© সংগৃহীত
বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের সংগঠন বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতির কমিটির বর্তমান কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে। অন্যদিকে বিলুপ্ত সমিতি ও শিক্ষাবিদ ইনস্টিটিউটের ফান্ড লুটপাটের অভিযোগ করেছেন শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তারা।
জানা যায়, সমিতির সদ্য বিলুপ্ত কমিটি ২০১৬ সালের জুন মাসে দুই বছরের জন্য নির্বাচিত হয়। সভাপতি নির্বাচিত হন আই কে সেলিম উল্লাহ খোন্দকার ও মহাসচিব নির্বাচিত হন মো. শাহেদুল খবির চৌধুরী। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী এ কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা চলতি বছরের জুলাই মাসে। কিন্তু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। গঠনতন্ত্রেে উল্লেখিত বিশেষ অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব না হলে যে বিধান অনুসরণের সুযোগ ছিলো তাও নষ্ট করা হয়েছে পরিকল্পিতভাবে। এছাড়া মহাসচিবসহ কয়েকজন নেতার কিছু বিতর্কিত সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিনিধি পদত্যাগ করেন।
কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, দায়িত্ব গ্রহণের দুই বছর পর বিশেষ অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব না হলে ২ মাস করে দুই দফায় সর্বোচ্চ ৪ মাস নির্বাচন পেছানোর সিদ্ধান্ত কেন্দ্রীয় কমিটি নিতে পারবে। সর্বোচ্চ ৪ মাস উত্তীর্ণ হলে কেন্দ্রীয় কমিটি আপনা আপনি বিলুপ্ত হবে। পরবর্তী ১৫ দিনের মধ্যে সভাপতি প্রাক্তন কেন্দ্রীয় কমিটির সভা আহ্বান করবেন এবং সে সভায় সর্বোচ্চ ২০ সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি গঠন করবেন। আহ্বায়ক কমিটি সর্বোচ্চ ৩ মাসের মধ্যে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করবে। তবে আহ্বায়ক কমিটি গঠনের তারিখ হতে সর্বোচ্চ ৬ মাসের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্পন্ন করবে। এর অন্যথায় সাধারণ সভা আহ্বান করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে। বিশেষ পরিস্থিতিতে সাধারণ সভা করা না গেলে জরুরি সাধারণ সভা আহ্বান করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
সমিতির সর্বশেষ নির্বাচন কমিশনের যুগ্ম-কমিশনার ও মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক খান হাবিবুর রহমান বলেন, সভাপতি চাইলে নির্বাচন কমিশন গঠন করে দিতে পারেন। কমিশন ভোটার তালিকা হালনাগাদ করে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করে দিতে পারে।
বিলুপ্ত কমিটির সভাপতি আই কে সেলিম উল্লাহ খোন্দকার এ বিষয়ে কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।
অন্যদিকে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের পরিবেশ বিরাজ করলেও সমিতিকে বিলুপ্ত করে ব্যাংকে গচ্ছিত সমিতির টাকা ও শিক্ষাবিদ ইনস্টিটিউটের কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি ভাগবাটোয়ারা করার ফন্দি করেছেন সমিতির কতিপয় বিতর্কিত ও সাবেক নেতা। এমন দাবি সমিতির বেশ কয়েকজন তরুণ কর্মকর্তার। তারা আরো দাবি করেন, অবৈধভাবে শিক্ষাবিদ ইনস্টিটিউটের যাবতীয় কাজ দেখভাল শুরু ও গাড়ীগুলো ব্যবহার করছেন একজন সাবেক বিতর্কিত নেতা। সমিতির অধিকাংশ তরুণ সদস্যরা জানেন না শিক্ষাবিদ ইনস্টিটিউট কিভাবে পরিচালিত হয়। সমিতির ফান্ড আর ইনস্টিটিউটের ফান্ডে কত টাকা রয়েছে।