গ্লোবাল গ্রাড শো
© সংগৃহীত
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী শক্তিকে উজ্জীবিত করতে এবং এর মাধ্যমে যুগান্তকারী আবিষ্কারের পথকে উন্মুক্ত অনুষ্ঠিত হয়ে গেল গ্লোবাল গ্রাড শো নামের একটি প্রদর্শনী। দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত হওয়া এই প্রদর্শনীতে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের ১শ’র বেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। আয়োজকদের প্রত্যাশা, এই ধরনের প্রদর্শনীর মাধ্যমে মাঝেমধ্যে এমন কোনো আইডিয়া বের হয়ে আসতে পারে যা বিশ্বের ইতিহাসকে পরিবর্তন করে দিতে পারে। পৃথিবীকে রক্ষায় রাখতে পারে অনন্য ভূমিকা।
২০১৮ সালের ‘গ্লোবাল গ্রাড শো প্রোগ্রেস প্রাইজে’ বিজয়ী হয়েছেন ডিজাইন একাডেমি এইনদোভেনের শিক্ষার্থী মিরজাম ডে ব্রুজিন। ‘গৃহপণ্য জলশূন্য’ করার একটি নকশা তৈরি করেন তিনি। পুনব্যবহারযোগ্য দুটি বোতলকে বিশেষ প্রক্রিয়ায় কাজে লাগিয়ে কীভাবে এটি করা যায় তার নকশাই তিনি তৈরি করেছেন। ‘টোয়েন্টি’ নামের তার এই নকশাটি ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি প্রতিযোগিতায় পুরস্কার জিতেছে। আগামী প্রজন্মের জন্য তৈরি তার এই পরিবেশবান্ধব নকশা অদূর ভবিষ্যতের বাজারে জায়গা করে নেবে।
এই ধরনের প্রদর্শনীর মূল উদ্দেশ্যই হচ্ছে আগামী দিনের উপযোগী বিভিন্ন প্রযুক্তির জন্য তরুণ শিক্ষার্থীদের থেকে নকশা বের করে আনা। পেশা জীবনের বাণিজ্যিক চাপমুক্ত থাকার কারণে এই তরুণদের সামনে সুযোগ রয়েছে সৃষ্টিশীল চিন্তা করার। সমকালীন সমাজ, চিন্তা-ধারার সাথে পরিচিত এই প্রজন্মের প্রতিনিধিরা পরবর্তী প্রজন্মের জন্য এবং জীবন মান উন্নয়নে দারুণ সব উদ্ভাবনী দিয়ে চমকে দিতে পারে। এক্ষেত্রে তারা পরিবেশ পরিস্থিতিকে বোঝার পাশাপাশি চারপাশের বৈচিত্র্য, সমস্যা-সুবিধা সবকিছুকে মাথায় নিয়েই তারা তাদের কাজটি করতে সক্ষম।
আয়োজকরা বলেন, বর্তমান বিশ্ব নেতৃবৃন্দের বেশিরভাগেরই বর্তমান সময়ের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করার মতো যথেষ্ট জ্ঞানের অভাব রয়েছে। কিন্তু নতুন প্রজন্ম এই সব সমস্যাকে বেশ ভালোভাবে বিবেচনায় রেখেই নতুন উদ্ভাবন করার পথ তৈরি করতে পারেন। রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক ক্ষমতার বাইরে থেকেও শুধুমাত্র দায়িত্ববোধের থেকে এসব তরুণ আগামী দিনের প্রয়োজনীয় সব যন্ত্রপাতি তৈরির জন্য মেধাকে কাজে লাগাবে। আর তাদের তৈরি করা নকশা থেকে ধীরে ধীরে বিজ্ঞানীরা তৈরি করবে পৃথিবী রক্ষাকারী সব যুগান্তকারী সব যন্ত্রপাতি কিংবা প্রযুক্তি।