সংলাপে উপস্থিত অতিথিবৃন্দ © সংগৃহীত
“পোর্ট ও লজিস্টিকস ম্যানেজমেন্ট” বিষয়ক সংলাপ করেছে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচ্যাম)। সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) দ্য ওয়েস্টিন ঢাকাতে এই সংলাপের আয়োজন করা হয়। এতে অতিথি বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান এবং এলিকট ড্রেজ এন্টারপ্রাইজ, এলএলসির ব্যবসা উন্নয়ন পরিচালক ফিলিপ গ্রভ।
সংলাপের উদ্বোধনী বক্তব্যে অ্যামচ্যাম বাংলাদেশের সভাপতি সৈয়দ এরশাদ আহমেদ বাংলাদেশের লজিস্টিকস খাতের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এই খাত প্রায় ৭০ লাখেরও বেশি মানুষকে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করেছে। এছাড়া মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ২০ শতাংশ অবদান রাখছে। এত বড় পরিসরের খাত হওয়া সত্ত্বেও বিশ্বব্যাপী সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান দুর্বল, বিশেষ করে কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স ও অবকাঠামোতে স্কোর ২.৩।
২০২৪ সালে প্রণীত লজিস্টিকস নীতিমালা এখনও বাস্তবায়িত হয়নি উল্লেখ করে তিনি প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে অংশীজনদের সমন্বয়, কার্যকর লজিস্টিকস কৌশল এবং নীতিমালার প্রয়োগের আহ্বান জানান, যাতে খাতটির পূর্ণ সম্ভাবনা উন্মোচিত হয়।
এলিকট ড্রেজ এন্টারপ্রাইজ, এলএলসি, অ্যামচ্যাম বাংলাদেশ, যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস এবং অনুষ্ঠানের স্পনসরদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ফিলিপ গ্রভ। বাংলাদেশের সঙ্গে নিজের ১৬ বছরের ব্যবসায়িক সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে তিনি যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ বাণিজ্য অংশীদারত্বের ক্রমবর্ধমান গুরুত্ব এবং লজিস্টিকস খাতে দৃশ্যমানতা (পণ্য, খরচ ও তথ্যের রিয়েল-টাইম ট্র্যাকিং) এর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। পাশাপাশি ক্লাউড-ভিত্তিক ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-চালিত প্রযুক্তির মাধ্যমে লজিস্টিকস দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেন। এ সময় বাংলাদেশি অংশীজনদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি সরবরাহকারীদের সংযোগ স্থাপনে আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি।
পরে অ্যামচ্যাম বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক চৌধুরী কায়সার মোহাম্মদ রিয়াদের নেতৃত্বে অংশীজনদের সঙ্গে একটি কেন্দ্রিক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানি সম্ভাবনা বৃদ্ধিতে পোর্ট ও লজিস্টিকস ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন, এই খাতে বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, বিদ্যমান মার্কিন বিনিয়োগকারীদের জন্য ব্যবসা পরিবেশ শক্তিশালীকরণ এবং বাংলাদেশের পোর্ট ও লজিস্টিকস খাতের চ্যালেঞ্জ এবং সম্ভাবনা নিয়ে মতবিনিময় হয়।
সংলাপে রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর দেশের ৯৬ শতাংশ বাণিজ্য এবং ৯৮ শতাংশ কনটেইনার পরিচালনা করে। অতিরিক্ত নির্ভরতা কমাতে, জাইকা-সমর্থিত একটি জাতীয় পোর্ট নীতিমালা হচ্ছে, যা বছরের শেষ দিকে প্রকাশ করা হতে পারে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ই-গেট, রিয়েল-টাইম ট্র্যাকিং এবং একটি বিশেষ অ্যাপ্লিকেশনের মতো ডিজিটাল উন্নয়ন। বৈশ্বিক অপারেটরদের সঙ্গে কৌশলগত প্রকল্প ও অংশীদারিত্বও চলমান রয়েছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন সোহাইল হাসান, মেডিটেরেনিয়ান শিপিং কোম্পানি (এমএসসি) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও কান্ট্রি হেড প্রকৌশলী হারুন-উর-রশীদ, জনাব ইয়াছের রিজভী, সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট লিমিটেড ও বাংলাদেশ ইনল্যান্ড কন্টেইনার ডিপোর্টস অ্যাসোসিয়েশন প্রতিনিধি ইয়াছের রিজভী, কনভেয়র লজিস্টিকসের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবং বাংলাদেশ ফ্রেইট ফরওয়ার্ডার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি কবির আহমেদ প্রমুখ।