পাহাড়ের চূড়া থেকে পড়ে বাবা-মা ও তরুণের মৃত্যু © সংগৃহীত
নতুন কেনা আইফোনের কিস্তি মেটানো নিয়ে পরিবারের সঙ্গে অনুযোগ-অভিযোগ চলছিল ১৮ বছর বয়সী তরুণ কুণালের। সেই বিবাদের জের ধরেই শুক্রবার সকাল দশটা নাগাদ ভারতের মহারাষ্ট্রের ছত্রপতি সম্ভাজিনগরের কোহদিয়া ডোঙ্গার পাহাড়ের চরম ঝুঁকিপূর্ণ চূড়ায় উঠে যান তিনি। ছেলের এই বিপজ্জনক পদক্ষেপে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন ৪৮ বছর বয়সী বাবা মুরলীধর চান্দগুড়ে ও মা সঙ্গীতা চান্দগুড়ে। সন্তানকে যেকোনো মূল্যে নিরাপদে ফিরিয়ে আনতে স্থানীয়দের সঙ্গে নিয়ে তাঁরাও ছুটে যান পাহাড়ের চূড়ায়।
দীর্ঘ তিন ঘণ্টা ধরে চলে সন্তানকে বুঝিয়ে নিচে নামিয়ে আনার আকুল চেষ্টা। অবশেষে বাবা মুরলীধর কুণালের কাছে পৌঁছে তাঁকে ধরে খাদের কিনারা থেকে টেনে পেছনের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে আনার চেষ্টা করেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, টানাটানির একপর্যায়ে দুজনই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে প্রায় ২৫০ ফুট গভীর খাদের নিচে তলিয়ে যান। চোখের সামনে চোখের পলকে স্বামী ও সন্তানের এমন ভয়ঙ্কর পতন দেখে দিশেহারা হয়ে পড়েন সঙ্গীতা। তীব্র শোক আর বাকরুদ্ধ মুহূর্তের মধ্যেই তিনি নিজেও পাহাড়ের ওপর থেকে ঝাঁপ দেন। মর্মান্তিক এই ঘটনায় একই পরিবারের তিনজনেরই ঘটনাস্থলে মৃত্যু হয়।
হৃদয়বিদারক এই ঘটনার ঠিক আগের দিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও পোস্ট করেছিলেন সঙ্গীতা। সেখানে আত্মীয়দের ওপর নিজের জমানো ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি বলেন, ‘তারা বিপদের দিনে তাদের ভাইয়ের পাশে দাঁড়ায় না, ভাইয়ের কষ্ট বোঝার চেষ্টা করে না। তারা ভাবিকেও একটু বোঝার চেষ্টা করে না। বরং যখন কোনো ভাইয়ের সন্তান মারা যায়, তখন তারা পাশে না দাঁড়িয়ে উল্টো ভাই ও ভাবিকে গালিগালাজ করে। শেষ পর্যন্ত তারা এসে শুধু সম্পত্তি দখল করতে চায়।’
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কুণাল কয়েক দিন ধরেই আইফোনের কিস্তির টাকা দেওয়ার জন্য বাবা-মায়ের কাছে চাপ দিচ্ছিলেন। আরও জানা যায়, গত বছরও তিনি আত্মহত্যার উদ্দেশ্যে একই পাহাড়ি চূড়ায় উঠেছিলেন, তবে সেবার পুলিশ ও স্থানীয়রা সময়মতো তাঁকে বুঝিয়ে নিরাপদে নামিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছিল। কিন্তু এবার আর শেষ রক্ষা হলো না; আইফোনের সামান্য কিস্তির জের ধরে ঝরে গেল একটি পুরো পরিবারের তিনটি তাজা প্রাণ।