অগ্রণী ব্যাংক
দুর্নীতি-উৎকোচের অভিযোগ রয়েছে দুদকেও
মোহাম্মদ ফজলুল করিম © টিডিসি সম্পাদিত
উচ্চ অদালতের রায় অমান্য করে ২০২৪ সালে কারাদণ্ডের আদেশ পাওয়া এবং জুলাই গণহত্যার মামলার আসামী অগ্রণী ব্যাংক পিএলসির মহাব্যবস্থাপক (জিএম) মোহাম্মদ ফজলুল করিমকে উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগও রয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে তাকে এই পদোন্নতি দেওয়া হয়।
তথ্য যাচাই করে দেখা গেছে, ২০২৫ সালে চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (শেরেবাংলা নগর থানা আমলী) আদালতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় একটি মামলা (সিআর মামলা নং ১৭৬/২০২৫) দায়ের করেন মোছা. তাহমিনা খাতুন। মৃত্যুদণ্ডের আদেশপ্রাপ্ত পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রধান আসামী করে করা এই মামলার ৭০ নম্বর আসামী ফজলুল করিম।
এদিকে মোহাম্মদ ফজলুল করিমের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননা এবং ক্ষমতার অপব্যবহারসহ একাধিক আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। ২০২৪ সালের ২৪ জানুয়ারি হাইকোর্টের একটি একক বেঞ্চ মুন গ্রুপের ঋণসংক্রান্ত একটি মামলায় আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করার কারণে অগ্রণী ব্যাংকের এমডিসহ যে পাঁচ শীর্ষ কর্মকর্তাকে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছিলেন, ফজলুল করিম ছিলেন তাদের অন্যতম। আদালতের আদেশ অমান্য করায় ব্যাংকটির প্রিন্সিপাল শাখার তৎকালীন এই জিএমের সম্পত্তি ক্রোকের নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল। যদিও পরবর্তীতে আপিল বিভাগ এই আদেশ স্থগিত করেন।
এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ ও ঘুষ দাবির অভিযোগও রয়েছে। ২০২২ সালের ১৪ ডিসেম্বর ‘এম আর ট্রেডিং কোম্পানি’র সত্ত্বাধিকারী মিজানুর রহমান দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) ফজলুল করিমের বিরুদ্ধে প্রতারণার মাধ্যমে ৫০ লাখ টাকা আত্মসাৎ ও এক কোটি টাকা উৎকোচ (ঘুষ) দাবির লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। দীর্ঘদিনেও দুদক কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় বিষয়টি হাইকোর্ট পর্যন্ত গড়ায়। পরে ২০২৪ সালের ৪ মার্চ হাইকোর্ট ওই আবেদনটি ৬০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তির জন্য দুদককে কঠোর নির্দেশ দেন।
অগ্রণী ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতিপ্রাপ্ত ফজলুল করিম ১৯৯৬ সালে সিনিয়র অফিসার পদে ব্যাংকিং ক্যারিয়ার শুরু করেন। সাবেক আওয়ামী লীগের সরকারের অর্থমন্ত্রী আবু হেনা মোহাম্মাদ মুস্তফা কামালের (লোটাস কামাল) ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি ছিলেন। এর জেরে লোটাস কামালের সহযোগিতায় ২০২১ সালে উপমহাব্যবস্থাপক থেকে মহাব্যবস্থাপক (জিএম) পদে পদোন্নতি পান তিনি।
বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে জানতে মোহাম্মদ ফজলুল করিমের ব্যবহৃত দুটি মুঠোফোন নম্বরে কল দেওয়া হলেও তা বন্ধ পাওয়া গেছে। একই সাথে হোয়াটসঅ্যাপে ক্ষুদেবার্তা পাঠানো হলেও তার কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।