সেমিনারে উপস্থিত অতিথিবৃন্দ © টিডিসি ফটো
মার্কিন শুল্ক চুক্তির সুবিধা সর্বাধিক করার জন্য বাংলাদেশকে তার বাণিজ্য বাস্তুতন্ত্রের বিভিন্ন দিক মোকাবিলা করে একটি বিস্তৃত কৌশল গ্রহণ করতে হবে।
বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) আয়োজিত “Bangladesh-US Tariff Deal: How to Optimise Trade Benefit” শীর্ষক সেমিনারে আলোচকরা এ কথা বলেন। সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরী এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবুর রহমান।
ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরী বলেন, নতুন আরোপিত মার্কিন পারস্পরিক শুল্ক অনেক পোশাক ক্রেতাকে বাংলাদেশে স্থানান্তরিত করবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে অন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো। সুবিধাগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে আসবে না জানিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশের উৎপাদনশীল ক্ষমতা বৃদ্ধি করা, অর্থনীতিতে বৈচিত্র্য আনা এবং ব্যবসায়িক ব্যয় কমানো উচিত। সরকারের সাম্প্রতিক উদ্যোগের কথা তুলে ধরে আনিসুজ্জামান বলেন, যেখানে ব্যবসার জন্য একটি একক প্ল্যাটফর্ম থেকে প্রয়োজনীয় সব লাইসেন্স এবং সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়েছে।
সেমিনারে আলোচকবৃন্দ বলেন, আলোচনার মাধ্যমে ১ আগস্ট থেকে শুল্ক ২০ শতাংশে কমাতে সফল হয়েছে বাংলাদেশ। পারস্পরিক শুল্ক ৩৫ শতাংশ থেকে ২০ শতাংশে কমানোকে বাংলাদেশের জন্য একটি ঐতিহাসিক কূটনৈতিক বিজয়। বাংলাদেশের পারস্পরিক শুল্ক হার প্রতিযোগী ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া, পাকিস্তান এবং শ্রীলঙ্কার অনুরূপ। এছাড়া মিয়ানমার ও ভারতের মতো কিছু প্রতিবেশীর তুলনায় অনেক কম।
বক্তারা বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ বাজার, বিশেষ করে পোশাক শিল্পের জন্য এই চুক্তি কার্যকরভাবে ব্যবহার করা হলে বাণিজ্য সম্পর্ক সম্প্রসারণে বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এই শুল্ক চুক্তির সুবিধা বৃদ্ধির জন্য বাংলাদেশকে তার বাণিজ্য বাস্তুতন্ত্রের বিভিন্ন দিক মোকাবিলা করে একটি বিস্তৃত কৌশল গ্রহণ করতে হবে।
বিআইআইএসএস-র গবেষণা কর্মকর্তা মো. রাফিদ আবরার মিঞা মনে করেন, বাংলাদেশকে সরবরাহের সক্ষমতা জোরদার করতে হবে এবং সম্ভাব্য সুযোগগুলো বাস্তবায়নে বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সংস্কার করতে হবে। তিনি যুক্তি দেন, বাণিজ্য সুবিধার জন্য বিদ্যমান একক প্ল্যাটফর্ম পরিষেবার মাধ্যমে পরিচালনার সময় কমে ১ ঘণ্টায় দাঁড়িয়েছে, যার মাধ্যমে বিদেশী বিনিয়োগকারীরা উৎসাহ পাচ্ছেন। তবে, ডাচ ডিজিজ সিনড্রোম (একটি অর্থনৈতিক পরিস্থিতি যেখানে কোনো দেশের অর্থনীতিতে নির্দিষ্ট খাতে দ্রুত উন্নতি হলে, তার ফলে অন্য খাতের পতন ঘটে, এবং দেশের মুদ্রা শক্তিশালী হয়ে অন্যান্য খাতের প্রতিযোগিতামূলকতা নষ্ট করে দেয়) এড়াতে এবং বাংলাদেশের বাণিজ্য বৈচিত্র্যময় করার জন্য চামড়া ও ওষুধ খাতকে শক্তিশালী করার জন্য জোরালো পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
বিআইআইএসএস-এর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল ইফতেখার আনিসের সভাপতিত্বে সেমিনারে তিনটি প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করা হয়। বিআইআইএসএস-র গবেষণা পরিচালক ড. মাহফুজ কবির, ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস এগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজি (আইইউবিএটি) অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. গোলাম রসুল এবং বিজিএমইএ-র সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ইনামুল হক খান প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন।