এমপিওভুক্ত শিক্ষক © টিডিসি সম্পাদিত
দীর্ঘদিন ধরে অবসর সুবিধা ও কল্যাণ ট্রাস্টের পাওনা না পাওয়া এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের অর্থ বিতরণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আগামী ১৫ আগস্ট দেশের ৬৪ জেলায় একযোগে এ কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এ জন্য সরকার ২ হাজার কোটি টাকার বিশেষ থোক বরাদ্দ দিচ্ছে। এর আওতায় অবসর সুবিধা বোর্ডের প্রায় ৭০ হাজার ১১৫ জন এবং কল্যাণ ট্রাস্টের প্রায় ৪৪ হাজার শিক্ষক-কর্মচারী অর্থ পাবেন। সব মিলিয়ে প্রায় ১ লাখ ১৪ হাজার অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারী এ ধাপে সুবিধা পাবেন।
এবার প্রথমবারের মতো আইবাস প্লাস প্লাস সফটওয়্যারের মাধ্যমে সরাসরি উপকারভোগীদের ব্যাংক হিসাবে টাকা পাঠানো হবে। ফলে অর্থ পেতে দালাল বা মধ্যস্বত্বভোগীর কাছে যাওয়ার প্রয়োজন হবে না। অবসর সুবিধা বোর্ডের আওতায় ২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত অবসরে যাওয়া প্রায় ৭০ হাজার ১১৫ জনের আবেদন নিষ্পত্তির পরিকল্পনা রয়েছে। এ জন্য প্রয়োজন হবে প্রায় ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। চাকরিকালে মূল বেতনের ৬ শতাংশ চাঁদার ভিত্তিতে অবসর সুবিধা নির্ধারণ করা হয়। একজন সর্বোচ্চ প্রায় ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত পেতে পারেন।
অন্যদিকে, কল্যাণ ট্রাস্টে ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত জমা হওয়া প্রায় ৪৪ হাজার আবেদন নিষ্পত্তি করা হবে। এ জন্য প্রয়োজন হবে প্রায় ৬০০ কোটি টাকা। মূল বেতনের ৪ শতাংশ চাঁদার ভিত্তিতে কল্যাণ সুবিধা দেওয়া হয়। এতে একজন সর্বোচ্চ প্রায় আড়াই লাখ এবং সর্বনিম্ন প্রায় ৫০ হাজার টাকা পেতে পারেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, অবসর সুবিধা বোর্ড ও কল্যাণ ট্রাস্টে বর্তমানে ১ লাখ ১৪ হাজারের বেশি আবেদন রয়েছে। সব আবেদন নিষ্পত্তিতে প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন। এর মধ্যে অবসর সুবিধা বোর্ডে প্রায় ৯ হাজার কোটি এবং কল্যাণ ট্রাস্টে ৩ হাজার কোটি টাকার বেশি প্রয়োজন হবে। ফলে সরকারের ২ হাজার কোটি টাকার বরাদ্দে বড় একটি অংশের পাওনা পরিশোধ করা সম্ভব হলেও সব আবেদন একসঙ্গে নিষ্পত্তি হচ্ছে না। বাকি আবেদনকারীদের অর্থ পরিশোধে ভবিষ্যতে আরও অর্থের প্রয়োজন হবে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী ১৩ আগস্ট সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরবেন শিক্ষামন্ত্রী। এরপর ১৫ আগস্ট দেশের ৬৪ জেলায় একযোগে অর্থ বিতরণ কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
দীর্ঘদিনের পাওনা পরিশোধে এ উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে অবশিষ্ট শিক্ষক-কর্মচারীরা কবে তাদের পাওনা পাবেন, তা এখনো অনিশ্চিত।