আওয়ামী লীগের কর্মসূচীতে মাহবুব সোহেল বাপ্পি ও সোহেল রায়হান। © টিডিসি সম্পাদিত।
আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে জাতীয়তাবাদী ব্যাংকার্স এসোসিয়েশন, বাংলাদেশে (জেবিএবি) থেকে বহিষ্কৃত নেতারা জেবিএবি সোনালী ব্যাংক কমিটি বাতিল করে বিজ্ঞপ্তি দিয়েছেন মঙ্গলবার। এই পদক্ষেপকে অনধিকার চর্চা, নির্লজ্জতা ও বেহেল্লেপনা উল্লেখ করে এর তীব্র নিন্দা, প্রতিবাদ ও ধিক্কার জানিয়েছে জেবিএবির কেন্দ্রীয় কমিটি।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) এক বিবৃতিতে কেন্দ্রীয় কমিটির আহবায়ক ইকবাল হোসেন ও সদস্য সচিব মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক এই প্রতিবাদ জানান।
এতে বলা হয়, জেবিএবি সুগঠিত, সুশৃঙ্খল এবং বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ ধারণকারী আদর্শবাদী একটি সংগঠন। এর নেতৃত্বে রয়েছে সাবেক ছাত্রদলের নীতিবান ও সৎ কিছু ব্যাংক কর্মকর্তা। সৎ, গ্রহণযোগ্য ও সুদৃঢ় নেতৃত্বের কারণে সংগঠনটি ইতোমধ্যে ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট এবং সর্বস্তরের কর্মকর্তা কর্মচারীদের প্রশংসা কুড়িয়েছে।
সংগঠনটি কমিটি করার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ যাচাই-বাছাই করে সাচ্চা জাতীয়তাবাদ ধারণকারীদেরকে কমিটির অন্তর্ভুক্ত করা ও পদ দেয়া হয়েছে উল্লেখ করে এতে আরও বলা হয়, বিগত আওয়ামী ফ্যাসিস্ট ভাবধারার কোন কমিটির সদস্যকে জেবিএবি কমিটির অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। তবে পরিচয় গোপন করে কমিটিতে জায়গা নিলে পর্যায়ক্রমে সবাইকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় জেবিএবি সোনালী ব্যাংক পিএলসি কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সভাপতি মাহবুব সোহেল বাপ্পিকে গেল বছরের ২৬ নভেম্বর এবং সোহেল রায়হানকে ২৫ নভেম্বর সংগঠন থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়।
এই দুইজনই আওয়ামী লীগের আমলে আওয়ামী সমর্থিত স্বাধীনতা ব্যাংকার্স পরিষদ ও বঙ্গবন্ধু পরিষদের ব্যানারে টুঙ্গিপাড়া মাজার জিয়ারতকারী এবং উক্ত ফ্যাসিস্ট সংগঠনের বিভিন্ন দলীয় প্রোগ্রামে স্ব-শরীরে উপস্থিত থেকেছেন। সেসব অনুষ্ঠানের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজেদের প্রোফাইল থেকে গর্বের সাথে প্রকাশ ও প্রচার করেছে। এছাড়া আওয়ামী লীগের বিভিন্ন দলীয় কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন যার অসংখ্য ভিডিও ফুটেজ ও ছবি রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের লেসপেন্সারদের পূনর্বাসন ও তাদের পক্ষে তদবির বাণিজ্য করার ব্যপক অভিযোগও রয়েছে।
এসোসিয়েশন থেকে চিরদিনের জন্য বহিষ্কৃত এমন একজন আওয়ামী লেস্পেন্সার মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) অনধিকার চর্চা, নির্লজ্জতা ও বেহেল্লেপনার অংশ হিসেবে জেবিএবি সোনালী ব্যাংক কমিটি বাতিলের প্রেস রিলিজ দিয়েছে। আমরা এই কাণ্ডজ্ঞানহীন ও অনধিকার চর্চার তীব্র নিন্দা, প্রতিবাদ ও ধিক্কার জানাই।
প্রসঙ্গত, সংগঠনটির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী জেবিএবির যেকোনো কমিটি গঠন, পুনর্গঠন, অনুমোদন কিংবা বাতিলের এখতিয়ার কেন্দ্রীয় কমিটির উপর ন্যস্ত রয়েছে।