সংবাদ সম্মেলনে রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির নেতারা © সংগৃহীত
দেশের রেস্তোরাঁ খাত ছয়টি সংকটের কারণে পিছিয়ে পড়ছে বলে দাবি করেছেন ব্যবসায়ীরা। জ্বালানি সংকট থেকে শুরু করে মূল্যস্ফীতি ও নীতিগত জটিলতায় বিপর্যস্ত এই খাতের সংকট দ্রুত সমাধান না হলে সারা দেশে রেস্তোরাঁ বন্ধ করে রাস্তায় নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছে রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলন এ কথা জানান রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির নেতারা।
তারা বলেন, বর্তমানে রেস্তোরাঁ খাতের সবচেয়ে বড় সংকটগুল হলো তীব্র জ্বালানি সংকট, ট্রেড ইউনিয়নের নামে মালিকদের হয়রানি, মূল্যস্ফীতি ও দ্রব্যমূল্যে দিশেহারা পরিস্থিতি, ব্যবসা পরিচালনায় নেই ওয়ান স্টপ সার্ভিস, নিয়মবহির্ভূত স্ট্রিট ফুডের দৌরাত্ম্য।
এ ছাড়া রেস্তোরাঁ ব্যবসার সংকটে নিরসনে রাজনৈতিক দলগুলোর সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকারও নেই বলে অভিযোগ ব্যবসায়ী নেতাদের।
মালিক সমিতির নেতারা বলেছেন, গত ডিসেম্বর মাস থেকে সারা দেশে এলপিজি গ্যাসের তীব্র সংকট চলছে, যা এখনো পর্যন্ত বর্তমান সরকার কার্যকরভাবে সমাধান করতে পারেনি। বিগত সরকারের আমলে কৃত্রিমভাবে প্রাকৃতিক গ্যাসের সংকট দেখিয়ে রেস্তোরাঁ খাতে পাইপলাইন গ্যাস সংযোগ বন্ধ করা হয়। একই সঙ্গে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ও আমলাদের যোগসাজশে আমদানি করা এলপিজি গ্যাসের ব্যবসা বেসরকারি সিন্ডিকেটের হাতে তুলে দেওয়া হয়, যারা বর্তমানে পুরো বাজার নিয়ন্ত্রণ করে একচেটিয়া ব্যবসা চালাচ্ছে।
সমিতির নেতারা আরও বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পরও এই গ্যাস সিন্ডিকেট ভাঙা সম্ভব হয়নি। বিভিন্ন অজুহাতে নতুন গ্যাস সংযোগ বন্ধ থাকলেও তিতাস বিদ্যমান সংযোগগুলোতেও পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হচ্ছে। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রম বন্ধ রেখে রেস্তোরাঁ খাতসহ সব শিল্প খাতকে পরিকল্পিতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করা হচ্ছে।
তাদের দাবি, অতিরিক্ত দামে এলপিজি কিনে রান্না করতে গিয়ে রেস্তোরাঁগুলোর ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। ফলে খাবারের দাম বাড়াতে বাধ্য হলে গ্রাহক হারাচ্ছেন রেস্তোরাঁ মালিকরা এবং লোকসান বেড়েই চলেছে। মালিক সমিতি অবিলম্বে তিতাসকে কার্যকর করা, গ্যাস অনুসন্ধান বাড়ানো এবং আবাসন ও রেস্তোরাঁ খাতে আবার প্রাকৃতিক গ্যাস সংযোগ চালুর দাবি জানায়, পাশাপাশি অন্য সমস্যাগুলো নিরসনের জোর দাবি জানানো হয়। সব সমস্যা সমাধান না হলে রেস্তোরাঁ বন্ধ করে রাস্তায় নামার হুঁশিয়ারিও দেন ব্যবসায়ীরা।