শহরে ও গ্রামে সমান গতির ইন্টারনেট দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সরকার © এআই সৃষ্ট ছবি
বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে আইসিটি এবং টেলিযোগাযোগ খাতকে দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে আগামী পাঁচ বছরে এ খাতের অবদান জিডিপির ১-২ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের তুলনায় এ খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী। এ ছাড়া গ্রামে ও শহরে এক জিবিপিএস গতির ইন্টারনেট সরবরাহের পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছে।
২০২৫-২৬ অর্থবছরে এ খাতে বরাদ্দ ছিল ১৬ হাজার ৯৫২ কোটি টাকা। প্রস্থাবিত বাজেট সূত্রে জানা গেছে, আইসিটি, টেলিযোগাযোগ ও বিজ্ঞান-প্রযুক্তি খাতে দেশের সার্বিক উন্নয়ন ও সংস্কার কার্যক্রম শুরু হবে। এতে দেশের সব নাগরিকের জন্য সাশ্রয়ী, নির্ভরযোগ্য ও উচ্চগতির ইন্টারনেট নিশ্চিত করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হবে। প্রথম ১০০ দিনের মধ্যেই দেশের সব বিমানবন্দর, ৭টি রেলওয়ে স্টেশন এবং আন্তঃনগর ট্রেনে বিশ্বমানের উচ্চগতির বিনামূল্যের ইন্টারনেট সেবা চালু করা হবে, যাতে জনগণ সুফল পাবে বলে আশা করা যায়।
এছাড়া গত চার মাসে ৪১ লাখ নতুন ফোরজি মোবাইল সংযোগ এবং ৪ লাখ উচ্চগতির ব্রডব্যান্ড সংযোগ প্রদান করা হয়েছে। সরকার আগামী দুই বছরের মধ্যে দেশের ৯০ শতাংশ জনগোষ্ঠীর কাছে ফাইভজি সেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে মোবাইল অপারেটরসহ সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের নিয়ে কাজ শুরু করেছে।
একই সঙ্গে দেশব্যাপী শহর ও গ্রাম অঞ্চলে ১০০ মেগাবাইট থেকে ১ গিগাবিট প্রতি সেকেন্ড গতির উচ্চগতির ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট নিশ্চিত করার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। মূলত গ্রাম ও শহরের মধ্যে ডিজিটাল ব্যবধান কমানোর লক্ষ্যে এ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার।
আরও পড়ুন: বৃহস্পতিবার কেন ঘোষণা করা হয় বাজেট, জেনে নিন চার কারণ
তথ্য অনুযায়ী, সরকারি ও বেসরকারি সেবা গ্রহণ সহজ ও নিরাপদ করতে এবং নগদবিহীন ডিজিটাল অর্থনীতি নিশ্চিত করতে ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার এবং ‘এক নাগরিক, এক পরিচয়, এক ওয়ালেট’ ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। এছাড়া সেমিকন্ডাক্টর প্রযুক্তি খাতে দেশের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য দেশি ও প্রবাসী প্রযুক্তিবিদ এবং উদ্যোক্তাদের সমন্বয়ে কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
প্রস্থাবিত বাজেট অনুযায়ী, ব্যবসায়ী, প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ও বেসরকারি খাতের অংশীজনদের সঙ্গে সমন্বিত নীতিমালা ও নিয়ন্ত্রক কাঠামো এবং সময়োপযোগী আর্থিক প্রণোদনার মাধ্যমে বাংলাদেশকে একটি শীর্ষস্থানীয় বৈশ্বিক ইলেকট্রনিকস উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে ইতোমধ্যে কাজ শুরু হয়েছে ।