ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
© লোগো
প্রাণঘাতী নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণের ফলে বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) ক্লাস-পরীক্ষা অনির্দিষ্টকালের বন্ধ রয়েছে। এ কারণে যে একাডেমিক ক্ষতি হয়েছে, তা পুষিয়ে নিতে অন্যান্য ছুটি কমানোর পরিকল্পনা করছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
তাছাড়া পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে অতিরিক্ত ক্লাসের ব্যবস্থা করার বিষয়েও চিন্তা করছে তারা। এসব বিষয়কে সামনে রেখে আজ সোমবার উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বিভিন্ন অনুষদের ডিনদের নিয়ে এক বৈঠকে বসবেন।
দেশে গত ৮ মার্চ প্রথমবারের মতো করোনাভাইরাস শনাক্ত হওয়ার খবর ১৮ মার্চ থেকে দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অনির্দ্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখে সরকার। এসময় বন্ধ হয় ঢাবি ক্যাম্পাস। জানা গেছে, চলমান পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে একাডেমিক কার্যক্রম পুনরায় শুরু হচ্ছে না। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ক্লাস-পরীক্ষা চালু হবে।
বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও পরিবেশ বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক এএসএম মাকসুদ কামাল বলেন, আমরা ছুটি কমিয়ে আনা, সাপ্তাহিক ছুটিতে (শুক্র ও শনিবার) ক্লাস নেওয়া এবং বিশ্ববিদ্যালয় পুনরায় চালু হওয়ার পরে অতিরিক্ত ক্লাসের ব্যবস্থা করার কথা ভাবছি।’
অনলাইন ক্লাস সম্পর্কে তিনি জানান, তারা একটি সমীক্ষা চালাচ্ছেন এটা জানতে যে, শিক্ষার্থীদের কাছে প্রয়োজনীয় গেজেট, ইন্টারনেটের সহজলভ্যতা এবং ইন্টারনেট কেনার আর্থিক সক্ষমতা আছে কী না। আগামীকাল সোমবার এ সমীক্ষার ফলাফল জানতে পারবেন বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ হলো অনলাইনে বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীর সঙ্গে শিক্ষকদের সংযুক্ত করা। এ ছাড়া আমাদের কিছু শিক্ষকও অনলাইনে ক্লাস নিতে অভ্যস্ত নন। আমরা সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুসরণ করে সিদ্ধান্ত নেব।
তিনি আরও জানান, তারা সমীক্ষার সময় শিক্ষার্থীদের কাছে তাদের আর্থিক এবং মানসিক অবস্থা সম্পর্কে প্রশ্ন করছেন। যাতে প্রয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয় যে কাউকে সহায়তা প্রদান করতে পারে।
করোনা পরিস্থিতি খুব শিগগির উন্নতি না হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সেশনজটের মুখে সম্মুখীন হতে পারে বলে জানান সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম। তিনি বলেন, একাডেমিক ক্ষতি কমানোর জন্য আমরা ফেসবুক গ্রুপের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের হ্যান্ডনোট এবং অন্যান্য কোর্স উপকরণ সরবরাহ করতে পারি। এগুলো তাদের পড়াশোনার মধ্যে রাখতে সহায়তা করতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয় পুনরায় চালু হওয়ার পরে ক্লাসের সংখ্যা বাড়ানো হবে।
তিনি জানান, কোভিড-১৯ পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় একাডেমিক কার্যক্রম পুনরায় শুরু করবে না।