সত্যতা যাচাই না করে তথ্য শেয়ার করেন ৭৬ শতাংশ ব্যবহারকারী: জরিপ

০৭ এপ্রিল ২০২২, ১১:৪৭ AM

© প্রতীকী ছবি

৭৬.১ শতাংশ ব্যবহারকারী সত্যতা যাচাই না করেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তথ্য শেয়ার করছেন। এমনকি তথ্য শেয়ারের পরবর্তী পরিণতি সম্পর্কেও তারা অবগত নয়। সম্প্রতি তথ্য ও প্রযুক্তি অপরাধ বিষয়ে কাজ করা ‌‘সাইবার লাইন’ নামক একটি সেচ্ছাসেবী সংগঠনের করা জরিপের গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে।

গত ২৫ মার্চ ১৬ থেকে ৩০ বছর বয়সী ২ হাজার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীর ওপর এ জরিপ চালানো হয়। বুধবার (৬ এপ্রিল) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।

গবেষণায় তরুণ-তরুণীদের অতিরিক্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার, আসক্তি, কিভাবে সাইবার অপরাধ করছে এবং তারা কতটা অসচেতন তা উঠে এসেছে।

এছাড়া সংগঠনটি বলছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের একটি বড় অংশ ভুল তথ্য প্রচার করার মাধ্যমে সাইবার অপরাধে জড়িয়ে যাচ্ছেন। বর্তমানে সামাজিক, রাজনৈতিক কিংবা ধর্মীয় দাঙ্গার অধিকাংশ উৎস ভুল তথ্য প্রচারের মাধ্যমে হচ্ছে। অধিকাংশ তরুণ-তরুণীরই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কোন তথ্য প্রকাশের পূর্বে এর সত্যতা যাচাই করেন না কিংবা পরিণতি সম্পর্কে তাদের সঠিক ধারণা নেই।

গবেষণার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৫৬ শতাংশ ব্যবহারকারী দৈনিক ৪ ঘন্টার বেশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করেন। ১৬২০ জন ব্যবহারকারীই বলেছেন তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়মিত নানা তথ্য শেয়ার করেন, যাদের ৯৪ শতাংশ-ই শেয়ারকৃত তথ্যের সত্যতা যাচাই করেন না। যা মোট জরিপে অংশগ্রহণকারীর ৭৬.১ শতাংশ। অপর দিকে, মাত্র ৬ শতাংশ ব্যবহারকারী শেয়ারের পূর্বে তথ্যের সত্যতা যাচাই করেন।

ভুল/আংশিক সত্য তথ্য শেয়ার করে বিভিন্নভাবে ৮১ শতাংশ ব্যবহারকারী বিভিন্ন ধরণের সমস্যার সম্মুখীন হয়। বাকি ১৯ শতাংশ সরাসরি কোন সমস্যার সম্মুখীন না হলেও পরোক্ষভাবে সমস্যার সম্মুখীন হয়। এ ছাড়াও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীর ৭৯ শতাংশ নারীই কোনো না কোনভাবে সাইবার অপরাধের স্বীকার হচ্ছে। আত্মপ্রকাশের ভয়ে যাদের মধ্যে অধিকাংশই তা গোপন করে যান।

সাইবার লাইনের তথ্য মতে, নানাভাবে সাইবার অপরাধের শিকার হয়ে ৭৮ শতাংশ ব্যবহারকারী কোন প্রকার সহায়তা পান না। ২২ শতাংশ ব্যবহারকারী সহায়তা পেলেও তা যথাযথ নয় এবং দীর্ঘ প্রক্রিয়া বলে মনে করেন। ৬৮ শতাংশ ব্যবহারকারী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে সম্পূর্ণরুপে অনিরাপদ মনে করেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর নিরাপদ ব্যবহার সম্পর্কে সচেতন থাকলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো নিরাপদ বলে মনে করেন ৩২ শতাংশ ব্যবহারকারী।

সাইবার লাইনের সার্ভে অ্যান্ড অ্যানালাইসিস টিমের প্রধান শাহরিয়ার সিদ্দিকী শাওন বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং ইন্টারনেটের অপব্যবহার তরুণদের মধ্যে প্রায়শই দেখা যাচ্ছে, এমনকি এ সম্পর্কে আমরা সম্পূর্ণরূপে  অসচেতন। যার ফলস্বরূপ আমরা বিভিন্ন ধরণের অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছি এবং অপরাধের শিকারও হচ্ছি। এ সমস্যা থেকে পরিত্রাণ পেতে আমাদের সকলের সচেতনতার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও ইন্টারনেটের নিরাপদ ও যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। সচেতনতা সৃষ্টির জন্য অনলাইন, অফলাইন উভয় ক্ষেত্রে কাজ করা উচিত। ইলেকট্রনিকস এবং প্রিন্ট মিডিয়ার সাহায্যে সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করা গেলে অপরাধপ্রবণতা অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব। এছাড়া কেউ সাইবার অপরাধের শিকার হলে তার জন্য যথাযথ এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে সাইবার এবং আইনি সহায়তার ব্যবস্থা করতে হবে।

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জিতলে সংবিধানে যা যা বদলে যাবে, নতুন যুক্ত হ…
  • ২৬ জানুয়ারি ২০২৬
আজ কুষ্টিয়ায় যাচ্ছেন জামায়াত আমির
  • ২৬ জানুয়ারি ২০২৬
দেড় শতাধিক শিক্ষার্থীদের সাংবাদিকতায় প্রশিক্ষণ দিল কনকসাস
  • ২৬ জানুয়ারি ২০২৬
আ.লীগ নেতাকে ধরতে যাওয়া পুলিশের ওপর হামলা, ৩ এসআই আহত
  • ২৬ জানুয়ারি ২০২৬
রাস্তায় মরা ইঁদুর ফেলা নিয়ে দোকানী-শিক্ষার্থী সংঘর্ষ, আহত ৭
  • ২৬ জানুয়ারি ২০২৬
আজ থেকে শুরু কুবি ভর্তি পরীক্ষার প্রবেশপত্র ডাউনলোড
  • ২৬ জানুয়ারি ২০২৬