মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, ঢাকা © ফাইল ছবি
এক যুগ পর অনুষ্ঠিত অষ্টম শ্রেণির জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষায় ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের ১০ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী সব বিষয়ে পরীক্ষায় অংশ নেয়নি। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক এস এম কামাল উদ্দিন হায়দার এসব তথ্য জানান।
তিনি জানান, এবার ঢাকা বোর্ড থেকে বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে ৮০ হাজার ২১৮ জন শিক্ষার্থী, যা মোট পরীক্ষার্থীর ৯১ দশমিক ২ শতাংশ। অর্থাৎ, নিবন্ধিত পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ৭ হাজার ৭৩১ জন বা ৮ দশমিক ৮ শতাংশ শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়নি।
এ ছাড়া বোর্ডের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে আরও দেখা যায়, পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যেও সব বিষয়ে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা কম। তথ্য অনুযায়ী, সব বিষয়ে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে ৭৭ হাজার ৯১৯ জন শিক্ষার্থী, যা মোট পরীক্ষার্থীর ৮৮ দশমিক ৬ শতাংশ। ফলে পরীক্ষায় অংশ নিলেও সব বিষয়ে পরীক্ষা দেয়নি এমন শিক্ষার্থীর সংখ্যা দাঁড়ায় ১০ হাজার ৩০ জন, যা মোট পরীক্ষার্থীর প্রায় ১১ দশমিক ৪ শতাংশ।
বিষয়টি নিয়ে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বলেন, অষ্টম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষায় ঢাকা বোর্ডের অংশগ্রহণসংক্রান্ত এই তথ্য আপাতত নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে সারা দেশের সব বোর্ডের পূর্ণাঙ্গ তথ্য এখনো হাতে পাওয়া যায়নি।
শিক্ষা বোর্ড সূত্র বলছে, ঢাকার পর রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে সর্বোচ্চসংখ্যক শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছে। এ বোর্ডের অধীনে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ৪৩ হাজার ৬৬০ জন। যা মোট পরীক্ষার্থীর প্রায় ১২ দশমিক ৬০ শতাংশ।
আর কুমিল্লা ও দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় সমান। কুমিল্লা বোর্ডে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছে ৪০ হাজার ২১৯ জন (প্রায় ১১ দশমিক ৬০ শতাংশ) এবং দিনাজপুর বোর্ডে ৪০ হাজার ২৩১ জন শিক্ষার্থী (প্রায় ১১ দশমিক ৬১ শতাংশ)। এই দুই বোর্ড মিলিয়ে মোট পরীক্ষার্থীর প্রায় ২৩ শতাংশের বেশি।
এরপর যশোর শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ৩৮ হাজার ৬৬ জন। যা মোট পরীক্ষার্থীর প্রায় ১১ দশমিক ১৬ শতাংশ। চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে ২৯ হাজার ৫ জন শিক্ষার্থী। যা মোট পরীক্ষার্থীর প্রায় ৮ দশমিক ৩৭ শতাংশ।
বোর্ড সূত্রে আরও জানা গেছে, নতুন ও অপেক্ষাকৃত ছোট বোর্ডগুলোর মধ্যে ময়মনসিংহ ও সিলেট শিক্ষা বোর্ডে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা কাছাকাছি। ময়মনসিংহ বোর্ডে পরীক্ষার সুযোগ পেয়েছে ২৩ হাজার ২০০ জন শিক্ষার্থী। যা মোট পরীক্ষার্থীর প্রায় ৬ দশমিক ৬৯ শতাংশ। অপরদিকে সিলেট বোর্ডে পরীক্ষার্থী ছিল ২৩ হাজার ২২ জন।
সবচেয়ে কম পরীক্ষার্থী ছিল বরিশাল শিক্ষা বোর্ডে। এ বোর্ডের অধীনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছিল ২০ হাজার ৬২৯ জন শিক্ষার্থী। যা মোট পরীক্ষার্থীর প্রায় ৫ দশমিক ৯৫ শতাংশ।