© ফাইল ছবি
ব্যাংক খাতের সবচেয়ে বড় সমস্যা ঋণ খেলাপি। দিন যত যাচ্ছে খেলাপি ঋণের পরিমাণ তাতই বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষ সুবিধা ও ছাড় দেওয়ার পরও এ খাতের ঋণ খেলাপি কোনও ভাবেই কামানো যাচ্ছে না।
এ বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাড়িয়েছে ১ কোটি ৩১ হাজার ৬২১ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। যা পূর্বের তুলনায় ১০ হাজার ৯৫৪ কোটি টাকা বেশি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, গত বছরের (২০২২) একই সময়ে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ১ লাখ ১৩ হাজার ৪৪০ কোটি টাকা। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে খেলাপি বেড়েছে ১৮ হাজার ১৮০ কোটি টাকা। তিন মাসের ব্যবধানে বেড়েছে ১০ হাজার ৯৬৬ কোটি টাকা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, এ বছরের মার্চ প্রান্তিক (জানুয়ারি-মার্চ) শেষে দেশের ব্যাংক খাতের মোট বিতরণকৃত ঋণের পরিমাণ ১৪ লাখ ৯৬ হাজার ৩৪৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি ঋণে পরিণত হয়েছে এক লাখ ৩১ হাজার ৬২০ কোটি ৮০ লাখ টাকা। এটি মোট বিতরণকৃত ঋণের প্রায় ৯ শতাংশ।
সম্প্রতি অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) সম্মেলনে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিভিন্ন উদ্যোগ সত্ত্বেও খেলাপি ঋণ বাড়ছে, যা চ্যালেঞ্জিং এবং চিন্তার কারণ হয়ে উঠছে। ২০২২ সালের ডিসেম্বরে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২০ হাজার ৬৫৬ কোটি টাকা।
কোভিড-১৯ পরবর্তী সময়ে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়েছে, যখন দুর্বল ব্যবসার কারণে ব্যবসায়ীকেরা ঋণের কিস্তি পরিশোধ করা থেকে বিরত ছিল।
মহামারি চলাকালীন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ঋণের নিয়মিত পরিশোধের ওপর একটি স্থগিতাদেশ ঘোষণা করেছিল, যা বিপুল সংখ্যক ঋণ গ্রহীতাকে খেলাপি হতে সাহায্য করেছিল। স্থগিতের সুবিধা প্রত্যাহারের পর, খেলাপি ঋণের পরিমাণ গত বছরের ডিসেম্বরে ১ দশমিক ২০ লাখ কোটি টাকার বেশি বেড়েছে।
বিশিষ্টজনরা বলছেন, ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়ে যাওয়া কোনভাবেই দেশরে জন্য ভাল লক্ষণ নয়। খেলাপি ঋণ কমাতে বাংলাদেশ ব্যাংককে আরও কঠোর হতে হবে। প্রয়োজনে খেলাপি আদায়ে অ্যাকশনে যেতে হবে।