ভরিতে ১ হাজার টাকা কর দিয়ে সোনা বৈধ করার সুযোগ চান ব্যবসায়ীরা

১৫ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:৪১ AM
রাজধানীর আগারগাঁওয়ে রাজস্ব ভবনে অনুষ্ঠিত সভায়

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে রাজস্ব ভবনে অনুষ্ঠিত সভায় © সংগৃহীত

ঘোষণার বাইরে থাকা সোনা সাদা করার সুযোগ দিতে সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন সোনা ব্যবসায়ীরা। বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতির (বাজুস) নেতারা জানিয়েছেন, আগের সরকার ভরিপ্রতি এক হাজার টাকা কর দিয়ে সোনা সাদা করার যে সুযোগ দিয়েছিল, তখন অনেক ব্যবসায়ী তা নিতে পারেননি। তাই নতুন করে আবার সেই সুবিধা চালুর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

একই সঙ্গে সোনা আমদানির নীতিমালা সহজ করা এবং লাইসেন্স উন্মুক্ত করার দাবিও জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। বৈধভাবে সোনা আমদানির সুযোগ তৈরি হলে চোরাচালানের অভিযোগ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব হবে বলেও প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তারা।

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) আয়োজিত ‘মিট দ্য বিজনেস’ শীর্ষক এক অংশীজন সভায় এসব দাবি তুলে ধরেন সোনা ব্যবসায়ীরা। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে রাজস্ব ভবনে অনুষ্ঠিত সভায় এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খানের সভাপতিত্বে বাজুসের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

সভায় বাজুস সভাপতি এনামুল হক খান দোলন বলেন, দেশে সোনা উৎপাদন না হলেও বিপুল পরিমাণ সোনা মজুত রয়েছে। এর আগে সরকার ভরিপ্রতি এক হাজার টাকা কর দিয়ে সোনা সাদা করার সুযোগ দিয়েছিল। আবার সে ধরনের সুযোগ দেওয়া যেতে পারে বলে তিনি মত দেন।

সোনার দাম বাড়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দুবাই থেকে আমদানি করা সোনায় ভ্যাট পরিশোধের পর ভরিতে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকার পার্থক্য তৈরি হয়। এত বেশি দামে দেশে সোনা কিনতে না চাওয়ায় অনেক ক্রেতা বিদেশ থেকেই সোনা এনে থাকেন। তিনি আরও বলেন, আমদানির সময় ৫ শতাংশ ও বিক্রির সময় ৫ শতাংশ ভ্যাট দিতে হয়, যেখানে ভারতে ভ্যাট মাত্র ৩ শতাংশ। ফলে ভারতীয় ভিসা চালু হলে দেশের বাজারে ক্রেতা কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ফেন্সি জুয়েলার্সের মালিক সমিত ঘোষ বলেন, পারিবারিকভাবে ৫০–৬০ বছরের ব্যবসা করলেও আবেদন করার পরও লাইসেন্স পাননি তারা। তিনি অভিযোগ করেন, ব্যবসায়ীরা লাইসেন্স না পেলেও অন্য পেশার লোকজন লাইসেন্স পেয়েছেন। সরকারকে কর দিয়ে বৈধভাবে ব্যবসা করার সুযোগ চান বলেও জানান তিনি।

বাজুসের পরামর্শক স্নেহাশীষ বড়ুয়া বলেন, সোনার ক্ষেত্রে সোর্সিং বা সংগ্রহ বড় সমস্যা। অনেক দেশ সরকারি পর্যায়ে চুক্তির মাধ্যমে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) থেকে সোনা সংগ্রহ করে থাকে। বাংলাদেশও এমন চুক্তির সুযোগ নিতে পারে।

স্বর্ণশিল্পী উত্তম বণিক বলেন, দেশে সোনা সংগ্রহের কোনো মানদণ্ড নেই। খোলাবাজার থেকে সোনা সংগ্রহের সুযোগ থাকলে সরকারও রাজস্ব পেত। এ জন্য একটি ব্যাংককে দায়িত্ব দেওয়া যেতে পারে, যেখান থেকে সবাই সোনা সংগ্রহ করতে পারবে—ভারতেও এমন ব্যবস্থা রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

বাজুসের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি গুলজার আহমেদ বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক নিজে সোনা আমদানি করলে ব্যবসায়ীরা সেখান থেকে চাহিদা অনুযায়ী নিতে পারতেন। বর্তমানে তাঁতীবাজার থেকে সোনা সংগ্রহ করলে কোনো কাগজপত্র পাওয়া যায় না বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ব্যবসায়ীদের সমস্যার সমাধানে আশ্বাস দিয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান বলেন, সোনা সাদা করার সুযোগ দেওয়া একটি বড় নীতিগত সিদ্ধান্ত, যা সংসদের মাধ্যমে হতে পারে। এনবিআরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সমস্যাগুলোর সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি লাইসেন্স ইস্যুতে বাংলাদেশ ব্যাংক এবং আমদানি নীতিমালা বিষয়ে বাণিজ্য উপদেষ্টা ও সচিবের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন তিনি।

সভায় বাজুসের সদস্যসহ বিভিন্ন এলাকার স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা উপস্থিত ছিলেন।

হাসপাতালে চিকিৎসকদের ওপর ছাত্রদলের ‘হামলার’ প্রতিবাদ শিবিরের
  • ২৪ জুন ২০২৬
সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় জামায়াতের ৪ সদস্য বহিষ্কার
  • ২৪ জুন ২০২৬
স্কলারশিপে স্নাতকের সুযোগ কানাডায়, করুন আবেদন
  • ২৪ জুন ২০২৬
সরকারিকরণ হচ্ছে বরিশালের শহীদ জিয়াউর রহমান ডিগ্রি কলেজ
  • ২৪ জুন ২০২৬
কাল ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না দেশের যেসব এলাকায়
  • ২৪ জুন ২০২৬
অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন পদে চাকরি, আবেদন ১৫ জুলাই পর…
  • ২৪ জুন ২০২৬