এনটিআরসিএ © টিডিসি সম্পাদিত
এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রধান নিয়োগের ডামাডোল যেন শেষই হচ্ছে না। নানা দাবি-পুনর্দাবি ও হাইর্কোটে রিটের পর পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হলেও ফের এই নিয়োগ বাতিলের দাবি উঠেছেন। একইসঙ্গে পুনরায় ম্যানেজিং কমিটির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান প্রধান নিয়োগের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে।
‘সচেতন শিক্ষক সমাজ’ ব্যানারে বুধবার (৬ মে) জাতীয় প্রেসক্লাবে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের আহ্বায়ক, টাঙ্গাইলের কালিহাতি উপজেলার শাহজাহান সিরাজ কলেজের শিক্ষক আব্দুল আউয়াল। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন মনজরুল ইসলাম, মো. ইউসুফ আলী, মোহাম্মদ হোসেন, নূর মোহাম্মদ খোকন প্রমুখ।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, এনটিআরসিএর নিয়োগ পরীক্ষা বাতিলের দাবিতে ১১৯ জন শিক্ষক যৌথভাবে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন এবং হাইকোর্ট প্রতিষ্ঠান প্রধান নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিতের পক্ষে রায় প্রদান করেন। কিন্তু এনটিআরসিএ তাদের অসৎ উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার লক্ষে পূর্নাঙ্গ শুনানি না করেই হাইকোর্টের রায় স্থগিতের উদ্যোগ নেয়া এবং চেম্বার জজ আদালত ১৭ এপ্রিল হাইকোর্টের রায় স্থগিত করে দেন এবং এনটিআরসিএ ১৮ এপ্রিল যথাযথ প্রস্তুতি ও নীতিমালা ছাড়াই পরীক্ষা গ্রহণ করেন। এনটিআরসিএর এই অপতৎপরতা সচেতন শিক্ষক সমাজকে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে।
তারা বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে অদক্ষ ও অযোগ্য শিক্ষকদের প্রতিষ্ঠান প্রধান নিয়োগ করার ফলে শিক্ষাক্ষেত্রে ব্যাপক ধ্বস নেমেছে। ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর থেকে অদ্যাবধি প্রতিষ্ঠান প্রধান নিয়োগ বন্ধ থাকায় শিক্ষাক্ষেত্রে ক্রমাগতভাবে শিক্ষার উন্নয়ন ব্যাহত হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে দাবি, দেশের আইন অনুযায়ী প্রিন্সিপাল, ভাইস প্রিন্সিপাল, প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষকদের নিয়োগের একমাত্র ক্ষমতা প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি/ম্যানেজিং কমিটির হাতে ন্যাস্ত। কিন্তু আমরা দেখছি ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর থেকে গভর্নিং বডি/ম্যানেজিং কমিটি গঠনের সুযোগ না দিয়ে ধারাবাহিকভাবে অ্যাডহক কমিটি গঠন করে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করা হচ্ছে; ফলে তারা প্রতিষ্ঠান প্রধান নিয়োগ দিতে পারছে না। এদিকে ম্যানেজিং কমিটি গঠন না করেই এনটিআরসিএ প্রতিষ্ঠান প্রধান ও সহ-প্রধানের নিয়োগের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন।