স্বর্ণ © ফাইল ফটো
সাম্প্রতিক বড় দরপতনের পর মূল্যবান ধাতুর বাজারে স্বল্পমেয়াদি ঘুরে দাঁড়ানোর আভাস মিললেও তা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। বিশ্বব্যাপী প্রযুক্তি খাতনির্ভর শেয়ারবাজারে ধস এবং শক্তিশালী মার্কিন ডলারের চাপের ফলে ফের বড় ব্যবধানে কমতে শুরু করেছে স্বর্ণ ও রুপার দাম। বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম ০ দশমিক ৭ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৭৩৫ দশমিক ৯৯ ডলারে নেমে আসে। একই দিনে এপ্রিলে ডেলিভারির জন্য মার্কিন স্বর্ণের ফিউচার দর ২ দশমিক ৮ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৭৫২ দশমিক ৪০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
রুপার বাজারেও বড় দরপতন দেখা গেছে। স্পট সিলভারের দাম ৩ দশমিক ২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৬৮ দশমিক ৯৭ ডলারে নেমে এসেছে। আগের সেশনেই রুপার দাম ১৯ দশমিক ১ শতাংশ পড়ে গিয়েছিল।
বৃহস্পতিবার এমএসসিআইর বৈশ্বিক ইকুইটি সূচক ১ শতাংশের বেশি পড়ে যায়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে বিশাল ব্যয়ের চাপ নিয়ে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ বাড়ায় এই পতন। একই সময়ে দুর্বল শ্রমবাজারের তথ্য প্রকাশের পর মার্কিন ট্রেজারির চাহিদা বেড়েছে, আর পণ্যের বাজারে রুপার দাম আবারও নিম্নমুখী হয়েছে।
মার্কিন ডলারও শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। বৃহস্পতিবার ডলার দুই সপ্তাহের সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছায়, কারণ শেয়ারবাজারে নতুন করে অস্থিরতা দেখা দেয়। মার্কিন শ্রম বিভাগের জব ওপেনিংস অ্যান্ড লেবার টার্নওভার সার্ভের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডিসেম্বরের শেষে চাকরির সুযোগ ৩ লাখ ৮৬ হাজার কমে ৬ দশমিক ৫৪২ মিলিয়নে নেমে এসেছে; যা ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরের পর সর্বনিম্ন।
শ্রমবাজারের এ দুর্বলতা সাধারণত সুদের হার কমানোর পক্ষে যুক্তি দেয়। বিনিয়োগকারীরা আশা করছেন, ২০২৬ সালে অন্তত দুটি ২৫ বেসিস পয়েন্ট সুদ কমানো হবে, যার প্রথমটি জুনে আসতে পারে। কম সুদের হারে স্বর্ণের মতো অ-ফলনশীল সম্পদ সাধারণত বেশি লাভবান হয়।
ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিও বাজারে প্রভাব ফেলছে। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, ইরানের সঙ্গে মোকাবিলায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম পছন্দ কূটনীতি। তিনি উচ্চপর্যায়ের আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খোঁজার চেষ্টা করবেন, তবে প্রয়োজনে সামরিক বিকল্পও বিবেচনায় রাখবেন।
অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও বড় ওঠানামা দেখা গেছে। ২৬ জানুয়ারি সর্বকালের সর্বোচ্চ ২ হাজার ৯১৮ দশমিক ৮০ ডলারে পৌঁছানোর পর স্পট প্লাটিনামের দাম ৩ দশমিক ৬ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ১ হাজার ৯১৬ দশমিক ৪৫ ডলারে নেমেছে। তবে প্যালাডিয়ামের দাম কিছুটা বেড়ে ১ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৬৩৮ দশমিক ২৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে।