বিজিএমইএ সভাপতি রুবানা হক © ফাইল ফটো
অর্থনীতির স্বার্থে দেশের কল-কারখানা চালু করা দরকার বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) সভাপতি রুবানা হক। আজ বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা জানান।
রুবানা হক বলেন, অর্থনীতির স্বার্থে কারখানা চালু করা দরকার। কিন্তু তা শ্রমিকের জীবনের বিনিময়ে নয়। পরিস্থিতির উন্নতি হলেই আমরা করখানা খোলার কথা চিন্তা করতে পারি।
এদিকে করোনা ঝুঁকির মধ্যেই আগামী ২৫ এপ্রিলের পর থেকে গার্মেন্টস কারখানা চালু করতে চান পোশাক শিল্প মালিকরা। যাদের হাতে রপ্তানি আদেশ রয়েছে, তারা কারখনানা চালু করতে চাইছেন। যদিও রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় করোনা সংক্রমণ বাড়তে থাকায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর পুরো দেশকেই ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে ঘোষণা করেছে।
পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) গাইডলাইন ও অন্যান্য দেশের অভিজ্ঞতার আলোকে শ্রমিকদের শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করে কীভাবে কারখানায় উৎপাদন কার্যক্রম চালু করা যায়, আমরা তা ভাবছি।
তিনি বলেন, যেসব ক্রয়াদেশ আমাদের হাতে রয়েছে, তা জাহাজীকরণের জন্য চাপ বাড়ছে। অন্যথায় এসব রপ্তানি আদেশ চীনসহ অন্যদেশে নিয়ে যাবে বলে ব্র্যান্ডগুলো বলে আসছে। এজন্য প্রযোজনে শ্রমিকদের স্বাস্থ্য বীমার বিষয়টিও নিশ্চিত করার কথাও আলোচনায় রয়েছে।
অবশ্য এমন আলোচনার মধ্যেই আজ সন্ধ্যায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর পুরো দেশকেই করোনার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে ঘোষণা দিয়ে মানুষের চলাচলে আরো কড়াকড়ি আরোপ করেছে।
প্রসঙ্গত, মহামারি করোনা ভাইরাসের কারণে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সরকারের ছুটির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিজিএমইএ এবং বিকেএমইএ’র সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলো আগামী ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
শ্রমিক নেত্রী জলি তালুকদার বলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার আগে কারখানা চালু করা হলে শ্রমিকদের স্বাস্থ্য ঝুঁকি আরো বেড়ে যাবে, যা বড়ো বিপদ ডেকে আনতে পারে।