখ দিয়ে থাকেন। এ কারণে তাদের শিক্ষকতার প্রকৃত অভিজ্ঞতার তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না। উদাহরণ: একজন শিক্ষক একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ১০ বছর কর্মরত ছিলেন, পরবর্তীতে বর্তমান প্রতিষ্ঠানে ০৫ বছর কর্মরত আছেন তাহলে তাঁর অভিজ্ঞতা হবে ১৫ বছর, এ ক্ষেত্রে বর্তমান প্রতিষ্ঠানে যোগদানের তারিখ দিয়ে ডাটা এন্ট্রি করলে অভিজ্ঞতা ০৫ বছর বিবেচনায় আসবে। সুতরাং তার First Joining হবে ১ম শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যোগদানের তারিখ। উল্লেখ্য, প্রতি বছর সার্ভিসের জন্য আলাদা পয়েন্ট রয়েছে।
৫. শিক্ষকদের ডাটা পূরণের সময় অবশ্যই সোনালি ব্যাংকের (১৩ ডিজিটের) হিসাব নম্বর নির্ভুলভাবে প্রদান করতে হবে।
৬. খণ্ডকালীন, অনিয়মিত, অক্ষম ও গুরুতর অসুস্থ শিক্ষকদের তথ্য eTIF এ পূরণ করা যাবে না। যদি এরকম কোনো শিক্ষকের নাম অন্তর্ভুক্ত থাকে তবে eTIF থেকে তাহার নাম কর্তন করতে হবে।
৭. যে শিক্ষক যে বিষয়ে পাঠদান করান শুধু সে বিষয়ই Select করতে পারবেন, অন্যথায় অপরাধ হিসাবে বিবেচিত হবে।
৮. কলেজের ক্ষেত্রে শুধু যে বিষয়ে অনার্স, মাস্টার্স করেছেন সে বিষয়ই Select করতে পারবেন।
৯. শিক্ষকদের সকল সনদ, নিয়োগপত্র ইত্যাদি তথ্য প্রমাণাদি প্রতিষ্ঠান প্রধান নিজ দায়িত্বে সংরক্ষণ করবেন। প্রয়োজনে বোর্ড
সেগুলো তলব করবে।
১০. eTIF পূরণে কোনো তথ্য গোপন বা অসত্য তথ্য সংযোজন করলে এর দায়-দায়িত্ব প্রতিষ্ঠান প্রধানের বহন করতে হবে।
১১. যে সব শিক্ষক শিক্ষক অবসর গ্রহণ করেছেন/মৃত্যু বরণ করেছেন/অন্যত্র বদলি হয়েছেন/স্বেচ্ছায় চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন/বোর্ড থেকে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে অথবা প্রতিষ্ঠানে খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন তাদের নাম কর্তন করে eTIF সংশোধন করতে হবে।
১২. eTIF এর ডাটাবেজ থেকে যে সব পরীক্ষক/প্রধান পরীক্ষক নিয়োগ করা হবে তাদের অবশ্যই বোর্ড নির্ধারিত তারিখে উত্তরপত্র সংগ্রহ করতে হবে। অনেকে নিয়োগপত্র পাওয়ার পর উত্তরপত্র সংগ্রহ করেন না ফলে উত্তরপত্র মূল্যায়নে জটিলতার সৃষ্টি হয় এবং শিক্ষার্থীদের শিক্ষা জীবন বিঘ্নিত হয়। নিয়োগপত্র পাওয়ার পরেও বোর্ড নির্ধারিত তারিখে উত্তরপত্র সংগ্রহ না করলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
