পে-স্কেল

‘আমাদের কাটছাঁট করে ১৫ হাজার হচ্ছে, আর তাদেরটা ১ লাখ ৪০ থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার’

০৩ জুলাই ২০২৬, ০৮:১৫ AM
পে-স্কেল ও সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির আহ্বায়ক আব্দুল মালেক

পে-স্কেল ও সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির আহ্বায়ক আব্দুল মালেক © টিডিসি সম্পাদিত

নবম পে-স্কেল বাস্তবায়ন হয়েছে গতকাল ১ জুলাই। তবে এখনও গেজেট প্রকাশ করেনি সরকার। এরই মধ্যে শোনা যাচ্ছে, এই পে-স্কেলে আরও কিছু কাটছাঁট হতে যাচ্ছে। এ অবস্থায় নিচের গ্রেডে কাটছাঁট না করে ওপরের গ্রেডে কাটছাঁটের অনুরোধ জানিয়েছেন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির আহ্বায়ক আব্দুল মালেকও এমন কথা বলেছেন।

তিনি বলেন, ২০১৫ সালে আমরা শেষ পে-স্কেল পেয়েছি। আজকে হলো ২০২৬ সাল, মানে ১১ বছর। এর মধ্যে ২০২০-এ আমাদের একটা পে-স্কেল পাওয়ার কথা। ২০২০-এর পরে ২০২৫-এ আরেকটা পে-স্কেল পাওয়ার কথা। ধরেন এখন ৮২৫০ টাকা, সেই স্কেলটা আসছে কিন্তু ৪ হাজার ১০০ টাকা থেকে। সপ্তম পে-স্কেলে ৪ হাজার ১০০ টাকা ছিল, সেটা অষ্টম পে-স্কেলে ২০১৫ সালে ৮ হাজার ২০০ টাকা হয়েছে, ডাবল করে। তাহলে আমরা যদি ২০২০ সালে একটা পে-স্কেল পেতাম, ৮ হাজার ২০০ টাকা বা ৮ হাজার ২৫০ টাকাকে যদি ডাবলও করত, প্রতিবছরই কিন্তু এই নিম্ন গ্রেডে ১৩০ পারসেন্ট, ৪০ পারসেন্ট বৃদ্ধি করা হয়, তা সেক্ষেত্রে আমি ওটা বাদ দিলাম— যদি ডাবলও করা হতো, তাহলে ৮ হাজার ২৫০ টাকার স্কেলটা ২০ সালে কত যেত? ১৬ হাজার ৫০০। এর চাইতে বাড়তেও পারত।

এই কর্মচারী নেতা বলেন, এরপরে ২৫ সালে যদি আমরা আরেকটা পে-স্কেল পেতাম, তাহলে যদি ওই টাকাটাকে ডাবল করা হতো, ১৬ হাজার ৫০০ তাহলে এসে কত হত? প্রায় ৩৩ হাজার টাকা হত। ৩৩ হাজার টাকা হলে আমরা এই ১৩০%, ২৫%, ৩৫% যে বৃদ্ধি করবে সেইটাকে হিসাব করে আমরা দুইটা পে-স্কেলের সমন্বয়ে সর্বনিম্ন ৩৫ হাজার টাকা চেয়েছি।

তিনি বলেন, কিন্তু জাতীয় পে-কমিশন সেই স্কেলটাকে যাচাই-বাছাই করে, পে-কমিশন কিন্তু চুলচেরা বিশ্লেষণ করছে। এই এবারের প্রথম পে-কমিশনে যে কর্মচারী অঙ্গনের যত সংগঠন আছে, সব সংগঠনকে ডেকে তাদের মতামত, মানে মতবিনিময় সভা করে তারা কি চায় কি চায় না, সে জিনিসটা তারা কমিশন নিয়েছে। এরপরে অনলাইনে সাধারণ মানুষেরও মতামত যেটা জরিপ, সেটা নিয়েছে। এরপরে আপনার যে পুলিশ বা ডিফেন্স আর্মিতে যারা আছে তাদের মতামত নিয়েছে, প্রত্যেকটাই কিন্তু আলাদা আলাদাভাবে মতামত নিয়েছে। প্রায় ২০০টা সংগঠন ওই পে-কমিশনে মতবিনিময়ে সবাই অংশ নিয়েছে এবং তাদের মত নিয়েছে। তারপরে সর্বশেষ যারা একেবারে টপ অফ দ্য সার্ভিস, সচিব পর্যায়ে যারা, তাদের নিয়েও পে-কমিশন মতবিনিময় সভা করে তারপরে কিন্তু এই স্কেলটাকে তারা চূড়ান্ত করেছে। 

আরও পড়ুন: ৬৪ জেলার ২৬টিতে নেই পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, সুপারিশ আছে ৬টিতে, দাবি উঠছে বাকিগুলোতেও

সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, তাই আমরা বলব যে এটাকে চুলচেরা বিশ্লেষণ করেই কিন্তু তারা ২০ হাজার টাকায় মত দিয়েছেন এবং সুপারিশ দিয়েছেন। মানে আমরা চেয়েছি ৩৫ হাজার টাকা, সেখান থেকে ১৫ হাজার টাকা কাটছাঁট করে দিয়ে আপনি ২০ হাজার টাকায় নিয়ে আসছেন। আর আমরা সর্বোচ্চটা বলেছিলাম ১:৪ অনুপাতে, মানে আমরা এখন যেটা বেতন পাচ্ছি ২০১৫ সাল অনুযায়ী প্রায় ১:১০ অনুপাতে। আমরা এই বৈষম্য কমিয়ে নিয়ে আসার জন্য ১:৪ অনুপাতে চেয়েছি। সর্বোচ্চ যেটা, সেটা বলেছিলাম ১ লক্ষ ৪০ হাজার, আর নিচেরটা ৩৫ হাজার।

আব্দুল মালেক বলেন, আমাদেরটা আপনি কমালেন, ২০ হাজারে নিয়ে আসলেন। আর উপরে যেটা ১ লক্ষ ৩৫ বা ১ লাখ ৪০ হাজার বলেছি, সেটাকে আপনি আরও ২০ হাজার বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার করলেন। মানে ভাতা ওনারাই খাবে, আমরা খাব না।

এখানেও একটা বৈষম্য তৈরি করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাজার কিন্তু সবার জন্য সমান। তাই না? যে গরিব, তার জন্যও বাজারে গেলে যে দাম; যে ধনী, তার জন্যও বাজারে গেলে দাম একই। দামের কিন্তু কোনো পরিবর্তন নাই। আর এরকমও ব্যবস্থা নাই যে বড়লোকের জন্য একটা বাজার, গরিবের কম বেতন যারা তাদের জন্য আরেকটা বাজার আছে, এরকম নাই। সকলের জন্য সমান, একই বেতন দিয়া বাজারে যায় কিন্তু দ্রব্যমূল্যের দাম সবার জন্য সমান। বেতন সবার জন্য সমান না। তাহলে সেক্ষেত্রে ওনারা আমাদের সেই ৩৫-কে কেটে ২০ হাজারে নিয়ে আসছে।

তিনি বলেন, এখন আবার গুঞ্জন শুনছি যে এখান থেকেও কাটছাঁট করতে পারে। তাহলে ২০ হাজার থেকে যদি আপনি কাট করেন, তাহলে আপনি এর থেকেও কম আসবেন, হয় ১৯ করবেন, না হয় ১৮ করবেন, না হয় ১৪ করবেন, না হলে ১৫ করবেন, তাহলে দিয়েনই না। আপনারাই নেন শুধু।

বেশিরভাগই তো কর্মচারী, তাহলে তারা কি করে বাঁচবে— প্রশ্ন রেখে এই কর্মচারী নেতা বলেন, প্রতিনিয়ত দ্রব্যমূল্য বেড়েই চলেছে, এটার সাফারটা কিন্তু সাধারণ মানুষকেও করতে হচ্ছে। তাই আমরা সরকারের কাছে বিনীতভাবে অনুরোধ করব অন্তত জাতীয় পে-কমিশন যে সুপারিশটা করেছেন ২০ হাজার, সেখান থেকে যেন কাটছাঁট করা না হয়। প্রয়োজনে এখান থেকে বৃদ্ধি করেন। উপরে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা যেটা বলেছেন সেটা দরকার হলে ১ লাখ ৪০-এ নিয়ে আসেন, ১ লাখ ৫০-এ নিয়ে আসেন, সেখান থেকে কমান। নিচ থেকে যদি আপনি আরো কমান তাহলে থাকবে কী? আমরা এটাতে বিচলিত হবই। কর্মচারীরা সেটা আসলে মেনে নেবে না, ভালোভাবে দেখবে না।

বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা কি বাড়তি সুবিধা পাচ্ছে, কড়া জবাব দিলে…
  • ০৩ জুলাই ২০২৬
ঢাবির সাংবাদিকতা-থিয়েটারসহ ৮ বিভাগকে ৩টিতে একীভূতের প্রস্তাব
  • ০৩ জুলাই ২০২৬
প্রভাবশালীদের দাপটে নিজ জমি হারিয়ে রাস্তায় বৃদ্ধা, সুষ্ঠু ত…
  • ০৩ জুলাই ২০২৬
ভোরে কেপ ভার্দের বিপক্ষে মাঠে নামবে আর্জেন্টিনা, একাদশে থাক…
  • ০৩ জুলাই ২০২৬
আর্জেন্টিনার ম্যাচসহ টিভিতে আজকের খেলা
  • ০৩ জুলাই ২০২৬
অফিস সহকারীর গাফিলতিতে এইচএসসি পরীক্ষায় বসতে পারল না ৮ শিক্…
  • ০৩ জুলাই ২০২৬
×
  • Application Deadline
  • JULY 26, 2026
  • Admission Test
  • AUGUST 01, 2026
APPLY
NOW!
UNDERGRADUATE ADMISSION
FALL 2026!
NORTH SOUTH UNIVERSITY
Center of Excellence